Ajker Patrika

বোমা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিউইয়র্ক—সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন ইরানের নেতারা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
বোমা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিউইয়র্ক—সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন ইরানের নেতারা
জাতিসংঘে ভাষণ দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সিএনএন

যুদ্ধের সাত মাস পর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে হাজির হয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র-সমন্বিত ইসরায়েলি হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের আবহে এবারের সফরকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে তেহরান।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সিএনএন জানায়, নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বিরল সরাসরি বৈঠক করেন। পাশাপাশি ইউরোপের ১০ টির বেশি দেশের প্রতিনিধি ও জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুদ্ধের সময় ইরানের হামলার শিকার দেশগুলোর একটি জর্ডান।

অন্যদিকে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কখনো ‘নতিস্বীকার’ করবে না। তাঁর এই বক্তব্য ইরানের কট্টরপন্থীদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য দেশটির রক্ষণশীল আইনপ্রণেতাদের একাংশ আরাঘচির সমালোচনা করেছেন।

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর পথ তৈরি হতে পারে। আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের মধ্যে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। তবে তিনি শর্তগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।

আঞ্চলিক একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের শর্তের মধ্যে রয়েছে তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং জুনের চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর আরোপ করা অন্যান্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো সিনা তৌসি বলেন, নতুন প্রস্তাবের মূল বিষয় আগের চুক্তির মতো হলেও এবার শর্ত পূরণের ক্রম বদলে গেছে। তাঁর ভাষ্য, এবার যুক্তরাষ্ট্রকে আগে কিছু বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে, এরপর হরমুজ প্রণালিতে ইরান চাপ কমাবে।

জুনের সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল এবং হরমুজ ব্যবস্থাপনায় ইরানের ভূমিকা মেনে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে পরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়।

হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানও আলাদাভাবে আলোচনা চালাচ্ছে। তবে নতুন প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ এবং ওয়াশিংটন-তেহরান আবারও পূর্ণাঙ্গ আলোচনায় ফিরবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

এদিকে নিউইয়র্কে ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতার বিপরীতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ ভাষণের সময় বিক্ষোভ এবং বেশ কিছু প্রতিনিধিদলের ওয়াকআউটের ঘটনাও ঘটে।

ইরানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা দেশটির পক্ষ থেকে যুদ্ধের মধ্যেও আলোচনার দরজা খোলা রাখার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস ও পাল্টাপাল্টি শর্তের কারণে সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো বড় ধরনের বাধা রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত