Ajker Patrika

বাংলা একাডেমির সেমিনার সিরিজে মানিক, রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বাংলা একাডেমির সেমিনার সিরিজে মানিক, রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ
কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি রফিক আজাদ ও মধ্যযুগের কবি চন্দ্রাবতী স্মরণে বাংলা একাডেমির সেমিনার সিরিজ। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাংলা একাডেমি আয়োজিত সেমিনার সিরিজে এবার স্মরণ করা হলো কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি রফিক আজাদ এবং মধ্যযুগের কবি চন্দ্রাবতীকে। আজ সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিন পর্বে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই স্মরণ সেমিনারগুলো। এই তিন গুণীকে নিয়ে কথা বলেন সাহিত্যাঙ্গনের মানুষেরা।

‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে দাম্পত্যজীবনের রূপায়ণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক ও গবেষক ড. উপল তালুকদার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীম। এ পর্বে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী।

বক্তাদের কথায় উঠে আসে, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে জীবনের গভীর উন্মোচন দেখতে পাওয়া যায়। দাম্পত্যজীবনের রূপায়ণে নিজস্বতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। উচ্চ, মধ্য ও নিম্নবিত্ত—সব সংসারের নেপথ্যেই যে শ্রেণিগত বৈশিষ্ট্য কাজ করেছে, মানিক-সাহিত্যে তা টের পাওয়া যায়।

আরেক সেমিনারে ‘রফিক আজাদের কবিতা: চৈতন্যের কোলাজ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও সমালোচক চঞ্চল আশরাফ। আলোচনায় অংশ নেন কবি হিজল জোবায়ের। সভাপ্রধান ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। বক্তারা বলেন, রফিক আজাদের কবিতা বাংলা কবিতার নতুন সীমানার মতো। তিনি বিদ্রোহ ও প্রেমের রঙে রাঙিয়েছেন কবিতার ক্যানভাস। সব মানুষের জন্য সুষম জীবন চেয়েছেন, পরিবেশ-প্রকৃতির সুরক্ষা চেয়েছেন, যুদ্ধের বদলে শান্তি চেয়েছেন। চেতনার গভীরে গিয়ে স্পর্শ করে রফিক আজাদের স্বকীয় উচ্চারণ। তাঁর ভাষা, বিষয় ও শৈলী—সবকিছুরই মধ্যে ছিল নতুনত্ব।

‘চন্দ্রাবতীর গীতিকায় রমনীয় স্বৈরিতা আর নারী-অস্তিত্বের শাঁস’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক অধ্যাপক সুষ্মিতা চক্রবর্তী। আলোচনায় অংশ নেন চলচ্চিত্র নির্মাতা এন. রাশেদ চৌধুরী। সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন গবেষক ও নির্মাতা ড. ইউসুফ হাসান অর্ক। আলোচনায় বক্তারা বলেন, মধ্যযুগের কবি চন্দ্রাবতী বাংলা সাহিত্যে নারীদের মধ্যে এক পথিকৃৎ। তিনি সমসাময়িক বৈরিতা উপেক্ষা করে নারীর মাহাত্ম্য ঘোষণা করেছেন তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিতে। চন্দ্রাবতীর কাব্যে উচ্চারিত হয়েছে মানবমঙ্গলের গান। সুন্দর ধরিত্রীর জন্য আকুলতায় ভরপুর তাঁর রচনা। আলোচকরা আরও বলেন, চন্দ্রাবতীকে নিয়ে বিস্তৃত গবেষণার অবকাশ রয়েছে। আজকের সেমিনার এ বিষয়ে আগ্রহীদের তাঁর জীবন ও কৃতি বিষয়ে নতুন আগ্রহের ভিত তৈরি করবে।

সেমিনার সিরিজের পর্বগুলো সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সায়েরা হাবীব ও সহপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মাহবুবা রহমান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত