Ajker Patrika

মধ্যরাতে টোকিওতে মুরাকামি উন্মাদনা—প্রকাশ পেল নারীপ্রধান চরিত্রের নতুন উপন্যাস

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ২১: ৫৩
মধ্যরাতে টোকিওতে মুরাকামি উন্মাদনা—প্রকাশ পেল নারীপ্রধান চরিত্রের নতুন উপন্যাস
হারুকি মুরাকামি। দ্য গার্ডিয়ান

বিশ্বখ্যাত জাপানি ঔপন্যাসিক হারুকি মুরাকামির নতুন উপন্যাস ‘দ্য টেল অব কাহো’ (The Tale of KAHO) প্রকাশ উপলক্ষে টোকিওতে দেখা গেল বিরল উৎসাহ। শুক্রবার (৩ জুলাই) বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশের আগেই রাজধানীর একটি বড় বইয়ের দোকানে মধ্যরাতের কাউন্টডাউন অনুষ্ঠানে জড়ো হন অসংখ্য পাঠক। ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা নতুন বইয়ের প্রথম কপি সংগ্রহ করেন।

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শিনচোশা জানিয়েছে, এটি মুরাকামির প্রথম পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস, যার কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন নিঃসঙ্গ নারী। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে মুরাকামির অধিকাংশ উপন্যাসের নায়ক ছিল তরুণ বা মধ্যবয়সী পুরুষ। ফলে নারীকে প্রধান চরিত্র হিসেবে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত পাঠকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে।

বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কাহো। ২৬ বছর বয়সী কাহো একজন শিশুতোষ বইয়ের লেখক। মুরাকামির উপন্যাসের বর্ণনায়, সে একজন সাধারণ তরুণী। কিন্তু হঠাৎ করেই তার জীবনে একের পর এক অদ্ভুত ও রহস্যময় ঘটনা ঘটতে শুরু করে। প্রকাশকের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বার্তায় মুরাকামি বলেন, ‘কাহোর জায়গায় নিজেকে কল্পনা করেই আমি এই উপন্যাস লিখেছি।’

রাত ১২টা বাজতেই টোকিওর বইয়ের দোকানে মুরাকামির নতুন বই সংগ্রহ শুরু করেন শত শত পাঠক। ছবি: সংগৃহীত
রাত ১২টা বাজতেই টোকিওর বইয়ের দোকানে মুরাকামির নতুন বই সংগ্রহ শুরু করেন শত শত পাঠক। ছবি: সংগৃহীত

গল্পের শুরু একটি ‘ব্লাইন্ড ডেট’ দিয়ে। কাহোর প্রকাশকের উদ্যোগে হওয়া সেই সাক্ষাতে তার সঙ্গী নৈশভোজের সময় সরাসরি বলে বসে, ‘আমি অনেক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক করেছি, কিন্তু তোমার মতো কুৎসিত কাউকে কখনো দেখিনি।’ অপমানিত হওয়ার বদলে কাহো বিস্মিত ও কৌতূহলী হয়ে ওঠে। ওই মন্তব্যের অর্থ খুঁজতে গিয়ে সে জড়িয়ে পড়ে একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনার মধ্যে।

উপন্যাসটির সূচনা হয়েছিল দুই বছর আগে। তখন টোকিওর ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পাঠসভায় কাহো নামের একটি ছোটগল্প উপস্থাপন করেছিলেন মুরাকামি। পরে ২০২৪ সালের জুনে গল্পটি শিনচো সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে আরও তিনটি গল্প প্রকাশের পর সেগুলোকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করে ৩৫২ পৃষ্ঠার চার অধ্যায়ের এই উপন্যাসে রূপ দেওয়া হয়েছে।

মধ্যরাতের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া পাঠকদের অনেকে জানান, নারী চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে মুরাকামির গল্প বলার ধরন কেমন হয়েছে, তা জানতেই তাঁরা এতটা উৎসুক। একজন পাঠক বলেন, সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রথম গল্পটিতে নারীর অনুভূতি ও সমাজের সৌন্দর্যনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গি যেভাবে ফুটে উঠেছিল, তা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।

বর্তমানে ‘দ্য টেল অব কাহো’ শুধু জাপানি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। ইংরেজিসহ অন্য কোনো ভাষায় অনুবাদের পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তিন বছর আগে প্রকাশিত ‘দ্য সিটি অ্যান্ড ইটস আনসার্টেইন ওয়ালস’-এর পর এটিই মুরাকামির নতুন পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত