
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তেহরান এখন এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে ‘ট্রানজিট ফি’ বা টোল আদায়ের দাবি তুলছে। ইরানের এই ১০-দফা শান্তি প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—প্রণালির ওপর তাদের ডি-ফ্যাক্টো (কার্যত) নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে মাশুল আদায় করা।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের এই দাবি আদায়ের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আর্থিক ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে:
ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পেমেন্ট: ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে এই টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে।
মাশুলের হার: রয়টার্সের তথ্যমতে, প্রাথমিকভাবে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল দাবি করা হচ্ছে। জাহাজের ধরন, মালামালের পরিমাণ এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই ফি কম-বেশি হতে পারে।
লাইসেন্স ও পারমিট: ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, তাঁরা ওমানের সঙ্গে মিলে একটি প্রোটোকল তৈরি করছেন যেখানে প্রতিটি জাহাজকে প্রণালি পার হওয়ার জন্য বিশেষ লাইসেন্স নিতে হবে। তবে ওমান সরকার এই প্রস্তাবে সায় না দিয়ে জানিয়েছে, তাদের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই।
আন্তর্জাতিক আইন বনাম ইরানের দাবি
ইরানের এই দাবি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের (ইউএনসিএলওএস) মৌলিক নীতির পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ জাতিসংঘ কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র প্রাকৃতিকভাবে তৈরি আন্তর্জাতিক প্রণালিতে কেবল প্রবেশের অনুমতির জন্য কোনো মাশুল আদায় করতে পারে না। তবে পাইলটিং, টাগবোট বা বন্দর পরিষেবার মতো সুনির্দিষ্ট সেবার জন্য ফি নেওয়া যেতে পারে।
তবে সুয়েজ বা পানামা খাল কৃত্রিমভাবে খনন করা বলে সেখানে টোল নেওয়া বৈধ। কিন্তু মালাক্কা প্রণালির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী সিঙ্গাপুর প্রণালি বা হরমুজের মতো প্রাকৃতিক পথে টোল আদায়ের কোনো নজির আধুনিক ইতিহাসে নেই। তুরস্কের বসফরাস প্রণালিতেও ১৯৩৬ সালের মনট্রিক্স কনভেনশন অনুযায়ী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য টোল-মুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই দাবিকে ‘অসম্মানজনক’ ও ‘জবরদস্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘তেলবাহী জাহাজ প্রবাহিত হবেই, ইরান থাকুক বা না থাকুক।’ মুক্ত নৌ-চলাচল নিশ্চিত না করলে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও ইরানের এই পদক্ষেপে দারুণভাবে উদ্বিগ্ন। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে কোনো নির্দিষ্ট দেশ ‘জিম্মি’ করে রাখতে পারে না। কাতারও জানিয়েছে, যে কোনো আর্থিক ব্যবস্থার আলোচনা জলপথ পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার পর হওয়া উচিত।
এদিকে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীন এই সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা ইরানের অন্যতম মিত্র এবং এই রুট দিয়ে জ্বালানি আমদানিতে শীর্ষ দেশ। ফলে চীনের ওপর ইরানের এই দাবি বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
কেন ইরানকে থামানো কঠিন?
বিশ্লেষকেরা বলছেন, দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে লক্ষ্য করে বিধ্বংসী হামলা চালালেও তাকে নতিস্বীকার করানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ভৌগোলিক সুবিধা: ৩৪ কিলোমিটার চওড়া এই প্রণালির উত্তর তীর জুড়ে রয়েছে ইরানের খাড়া পাহাড় ও সামরিক অবস্থান। এখান থেকে খুব সহজেই যে কোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব।
দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি: সামরিক উপায়ে এই পথ উন্মুক্ত রাখতে গেলে পাহাড় ঘেরা এই উপকূলে একটি বিশাল ও দীর্ঘমেয়াদি স্থলযুদ্ধের প্রয়োজন হবে, যা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ইতিমধ্যে অন্তত একটি জাহাজ ২ মিলিয়ন ডলার টোল দিয়ে প্রণালি পার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে (যদিও তা যাচাই করা যায়নি)। শেষ পর্যন্ত ইরান যদি এই দাবিতে সফল হয়, তবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত অবস্থানে অবস্থিত পাকিস্তান ঐতিহাসিকভাবেই বিশ্ব ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের কারণে দেশটি বারবার জটিল আন্তর্জাতিক সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে...
২ ঘণ্টা আগে
গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো পাহাড়সম দূরত্ব ও গভীর মতভেদ রয়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের অধিকার এবং লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধ—এই দুটি বিষয় সমাধানের ওপরই নির্ভর করছে আলোচনার ভবিষ্যৎ। আর এই আলোচনার ফলাফল আগামী কয়েক প্রজন্মের জন্য বদলে দিতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের
২০ ঘণ্টা আগে
হরমুজই এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এখন এক অন্যরকম ইরানের মুখোমুখি। নিরাপত্তা বিকল্প কমে আসায় পারস্য উপসাগরে ইরান এখন নিজের প্রভাব খাটাবে। উপসাগরীয় দেশগুলো এখন হয়তো ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তির উপস্থিতি স্থায়ী করার
১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন। কিন্তু যুদ্ধ এই রাষ্ট্রকে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে। মানুষ এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে ‘মুক্তিদাতা’ নয়, বরং ‘দখলদার’ হিসেবে দেখছে। যখন ওয়াশিংটন অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও সাদা-কালো দ্বন্দ্বে বিভক্ত এবং ইসরায়েল কর্তৃত্ববাদী শাসনে নিমজ্জিত, তখন
১ দিন আগে