
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে অনেক কিছুই করা সম্ভব। এটি আপনার কেনাকাটার তালিকা গুছিয়ে দিতে পারে, অবাধ্য শিশুদের শান্ত রাখতে তাদের পছন্দমতো রূপকথা শুনিয়ে বিনোদন দিতে পারে। এটি কর্মক্ষেত্রে আপনার দক্ষতা বাড়াতে পারে এবং সরকারি কাজে গতি আনতে পারে। কিন্তু বর্তমানে এরচেয়েও বড় ও ভীতিজাগানিয়া এক বিষয় নিয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন—আর তা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সামরিকীকরণ।
খবর পাওয়া গেছে, গত তিন মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস দুবার রেজিম চেঞ্জ বা সরকার পরিবর্তনের অভিযানে এআই ব্যবহার করেছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তাঁর বাসভবন থেকে তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লদ’ এআই মডেলটি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। যদিও এর বিস্তারিত এখনো অস্পষ্ট।
এরপর এই সপ্তাহান্তেই জানা গেল, ইরানের ওপর যে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে, তার নেপথ্যেও ছিল এআইয়ের ভূমিকা। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, নির্ভুল লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ও যুদ্ধের মহড়া বা সিমুলেশন চালানোর কাজে এই প্রযুক্তি সহায়তা করেছে। এর মাধ্যমে হোয়াইট হাউস ইরান সরকারের পতন ঘটানোর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং বাকি কাজটুকু সম্পন্ন করার দায়িত্ব সাধারণ ইরানিদের ওপর ছেড়ে দিয়েছে।
এই দুটি ঘটনার গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। এআই এখন এমন সব সামরিক অপারেশনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার ফলে অসংখ্য মানুষ হতাহত হচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্য অশান্ত হয়ে উঠেছে। যে টুলটি মানুষের ই-মেইল সারসংক্ষেপ করা বা কভার লেটার লেখার কাজে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল, তা এখন তথ্যকে সহিংসতায় রূপান্তরের শৃঙ্খলে যুক্ত হয়েছে।
এআইয়ের এমন সামরিক ব্যবহার নিয়ে অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে প্রকাশ্য এবং তিক্ত বিরোধ তৈরি হয়েছে। আমোদি দুটি ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা শিথিল করতে অস্বীকার করেছেন। প্রথমত, এআইকে গণনজরদারিতে ব্যবহার করা যাবে না এবং দ্বিতীয়ত, মানুষের অর্থবহ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন ও আক্রমণকারী অস্ত্র তৈরিতে এটি ব্যবহার করা চলবে না। তবে ‘ওপেনএআই’ পেন্টাগনের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যদিও তারা দাবি করছে যে, তাদের শর্তাবলিতে অ্যানথ্রপিকের চেয়েও শক্তিশালী সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু এটা কতটা মানা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
আগে সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের প্রশ্নগুলো কেবল তাত্ত্বিক ছিল। কিন্তু মাদুরোকে আটক ও ইরানে হামলার পর সেই সমীকরণ বদলে গেছে। পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে ‘মিউচুয়ালি অ্যাসিউর্ড ডেসট্রাকশন’ বা পারস্পরিক নিশ্চিত ধ্বংসের তত্ত্ব মানুষকে ধ্বংসাত্মক বাটন চাপা থেকে বিরত রাখত। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রাথমিক ওয়ার গেম বা যুদ্ধের মহড়াগুলোতে দেখা গেছে, এআই নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক বেশি বেপরোয়া বা ‘ট্রিগার-হ্যাপি’।
সমর বিশ্লেষকেরা সম্ভবত কয়েক মাস আগের এই ঘটনাগুলোকে জাপানে ফেলা পারমাণবিক বোমার মতোই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখবেন। এটি এমন এক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে, যার আগে একরকম পৃথিবী ছিল এবং পরে অন্য রকম।
প্রায় এক দশক আগে ডেমিস হাসাবিস তাঁর কোম্পানি ‘ডিপমাইন্ড’ গুগলের কাছে বিক্রির সময় শর্ত দিয়েছিলেন, এটি সামরিক কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু গত বছর গুগল (অ্যালফাবেট) নিঃশব্দে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। আর ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো সেই নৈতিক অবস্থানকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ট্রাম্পকে এই খাদের কিনারা থেকে ফিরিয়ে আনা। মিত্র দেশগুলোর উচিত হোয়াইট হাউসের ওপর চাপ প্রয়োগ করা, যাতে তারা এআই ব্যবহারে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি, স্বচ্ছ ক্রয় মানদণ্ড ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে। কারণ, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী যদি সাধারণ এআই মডেলকে সরকার পতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার শুরু করে, তবে আমরা এক সম্পূর্ণ নতুন ও অনেক বেশি বিপজ্জনক বিশ্বে প্রবেশ করব।
দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত ‘টিকটক বুম: দ্য ইনসাইড স্টোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ডস ফেভারিট অ্যাপ’ বইয়ের লেখক ক্রিস স্টোকেল-ওয়াকারের নিবন্ধ অনুবাদ করেছেন জগৎপতি বর্মা

ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলা শুরু হওয়ার আগে থেকেই তুরস্ক একটি ‘পোকার ফেস’ বা ভাবলেশহীন মুখাবয়ব বজায় রাখার চেষ্টা করেছিল। তারা বারবার উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছিল এবং আঙ্কারার কোনো সামরিক পরিকল্পনা নেই বলে আসছিল।
২৫ মিনিট আগে
দুই দশকেরও বেশি সময় আগে ইরাকে সাদ্দাম হুসেইনের পতন ঘটাতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণামের মুখে পড়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে; এমনকি এটি আঞ্চলিক অস্থিরতার আরও ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি করবে। যদি না এই সংঘাত কূটনৈতিকভাবে শেষ করার জন্য কোনো যৌক্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এমনটিই মনে করছেন
৩৮ মিনিট আগে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ কেবল তেহরান বা ওয়াশিংটনের ভাগ্য নির্ধারণ করছে না, বরং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর (জিসিসি) কয়েক দশকের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক দর্শনকে এক নিমেষেই ওলট-পালট করে দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), সৌদি আরব, ওমান, কাতারসহ পুরো উপসাগরী
১ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ। সপ্তাহের শুরুতে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর এই অঞ্চলকে এক নতুন ও ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। তেহরান কেবল ইসরায়েলকেই লক্ষ্যবস্তু করেনি, বরং তাদের ব্যালিস্টিক
২ ঘণ্টা আগে