
আনোয়ার সোহাগ, ঢাকা
আনোয়ার সোহাগ, ঢাকা
সকল লেখা

মেসি নেই, গল্প আছে
শেষবার যখন মনুমেন্তালের ঘাস ছুঁয়ে ধীরে ধীরে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন লিওনেল মেসি, মনে হচ্ছিল আর্জেন্টিনার দুই দশকের এক সোনালি বিকেল মাঠ ছেড়ে যাচ্ছে। গ্যালারি তখনো তাঁর নামে কাঁপছে, চোখে পানি নিয়ে তিনি হাত নেড়ে বিদায় জানাচ্ছেন, আর ১০ নম্বর জার্সির আকাশি-সাদা রংটি যেন সেই মুহূর্তে আরও গাঢ় হয়ে উঠেছে।

‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলা সবচেয়ে বড় অর্জন’
বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে এর আগেও বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার দ্যুতি ছড়িয়েছেন। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন ২০১৪ বিশ্বকাপ খেলা মাইকেল বাবাতুন্দে। নাইজেরিয়ান মিডফিল্ডারের নতুন ঠিকানা এখন আবাহনী। বিশ্বকাপ, লিওনেল মেসি এবং নিজের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনোয়ার সোহাগ

প্রবাসী খেলোয়াড়দের স্থানীয়দের চেয়ে ভালো হতে হবে
আসিয়ান কাপ খেলতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে বাংলাদেশ দলের। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের চেয়ে এগিয়ে থাকা ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দলের সঙ্গে গ্রুপপর্বে খেলবে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের জন্য দল নির্বাচন এবং নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ টমাস ডুলি। সাক্ষাৎকার নিয়েছে

সমুদ্রই ফাতিমার স্বপ্নের সিঁড়ি
সেদিনের সেই কৌতূহলই ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে স্বপ্নে। যা তাকে এখন নিয়ে যাচ্ছে জাপানে। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হয়ে সার্ফিংয়ে অংশ নেবে ফাতিমা। মাল্টি ইভেন্টের গেমসে প্রথম নারী সার্ফার হিসেবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে কক্সবাজারের এই কিশোরী।

স্রোতের বিপরীতে হেঁটে স্পেনের বিশ্বজয়ের নায়ক তোরেস
কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল তোরেসকে এনে দিল অমরত্ব। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে যখন পুরো স্টেডিয়াম স্নায়ুচাপে কাঁপছিল, ঠিক তখনই জ্বলে উঠলেন তিনি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ৩৭ সেকেন্ডের মাথায় পেদ্রো পোরোর দূরপাল্লার ক্রস থেকে নি

পোরোর জন্য একটি সুযোগই যথেষ্ট
নায়ক হওয়ার জন্য পেদ্রো পোরোর নাম কেউ আগে থেকে লিখে রাখেনি। এমন মঞ্চে আলোটা সাধারণত ফরোয়ার্ডদের জন্যই তোলা থাকে। গোল করলে তাঁদের নিয়ে কথা হয়, ম্যাচ জিতলে তাঁদের মুখই ছাপা হয় পরদিনের পত্রিকায়। রাইটব্যাকের কাজ বরং উল্টো; তাঁদের পারফরম্যান্সে পূর্ণতা মেলে তখনই, যখন আলাদা করে কাউকে কথা বলতে হয় না।

শৈশবের বইঠায় বিশ্বকাপে হালান্ডদের জয়গান
২৮ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপে ফিরেছে নরওয়ে। আর ফিরেই বিশ্বকাপের ডার্ক হর্সরূপে ধরা দিয়ে তারা এখন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ত্রাস। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে চূর্ণ করে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা কিংবা বাছাইপর্বের সব কটি ম্যাচ জিতে ইতালির মতো দলকে উড়িয়ে দেওয়া...

অসম্ভবকে সম্ভব করেন হালান্ড
সবুজ গালিচায় তিনি যখন বল নিয়ে ছোটেন, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বুকে তখন অবধারিতভাবেই কাঁপন ধরে। শরীরী শক্তি, অতিমানবীয় গতি আর গোলপোস্টের সামনে বরফশীতল মানসিকতা—সব মিলিয়ে আর্লিং হালান্ড যেন আধুনিক ফুটবলের এক নিখুঁত বিজ্ঞাপন।

হৃদয় জিতেছে কেপ ভার্দে
মায়ামির রাতটা শেষ হয়েছিল আর্জেন্টিনার উল্লাসে। গ্যালারিজুড়ে তখন আকাশি-সাদা পতাকার ঢেউ, মেসির নামধ্বনি আর শেষ ষোলো নিশ্চিত করার আনন্দ। কিন্তু মাঠের এক কোণে অন্য এক দৃশ্য ফুটে উঠছিল। চোখে জল নিয়ে মাটিতে বসে ছিলেন কেপ ভার্দের ফুটবলাররা।

এক ‘অলৌকিক জাদুকর’ মদরিচের সমাপ্তি
সব বিদায়ের শব্দ এক নয়। কেউ বিদায় নেয় করতালির মধ্যে, কেউ ট্রফি হাতে। আবার কিছু বিদায় আসে নীরবে চোখের কোণে জমে থাকা জল, দীর্ঘশ্বাস আর অপূর্ণতার ভার নিয়ে। লুকা মদরিচের বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ হওয়ার মুহূর্তটি ছিল ঠিক তেমনই।

ইংল্যান্ড সংকটে পড়লেই সমাধান হ্যারি কেইন
হতাশা আর গৌরবের ব্যবধান কতটুকু? হ্যারি কেইনকে জিজ্ঞেস করলে উত্তরটা হবে—মাত্র ১১ মিনিট। আটলান্টায় তখন ইংলিশ সমর্থকদের চোখে অন্ধকার। ডিআর কঙ্গোর কাছে ১-০ গোলে পিছিয়ে বিশ্বসেরা তারকায় ঠাসা ইংল্যান্ড দাঁড়িয়ে ছিল আরেকটি অপ্রত্যাশিত বিদায়ের সামনে।

রোনালদো-মদরিচের শেষের লড়াই
রিয়াল মাদ্রিদের সেই সোনালি দিনগুলোর কথা মনে আছে? যখন সাদা জার্সিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ উঁচিয়ে ধরেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর লুকা মদরিচ। সময়ের নিয়মে দুজনেই এখন ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে, কিন্তু নিজ নিজ দেশের ফুটবলে এখনো তাঁরা কতটা অপরিহার্য, টরন্টোর ম্যাচের আগে ফুটবল...

আড়ালের নায়ক গিমারেস
হিউস্টনের গ্যালারিতে তখন রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা। জাপানের গড়া সেই দুর্ভেদ্য নীল দেয়ালে বারবার আছড়ে পড়ছে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন। ম্যাচের ভাগ্য যখন পেন্ডুলামের মতো দুলছে, ঠিক তখনই যেন সময় থমকে দাঁড়াল। বল পেয়ে প্রথমে নিজেই শট নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন ব্রুনো গিমারেস। কিন্তু সেকেন্ডের ভগ্নাংশে...

কানাডার নায়ক এক ‘ফ্যামিলি ম্যান’
ঘড়িতে ঠিক কত মিনিট চলছে, মাঠ থেকে সেটা আন্দাজ করাও মুশকিল ছিল স্টিফেন ইউস্তাকিওর জন্য। মাঝেমধ্যে গ্যালারির দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছিলেন, খেলার আর কতটুকু সময় বাকি। দক্ষিণ আফ্রিকা তখন নিজেদের রক্ষণভাগে আক্ষরিক অর্থেই দেয়াল তুলে বসে আছে, আর কানাডা লড়ছে সেই দেয়াল ভাঙার তীব্র এক হাহাকারে।

আমেরিকার মাটিতে আফ্রিকার দাপট
বিশ্বকাপ মানেই যেন ইউরোপ আর লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চ, যেখানে এশিয়া আর আফ্রিকার দেশগুলো যেত শুধুই দু-একটা ‘অঘটন’ ঘটানোর স্বপ্ন নিয়ে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ যেন পুরোনো সব চেনা হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিচ্ছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের হাওয়া দুই মহাদেশে লেগেছে ভিন্ন সমান্তরালে।

আসতেকাতেই তাঁর শুরু আসতেকায় শেষ
বাতিগুলো যখন একে একে নিভে গেল, চারপাশটা যেন থমকে দাঁড়িয়েছিল এক অলৌকিক ঘোরের মধ্যে। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকার আকাশে তখন ভাসছিল বিদায়ের সুর। গ্যালারির ৮০ হাজার মানুষ মোবাইল ফোনের আলো জ্বেলে এক সুরে গাইছিলেন কোনো এক মায়াবী গান।
