Ajker Patrika

ইমরান খানকে নিয়ে সংকটে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ৩৬
ইমরান খানকে নিয়ে সংকটে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী
ইমরান খানের ছবি ব্যবহার করছেন সমর্থকেরা। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির সামরিক বাহিনী এবং সরকারের সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। কারাগারে বন্দী থাকার তিন বছরের বেশি সময় পরও ইমরানের জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং তাঁকে জনপরিসর থেকে দূরে রাখার নানা প্রচেষ্টার মধ্যেও তাঁর সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা অব্যাহত রয়েছে।

কারাবন্দী এই নেতার মুক্তির দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী মার্চের ঘোষণা দিয়েছে তাঁর দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। আসন্ন এই কর্মসূচি ব্যর্থ করে দিতে কয়েক দিন আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কনটেইনার বসিয়ে যান চলাচল বন্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। শুধু তা-ই নয়, বিক্ষোভের আগে ইমরানের দুই বোনসহ পরিবারের কয়েক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইমরান খানকে ঘিরে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রভাব পড়েছে গণমাধ্যমেও। পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে তাঁর নাম সরাসরি উল্লেখ না করে প্রায়ই তাঁকে পিটিআইয়ের ‘প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আদিল মালিকের মতে, পাকিস্তান বর্তমানে ইমরানের জনপ্রিয়তা ও সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষার মধ্যে একধরনের অচলাবস্থায় আটকে আছে। ইমরানের সমর্থকদের কাছে তিনি সামরিক প্রভাবে থাকা রাজনীতির বিকল্প হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে, সামরিক নেতৃত্ব মনে করে, ইমরানের রাজনৈতিক প্রভাব রাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় ইমরান খানের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ইমরান ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। দুর্নীতি থেকে সন্ত্রাসবাদ পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা হয়েছে। তবে তাঁর দল বলছে, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর অধিকাংশ দণ্ডই পরে স্থগিত বা আপিলে বাতিল হয়েছে।

২০২৩ সালে ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর সমর্থকেরা লাহোরের কর্পস কমান্ডার হাউসসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালান। এরপর দেশজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয় এবং হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইমরানপন্থীরা আবার ইসলামাবাদে মিছিল করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে পিটিআই ও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

ইমরানের রাজনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের ছয় বিচারক গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বিচারিক সিদ্ধান্তে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ করেন। একই বছর নির্বাচনে পিটিআইকে দলীয় প্রতীক ‘ক্রিকেট ব্যাট’ ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। এরপরও ইমরানপন্থী প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসনে জয় পান। বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে সামরিক প্রভাবের মাধ্যমে শাহবাজ শরিফ সরকার গঠিত হয়।

এদিকে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের অবস্থান জোরদারে সক্রিয় হলেও দেশের ভেতরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বৈধতার প্রশ্ন তাঁর সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

দেশজুড়ে ট্রাক, রিকশা ও দোকানে ইমরানের ছবি এবং তাঁর কারাবন্দী নম্বর ‘৮০৪’ দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি তাঁর বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে তাঁকে কারাগারে রেখে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা এখনো প্রত্যাশিত ফল দিয়েছে কি না, তা নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত