
গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দেশে ফেরার ঘোষণা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। তবে এর প্রভাব বাংলাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভারতের জন্যও অনেক বেশি হতে পারে। বাংলাদেশে নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। ফলে এই সময়ে, হাসিনার ভারতে অবস্থানকে এখন বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তার নিয়ে ভারত ও চীনের বৃহত্তর প্রতিযোগিতা থেকে আলাদা করে দেখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে সাউথ এশিয়ান ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে তাঁর সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে পালিয়ে যান। এর আগের ৩০ বছরের মধ্যে প্রায় ২০ বছর তিনি বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিলেন। হাসিনা বলেন, তাঁর দেশে ফেরার লক্ষ্য হবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ঐক্য বা পুনর্মিলন এগিয়ে নেওয়া। তবে বাংলাদেশের আন্দোলনকারীরা এই দাবির সঙ্গে সম্ভবত একমত হবেন না।
তাঁর জন্য সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা বিবেচনায় নিলে এমন ঘোষণা নেওয়া একটি বড় ঝুঁকিও বটে।
২০২৫ সালে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দমনে তাঁর সরকারের সহিংস ভূমিকার জন্য অনুপস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। জাতিসংঘের এক তদন্তে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। নিহতদের বিপুল সংখ্যকই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা যান বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়। শেখ হাসিনা এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এর মধ্যে বাংলাদেশে নির্বাচনও হয়ে গেছে। গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিশাল জয় অর্জন করে। দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে থাকা দলটি হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে একাধিক নির্বাচন বর্জনও করেছিল। তাদের অভিযোগ ছি—সেসব নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে নতুন সরকার গুরুতর অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। এর সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার অতিরিক্ত চাপও যুক্ত হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে আসছে, এমন লক্ষণ রয়েছে। প্রতিবেদনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও বাড়তে থাকা উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
হাসিনার দেশে ফেরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্তৃত্বের জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে এবং তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
ভারতের জন্যও সময়টি অত্যন্ত অস্বস্তিকর। শেখ হাসিনাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবে ব্যাপকভাবে দেখা হতো। তাঁর আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, বিশেষ করে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর দুই দেশের সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি ঘটে। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আরও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশে প্রকাশ্য ভারতবিরোধী মনোভাবও অনেক বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে নয়াদিল্লি সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে তাঁর সেই সম্মেলনে অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ঢাকা বারবার ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। নয়াদিল্লি সেই দাবি পূরণ করেনি। ফলে হাসিনার ভারতে অবস্থান দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার অন্যতম উৎস হয়ে রয়েছে। তাঁর সর্বশেষ বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তারেক রহমানের সরকার ক্ষুব্ধ হয় অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায়। অন্যদিকে ভারতীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এরপর বাংলাদেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যখন নতুন করে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে, তখন বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কও ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান তাঁর প্রথম বড় বিদেশ সফরের জন্য চীনকে বেছে নেন। জুন মাসে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের সমর্থন চান। বেইজিংয়ে বাংলাদেশের দূতাবাসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘উভয় দেশ অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে অভিন্ন মত পোষণ করে।’
এই কারণে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের জন্য আরেকটি পরীক্ষা।
নয়াদিল্লি এখন কঠিন এক সিদ্ধান্তের মুখে। শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দিয়ে যাওয়া একজন সাবেক মিত্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক রক্ষা করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এটি তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে অবিশ্বাস আরও গভীর করার ঝুঁকি তৈরি করবে এবং বাংলাদেশকে আরও বেশি করে বেইজিংয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তাই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্ভবত শুধু এই প্রশ্নের ওপর নির্ভর করবে না যে শেখ হাসিনা সত্যিই ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরবেন কি না। বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, ভারতে তাঁর উপস্থিতি কী প্রতিনিধিত্ব করছে—বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তরের অমীমাংসিত উত্তরাধিকার এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের ভূমিকা নিয়ে ঢাকার দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ।

দানিয়ুব নদীর তীরে কাদা ও গাছে ঘেরা এক টুকরো জমি। নাম ‘ফ্রি রিপাবলিক অব লিবারল্যান্ড’। নৌকা থেকে দেখলে জায়গাটিকে অত্যন্ত সাধারণ মনে হয়। কিন্তু পুঁচকে এই ভূখণ্ডটির পেছনে জড়িয়ে আছেন ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসার সবচেয়ে বড় অর্থায়নকারীসহ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনীরা...
২ ঘণ্টা আগে
ঠিক ২৫ বছর আগে আজকের এই দিনে, অর্থাৎ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার ১৯ জন সদস্য চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে আছড়ে পড়েন। সেই ঘটনার পর ২৫ বছর পেরিয়ে গেছে। ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হয়।
৬ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ‘পরপরই’ শেষ হবে। তিনি চলমান এই সংঘাতকে এমনভাবে তুলে ধরেছেন, যেন তেহরান নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
৭ ঘণ্টা আগে
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ধরে হুতিদের সাম্প্রতিক দ্রুত অগ্রযাত্রার পেছনে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কর্পসের (আইআরজিসি) সরাসরি নির্দেশনা ছিল বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি, ইরানি ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্র। তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে নতুন একটি যুদ্ধফ্রন্ট...
১০ ঘণ্টা আগে