
আসিয়ান কাপ খেলতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে বাংলাদেশ দলের। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের চেয়ে এগিয়ে থাকা ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দলের সঙ্গে গ্রুপপর্বে খেলবে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের জন্য দল নির্বাচন এবং নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ টমাস ডুলি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনোয়ার সোহাগ
প্রশ্ন: আসিয়ান কাপ সামনে রেখে এই মুহূর্তে দলের সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা কোনটি?
টমাস ডুলি: ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর যেন আমাদের সহজভাবে না নেয়। এই প্রতিযোগিতায় আমরা স্পষ্টভাবে ‘আন্ডারডগ’। আমাদের আসল অবস্থান কোথায়, তা যাচাই করার এটিই সেরা সময়। সমর্থকেরা শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলা দেখতে চান এবং আমরা এখন ঠিক সেই সুযোগটাই পেয়েছি। র্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকালেই বুঝবেন, ম্যাচগুলো কতটা কঠিন হবে। তবে এটাই ফুটবল এবং এ কারণেই আমরা ফুটবলকে ভালোবাসি।
প্রশ্ন: প্রবাসী খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে ডাকার ক্ষেত্রে আপনি কী কী যোগ্যতা দেখেন?
ডুলি: প্রবাসী খেলোয়াড়দের অবশ্যই স্থানীয় খেলোয়াড়দের চেয়ে ভালো হতে হবে। তাদের শুরুর একাদশে খেলার মতো বা একাদশের খুব কাছাকাছি মানের হতে হবে। যে খেলোয়াড় মাত্র কয়েক মিনিট খেলে বা একেবারেই খেলে না, তার পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। আমি বরং সেই অর্থ ব্যবহার করে স্থানীয় খেলোয়াড়দের জন্য ক্যাম্প আয়োজন করব এবং তাদের আরও ভালো করে তুলব।
আমাদের বর্তমানে যারা আছে, তার চেয়ে তাদের ভালো হতে হবে। এই কারণেই যখন আমি বা আমরা দেখি, কোনো খেলোয়াড়ের সেই কোয়ালিটি বা মান নেই, তখন আমরা তাদের ছেড়ে দিই। পরেরবার আসতে হলে কী কী ব্যাপারে কাজ করা উচিত এবং এবার কেন তাদের নির্বাচন করা হয়েছিল, সে বিষয়ে আমি তাদের কিছু পরামর্শও দিয়েছি।
প্রশ্ন: আপনার ফুটবল-দর্শন বাংলাদেশে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে কতটা সময় লাগবে?
ডুলি: উন্নতি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, এটি কখনো থামে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খেলোয়াড়েরা আরও ভালো হতে থাকে এবং তারা যখন একটি স্তরে পৌঁছায়, তখন দর্শনও বদলে যায়। ফিলিপাইনকে একটি সফল পর্যায়ে নিয়ে যেতে আমার চার বছর সময় লেগেছিল, যেখানে তারা প্রতিবছর নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল এবং চার বছর পর সর্বকালের সেরা সাফল্য পেয়েছিল।
আমি চলে যাওয়ার পর এরিকসনের মতো অন্যতম সেরা কোচও দলটিকে সেই স্তরে ধরে রাখতে পারেননি এবং পরবর্তী ১২ জন কোচ মিলে দলকে আবার আমার শুরুর জায়গাতেই ফিরিয়ে এনেছিল, তাই বিষয়টা একটু ভেবে দেখুন। যেকোনো দলের টেকসই উন্নতির জন্য সময় ও আস্থা—দুটোই প্রয়োজন।
প্রশ্ন: আসিয়ান কাপে আপনার চোখে সাফল্যের মাপকাঠি কী হবে?
ডুলি: নিজেদের ফুটবলটা খেলা এবং প্রতিপক্ষের জন্য আমাদের হারানোটা অনেক কঠিন করে তোলা।
প্রশ্ন: টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বাংলাদেশের ফুটবল-সমর্থকদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী থাকবে?
ডুলি: বিপুলসংখ্যক মানুষ ফুটবল ভালোবাসেন, যেটা সত্যিই চমৎকার একটি বিষয়। কিন্তু পেশাদার ফুটবল কীভাবে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণার অভাব। নিজেদের চাওয়ার বাইরে বা পছন্দের বিপরীত কিছু ঘটলেই তাঁরা মনে করেন, এর পেছনে কোনো ‘সিন্ডিকেট’ কাজ করছে। আমি বিশ্বের অনেক দেশে কাজ করেছি; এখানে যা ঘটে, অন্য যেকোনো দেশেও ঠিক একই বিষয়গুলো ঘটে। এখানে বাস্তবে কোনো সিন্ডিকেট নেই—এগুলো শুধু একেক মানুষের একেক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আমাদের সেটি সম্মান করা উচিত। অনেকে পেশাদার ফুটবলের সূক্ষ্ম কৌশলগুলো বোঝেন না; মাঝেমধ্যে মনে হয়, তারা ১৫-১৬ বছরের কিশোর; যারা ফুটবলকে ভালোবাসে, কিন্তু খেলাটির পেশাদার দিকগুলো সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না। তবে সেটাও ঠিক আছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো, ফেসবুকে যা কিছু পড়েন, সবকিছু বিশ্বাস করবেন না। কারণ, সেখানে প্রচুর মিথ্যা ছড়িয়ে থাকে। বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান না থাকাটা দুঃখজনক হলেও সত্য, তবে দ্রুত হোক বা দেরিতে, সমর্থকেরা সব আসল সত্য বুঝতে পারবেন।
প্রশ্ন: মাঠে হামজা চৌধুরীর কাছ থেকে আপনার কী প্রত্যাশা থাকবে?
ডুলি: হামজা একজন প্রকৃত নেতা—আর্মব্যান্ড না থাকলেও সে যেন দলের আসল অধিনায়ক। বাকি খেলোয়াড়েরা তাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে এবং অনুসরণ করে। আর মাঠের পারফরম্যান্সে সে আমাদের দলের সেরা খেলোয়াড়। তার ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা, কারিগরি দক্ষতা, খেলার স্পিরিট এবং মনোভাব একদম নিখুঁত। শেফিল্ড ইউনাইটেড যে তাকে দলে পেতে এত ব্যাকুল ছিল, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই; কারণ, তারা জানে, হামজা কী মানের খেলোয়াড়। আমি শুধু আশা ও প্রার্থনা করি, সে যেন কোনো চোটে না পড়ে এবং কোনো ম্যাচ মিস না করে।

সেন্ট লুসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেক হয় মেহেদী হাসান মিরাজের। সে ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই বোলিং অলরাউন্ডার।
২২ মিনিট আগে
এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টে ইনিংস হারের শঙ্কা এড়িয়ে এখন লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছে পাকিস্তান। সফরকারীদের আশা বাঁচিয়ে রাখার অন্যতম কারিগর অভিষিক্ত রাজাউল্লাহ। ৯ নম্বরে নেমে মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন তিনি।
১ ঘণ্টা আগে
এজবাস্টন টেস্টের প্রথম ইনিংসেও মুখ থুবড়ে পড়েছিল পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন। তাদের করা ১৩৩ রানের জবাবে ৪৫৩ রানে থামে ইংল্যান্ড। ৩২০ রানে পিছিয়ে থেকে ইনিংস হারের শঙ্কায় ছিল সফরকারীরা। তাদের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও ভালো হয়নি। কিন্তু ঘুরে দাঁড়িয়ে অলআউট হওয়ার আগে ৪৯৯ রান করেছে পাকিস্তান। ইংল্যান্ডকে ১৩০ রা
২ ঘণ্টা আগে
পাঁচ বছর আগে বার্সেলোনা ছাড়লেও লিওনেল মেসি যেন স্পেনের মায়া ছাড়তেই পারছেন না। দীর্ঘ ২০ বছরের ক্যারিয়ারে ক্লাবটির হয়ে একের পর এক শিরোপা জিতেছেন, গোল করেছেন, মনে রাখার মতো কত মুহূর্ত রয়েছে, চাইলেই কি তা ভুলে থাকা যায়। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির নতুন ক্লাব কেনা নিয়ে মুখ খুললেন ক্লাবটির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ
১৩ ঘণ্টা আগে