
আগামী সপ্তাহে পাকিস্তানের ফেডারেল রাজধানী ইসলামাবাদের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ–মিছিলের ডাক দিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফ পার্টি (পিটিআই)। এই বিক্ষোভ ব্যর্থ করতে প্রস্তুতি হিসেবে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে শিপিং কনটেইনার দিয়ে সড়ক অবরোধ করছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তানের হয়ে ওডিআই ক্রিকেটে একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে কারাগারে পাঠানোর তিন বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু ইমরান খানকে জনপরিসরে আলোচনার বিষয়বস্তু থেকে দূরে রাখতে দৃঢ় প্রচেষ্টা চালানো সত্ত্বেও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট সরকার তাঁর প্রতি জনসমর্থন দমনে খুব একটা এগোতে পারেনি বলে মনে হচ্ছে।
পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সংবাদ সম্প্রচারের সময় ইমরান খানের নাম এড়িয়ে চলে। তাঁকে শুধু বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ‘প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি এই দলটির নেতৃত্বে সরকার পরিচালনা করেছিলেন। গত মাসে চিকিৎসার জন্য তাঁকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়, স্থানান্তরের দৃশ্য থেকে তার ছবিটিও যাতে প্রকাশ্যে না আসে, সে জন্য কর্তৃপক্ষ একটি সাজানো কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিল।
ইমরান খানকে মুক্তির দাবিতে আগামী রোববার থেকে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে পিটিআই। বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট অঙ্গনে পরিচিত একদল তারকাও এই প্রতিবাদে যোগ দিয়েছেন। এটি মূলত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম তৈরি করার ক্ষেত্রে খানের সক্ষমতারই প্রতিফলন।
গত সপ্তাহের শুরুতে ইমরান খানকে সমর্থন করে আয়োজিত পদযাত্রার প্রস্তুতির সময় তথাকথিত ‘জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি’র কথা উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ ইমরান খানের বোনসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। ইমরান খান ও তাঁর সমর্থকদের দমন করার এই প্রচেষ্টা দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের জন্য তিনি যে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছেন, তার ব্যাপ্তিই স্পষ্ট করে। মুনির পাকিস্তানের ডি–ফ্যাক্টো বা কার্যত শাসক, আর শাহবাজ শরিফের বেসামরিক সরকার নামমাত্র ক্ষমতা প্রয়োগ করছে।
ইমরান খানের কোটি কোটি অনুসারীর কাছে তিনি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকেন্দ্রিক রাজনীতির সবচেয়ে ভালো বিকল্প। এই রাজনীতিতে বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক দলগুলো কয়েক দশক ধরে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা চালিয়েছে এবং দুর্নীতি হয়ে উঠেছে ব্যাপক। ব্যাপকভাবে মনে করা হয়, ইমরান খান পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি এবং অবাধ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হলে সহজেই জয়ী হবেন। এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকেরা।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আদেল মালিক বলেন, পাকিস্তান বর্তমানে ‘খানের জনপ্রিয়তা এবং সামরিক বাহিনীর বৈধতা ছাড়াই শাসন করার জেদের মধ্যে অচলাবস্থায়’ আটকে আছে।
মুনির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামাবাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করছেন এবং সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছেন। কিন্তু দেশের ভেতরে তাঁর কোনো জনপ্রিয় ম্যান্ডেট নেই। একই সঙ্গে তিনি ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দুর্বল রাজস্বভিত্তির অর্থনীতির সঙ্গে লড়াই করছেন।
ওয়াশিংটনে অবস্থিত আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক আবাসিক জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘ইমরান খান ও তাঁর সমর্থকদের এক পাশে সরিয়ে রাখার বিষয়ে রাষ্ট্রের এই একগুঁয়ে মনোভাব সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে বোধগম্য। কারণ, তাদের মধ্যে দীর্ঘ ও তিক্ত সংঘাত চলছে এবং ইমরান খান ও তাঁর সমর্থকেরা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক মাত্রায় কঠোর সমালোচনা করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু ইমরান খানের বিরুদ্ধে সরকারের নিরলস দমন-পীড়ন নতুন করে রাজপথে ব্যাপক সমাবেশ ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি তৈরি করছে। এতে সরকার তার অভ্যন্তরীণ সংস্কারের অগ্রাধিকার থেকে বিচ্যুত হতে পারে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিসরে যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’
২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার সময় ৭৩ বছর বয়সী খান সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। উভয়েরই লক্ষ্য ছিল দুই বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক দলের (ভুট্টো পরিবারের পাকিস্তান পিপলস পার্টি ও শরিফ ব্রাদার্স পরিচারের পাকিস্তান মুসলিম লীগ–নওয়াজ) ক্ষমতা খর্ব করা। কিন্তু ইমরান খানের সরকার দ্রুতই দুর্নীতি ও অনিয়মিত শাসনের অভিযোগের মুখে পড়ে, বিরোধী নেতাদের কারাগারে পাঠায় এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বের একপর্যায়ে খান সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সংসদে অনাস্থা ভোটে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করা হয়েছে, যেগুলো তাঁর দল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে।
সেগুলোর একটি ছাড়া বাকি সব দণ্ডই আপিলের মাধ্যমে স্থগিত অথবা বাতিল হয়েছে। ইমরান খানের এক বোন উজমা খান কিছুদিন আগে হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁকেও এই সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়েছ। গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইমরান খান অপর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা এবং তাঁকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটকে রাখার বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, খান তার পরিণতিকে মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সঙ্গে তুলনা করেছেন। মুরসি বছরের পর বছর কারাগারে থাকার পর ২০১৯ সালে কায়রোর একটি আদালতকক্ষে মারা যান।
ইমরান খানের প্রভাব নিয়ে সরকারের উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ২০২৩ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর তার সমর্থকেরা লাহোরের কর্পস কমান্ডার হাউসসহ সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। জবাবে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক দমন-পীড়ন চালায়, হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের অনেককে সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে বিচারের মুখোমুখি করে। আরও শত শত মানুষ আত্মগোপনে চলে যায়।
এরপর, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইমরান খানের সমর্থকেরা আবার রাজধানীর দিকে পদযাত্রা করলে নিরাপত্তা বাহিনী ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির কাছে কাছের এক জনসমাবেশের ওপর গুলি চালায়। ইমরান খানের দল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতে অন্তত এক ডজন মানুষ নিহত হন।
পাকিস্তানের অশান্ত পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান বিদ্রোহ, কাশ্মীরে বিক্ষোভ এবং তালেবান-শাসিত আফগানিস্তানের সঙ্গে বিচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকা সংঘাতের মুখে একই সময়ে খানের রাজপথে মানুষ সংগঠিত করার সক্ষমতা সামরিক বাহিনীর জন্য একটি ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষক ও বিরোধী নেতাদের মতে, এর জবাবে সরকার ভিন্নমত দমনে আরও কঠোর হয়েছে। অনলাইনে মতপ্রকাশ সীমিত করতে আইনগত পরিবর্তন ও সাংবিধানিক সংশোধনী আনা হয়েছে।
বিচার বিভাগের ওপরও চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। ২০২৪ সালে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের ছয় বিচারক সুপ্রিম কোর্টে চিঠি লিখে অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থা বা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) খানবিরোধী রায় দিতে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে। তারা তাদের বাড়িতে নজরদারি এবং আত্মীয়দের অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগও করেন।
লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেসে শিক্ষকতা করা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসাদ রহিম খান বলেন, পাকিস্তান ‘নিঃসন্দেহে তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিচারিক পশ্চাদপসরণের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি এমন প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন, যার মাধ্যমে ‘স্বাধীন বিচারকদের সরিয়ে দেওয়া এবং ভিন্নমতের প্রতি শূন্য সহনশীলতা নিশ্চিত করা’ হচ্ছে। তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনের কথাও উল্লেখ করেন, যখন খানের দলকে তাদের নির্বাচনী প্রতীক ক্রিকেট ব্যাট থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। নিরক্ষর ভোটারদের জন্য দল শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই প্রতীকটি গুরুত্বপূর্ণ।
এরপরও খানের প্রতি অনুগত প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী হন। কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিরোধীদের মতে, সামরিক বাহিনী শাহবাজ শরিফকে সরকার গঠনের জন্য বসায়। দেশজুড়ে ট্রাক ও রিকশার পেছনে ইমরান খানের ছবি সাঁটানো দেখা যায়। রাস্তার পাশের দোকানগুলোতেও তাঁর কারাবন্দি পোশাকের নম্বর—৮০৪—লেখা রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি তার অনুসারীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও টিকটক ও এক্সে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
ইমরান খানের আরেক বোন আলিমা খান বলেন, ‘তারা (সমর্থকেরা) তাঁকে (ইমরান খানকে) ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।’ তিনিও গত সপ্তাহেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, শাসকগোষ্ঠীর ‘ভয় দিন দিন বাড়ছে।’
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস থেকে অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অবাধ অগ্রগতির পক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন ‘টার্মিনেটর’ সিনেমা ধাঁচের মহাপ্রলয় নিয়ে আশঙ্কা তৈরি করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি এখনো কল্পবিজ্ঞানের বিষয়। বরং এআইয়ের অন্য ধরনের ক্ষতি এরই মধ্যে বাস্তবে দেখা দিয়েছে।
১ দিন আগে
চলতি বছর শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’র কারণে রেকর্ড বৈশ্বিক উষ্ণতা আগামী বছরের শুরু নাগাদ বিশ্বজুড়ে সাড়ে চার লাখ অতিরিক্ত মৃত্যুর কারণ হতে পারে। গতকাল বুধবার বৈশ্বিক গবেষণা সহযোগিতা সংস্থা ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব (সিআইএল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১ দিন আগে
রাশিয়া ইরানকে উন্নত সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে বলে জানা গেছে। তেহরানকে কেবল আরেকটি অস্ত্র সরবরাহ করার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কিছু দেওয়া হচ্ছে। আর সেটা হলো—নিজ দেশে এই ব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান।
২ দিন আগে
ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে নজিরবিহীন এক আইনি ও প্রশাসনিক সংকটের জন্ম দিয়েছে ‘কাতারগেট’ কেলেঙ্কারি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের শীর্ষ সামরিক ও কৌশলগত উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে গোপন অপপ্রচার চালানো, গণমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং স্পর্শকাতর সামরিক
৩ দিন আগে