Ajker Patrika

কে হচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা—খামেনির ছেলে নাকি খোমেনির নাতি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১০: ০৪
কে হচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা—খামেনির ছেলে নাকি খোমেনির নাতি
আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতারা। অত্যন্ত গোপনীয় এই আলোচনায় খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে তিন ইরানি কর্মকর্তার সূত্রে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) আজ বুধবার সকালের মধ্যেই মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করার কথা ভাবছিল। তবে পরিষদের কিছু সদস্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই মুহূর্তে নাম ঘোষণা করলে মোজতবা খামেনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন।

উল্লেখ্য, গতকাল বিশেষজ্ঞ পরিষদের একটি পূর্বনির্ধারিত সভাস্থল—পবিত্র শহর কোমের একটি ভবনে ইসরায়েল হামলা চালায়। তবে সৌভাগ্যবশত ভবনটি তখন খালি ছিল এবং পরিষদের সদস্যরা ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।

মোজতবা খামেনি: নেপথ্যের কারিগর থেকে প্রকাশ্য নেতৃত্বে?

৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি দীর্ঘকাল ধরে তাঁর পিতার ছায়ায় থেকে ইরানের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেছেন। জনসম্মুখে তাঁকে খুব একটা দেখা না গেলেও রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্লেষক মেহেদি রহমতির মতে, ‘মোজতবা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বিচক্ষণ পছন্দ। কারণ, তিনি ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামো পরিচালনা সম্পর্কে গভীরভাবে জানেন।’

তবে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরান বিশেষজ্ঞ ওয়ালি নসর মনে করেন, মোজতবার নির্বাচন এটিই প্রমাণ করবে যে ইরানের শাসনব্যবস্থায় এখন কট্টরপন্থী রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রভাব আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে।

অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থী

মোজতবা খামেনি ছাড়াও আরও দুজনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে:

১. আলী রেজা আরাফি: একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা ও আইনবিদ, যিনি বর্তমানে খামেনি-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন শাসন পরিষদের সদস্য।

২. সৈয়দ হাসান খোমেনি: ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি। তাঁকে অপেক্ষাকৃত উদারপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিভক্ত জনমত ও ভবিষ্যৎ পথরেখা

এদিকে মোজতবা খামেনির সম্ভাব্য নিয়োগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সরকারের সমর্থকেরা তাঁকে নিহত খামেনির আদর্শের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখলেও বিরোধীরা মনে করেন, এর ফলে দমনপীড়ন আরও বাড়বে। অন্যদিকে মোজতবার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের দাবি, তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মতো আধুনিক মানসিকতার অধিকারী হতে পারেন এবং শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনতে পারেন।

হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া

ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় থাকা অনেকেই সাম্প্রতিক হামলায় নিহত হয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে যদি আগের নেতার মতোই খারাপ কেউ ক্ষমতায় আসে। আমরা তেমনটা দেখতে চাই না।’

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে থাকে। ৪৭ বছরের ইতিহাসে এই দ্বিতীয়বার পরিষদ নতুন নেতা নির্বাচন করতে যাচ্ছে। গত শনিবারের হামলায় মোজতবা খামেনির স্ত্রী জোহরা আদেল, মা মানসুরেহ এবং তাঁর এক ছেলেও নিহত হয়েছেন বলে ইরান সরকার নিশ্চিত করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত