
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, তখন একটি বিষয় বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেটি হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা তেহরানের সম্পদ। এই সম্পদের পরিমাণ নেহায়েতই কম নয়। বিভিন্ন হিসাব বলছে, ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘ প্রায় ৪৭ বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে ধুঁকছে। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে আমেরিকানদের জিম্মি করার ঘটনায় এই নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়, যা পরে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচির কারণে আরও কঠোর করা হয়। এসব পদক্ষেপের ফলে তেল বিক্রির লভ্যাংশসহ তেহরানের নিজস্ব সম্পদ বিদেশের ব্যাংকে আটকা পড়ে আছে, যা তারা ব্যবহার করতে পারছে না।
গত ১০ এপ্রিল, পাকিস্তানে প্রথম দফার যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরুর আগে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্সে বলেন, যেকোনো আলোচনা শুরু করার আগে বিদেশের ব্যাংকে থাকা ইরানের আটকে পড়া সম্পদ অবশ্যই অবমুক্ত করতে হবে। এর একদিন পর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি আলোচনার সময় খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ওয়াশিংটন বিদেশের মাটিতে থাকা ইরানের অন্তত কিছু সম্পদ অবমুক্ত করতে রাজি হয়েছে। কিন্তু মার্কিন সরকার দ্রুত সেই খবর নাকচ করে দেয় এবং জোর দিয়ে জানায়, ওই সম্পদগুলো এখনো অবরুদ্ধই রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সময় অনুযায়ী ২২ এপ্রিল ভোরের দিকে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই উত্তেজনা আবার মাথাচারা দিয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের আটকে থাকা সম্পদের পরিমাণ কত
আটকে থাকা এই সম্পদের সঠিক পরিমাণ অস্পষ্ট হলেও ইরানের সরকারি প্রতিবেদন এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে থাকা ইরানি সম্পদের মোট পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের অনাবাসিক সিনিয়র ফেলো ফ্রেডেরিক স্নাইডার বলেন, এই সম্পদের পরিমাণ ইরান হাইড্রোকার্বন বা জ্বালানি বিক্রি করে বছরে যা আয় করে তার প্রায় তিন গুণ।
তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত বিশাল অংকের অর্থ, বিশেষ করে এমন একটি সমাজের জন্য যারা দশকের পর দশক ধরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞার কবলে ধুঁকছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সম্পদগুলো অবমুক্ত করতে রাজিও হয়, তবে তা ব্যবহারের ওপর কোনো শর্ত জুড়ে দেবে কি না তা এখনো অস্পষ্ট।’ স্নাইডার বলেন, ‘ইরানের এই সম্পদের অত্যন্ত জরুরিভাবে প্রয়োজন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার বিশৃঙ্খল ইতিহাস এবং বিস্তারিত আলোচনার জন্য মার্কিন পক্ষের বিশেষজ্ঞের অভাবের কারণে ইরান এ ব্যাপারে সন্দিহান।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের বর্তমান সময়েও এই আলোচনা গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের ট্রেজারি সেক্রেটারি জ্যাকব লিউ ২০১৬ সালে বলেছিলেন, সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও ইরান বিদেশে আটকে থাকা তাদের সমস্ত সম্পদ ব্যবহার করতে পারবে না। সে সময় ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল।
লিউ কংগ্রেসকে বলেছিলেন, বাস্তবে ইরান বড়জোর তাদের আটকে থাকা সম্পদের অর্ধেক ব্যবহার করতে পারবে, কারণ বাকি অর্থগুলো আগেই বিভিন্ন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বা ঋণ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ হয়ে আছে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় তেহরানের মূল দাবি হলো, আস্থা তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে তাদের আটকে থাকা সম্পদের অন্তত ৬ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করতে হবে।
আটকে থাকা সম্পদ বা’ ফ্রোজেন অ্যাসেটস’ কী?
যখন কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি বা দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল, সম্পত্তি বা সিকিউরিটিজ অন্য কোনো দেশের কর্তৃপক্ষ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা সাময়িকভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়, তখন তাকে সম্পদ জব্দ বা’ ফ্রিজিং’ বলা হয়। নিষেধাজ্ঞা, আদালতের নির্দেশ বা অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক কারণে এটি মালিকের সেই সম্পদ বিক্রির ক্ষমতাকে সীমিত করে দেয়। আদালত, অন্য কোনো দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কোনো ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান এই সম্পদ জব্দ করতে পারে। সরকারিভাবে দেশগুলো দাবি করে, অন্য কোনো দেশ বা কোম্পানির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, মানি লন্ডারিং বা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে তারা সম্পদ জব্দ করে।
তবে সমালোচকেরা এই পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেন, এটি বেছে বেছে পশ্চিমের প্রতিদ্বন্দ্বীদের লক্ষ্য করে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বারবার মানবাধিকার লঙ্ঘন, অবৈধ যুদ্ধ এবং বর্ণবাদের অভিযোগ উঠলেও কোনো দেশই তাদের বিদেশি সম্পদ জব্দ করেনি। বিপরীতে ইরান, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, লিবিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং কিউবার মতো দেশগুলোর সম্পদ বিদেশি সরকারগুলো জব্দ করেছে। এই দেশগুলোর মধ্যে একটিই সাধারণ মিল রয়েছে—তারা সবাই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় মার্কিন আধিপত্যের বিরোধিতা করছে বা পানি ঘোলা করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।
কেন ইরানের সম্পদ জব্দ অবস্থায় রয়েছে?
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথি অনুযায়ী, ইরানি সম্পদ জব্দের প্রথম ঘটনাটি ঘটে ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার বলেছিলেন, ইরান ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি এবং অর্থনীতির জন্য এক অস্বাভাবিক ও চরম হুমকি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সে সময় ইরানি ছাত্ররা তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে ৬৬ জন আমেরিকান নাগরিককে জিম্মি করে রেখেছিল। তৎকালীন ট্রেজারি সেক্রেটারি উইলিয়াম মিলার সাংবাদিকদের জানান, তখন ইরানের তরল সম্পদ বা লিকুইড অ্যাসেটের পরিমাণ ছিল ৬ বিলিয়ন ডলারের কম, যার বড় অংশই ছিল নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ট্রেজারি নোট। ১৯৮১ সালে আলজিয়ার্স চুক্তির মাধ্যমে তেহরানে আটকে পড়া ৫২ জন আমেরিকান জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র এই সম্পদের একটি বড় অংশ ছেড়ে দেয়।
তবে পরবর্তী বছরগুলোতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অস্বস্তি বাড়তে থাকলে দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। ইরান সব সময়ই দাবি করে আসছে যে—তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি কেবল বেসামরিক জ্বালানি কাজে ব্যবহারের জন্য।
ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র বারবারই অভিযোগ করেছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা, বিশেষ করে ইউরোপ, ইরানের ওপর দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অথচ ইসরায়েল—যাদের মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ হিসেবে গোপন কর্মসূচির মাধ্যমে তৈরি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়—তাদের কোনো জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হয়নি।
এরপর, ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছায়, যা ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ নামে পরিচিত। এই চুক্তির অধীনে তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কমিয়ে আনতে রাজি হয় এবং এর ফলে বিদেশে থাকা তাদের অধিকাংশ সম্পদের ওপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। কিন্তু ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে এই চুক্তিকে ‘একপক্ষীয়’ আখ্যা দিয়ে একতরফাভাবে বেরিয়ে আসেন। তিনি ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন এবং দেশটির বিদেশি সম্পদ আবারও জব্দ করেন।
পরে, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি বন্দি বিনিময় চুক্তিতে সম্মত হয়। এর মাধ্যমে তেহরান পাঁচজন মার্কিন-ইরানি নাগরিককে মুক্তি দেয় এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকজন কারাবন্দি ইরানিকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি ইরানকে তাদের কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এই সম্পদ মূলত দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলারের তেলের পাওনা ছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী এই অর্থ তদারকির জন্য কাতারে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু পরের বছর, ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দোহায় থাকা এই সম্পদের ওপর ইরান আবারও নিয়ন্ত্রণ হারায়। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ আংশিকভাবে জব্দ করেছে। তাদের অভিযোগ—ইরান মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, পারমাণবিক চুক্তি মানছে না, সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে সহায়তা করছে।
কোন কোন দেশে ইরানের সম্পদ আটকে আছে?
ইরানের জব্দ করা সম্পদ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। যদিও প্রতিটি দেশে ঠিক কী পরিমাণ অর্থ আছে তা স্পষ্ট নয়, তবে ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে—চীনে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার, ভারত ৭ বিলিয়ন ডলার, ইরাকে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার, কাতারে ৬ বিলিয়ন ডলার (যা দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পাঠানো হয়েছিল), যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি জব্দ করা সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার, জাপানে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের লুক্সেমবার্গের মতো দেশগুলোতে প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।
সম্পদ ফিরে পাওয়া ইরানের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কয়েক দশকব্যাপী নিষেধাজ্ঞার ফলে তেল রপ্তানি সীমিত হয়ে পড়া ও বিদেশি বিনিয়োগ না আসায় ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি ও স্থানীয় মুদ্রা রিয়ালের মান কমে যাওয়ায় গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদপুষ্ট ‘সন্ত্রাসীরা’ এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র কিছু বিক্ষোভকারীকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল।
এই প্রেক্ষাপটে, জব্দ করা ১০০ বিলিয়ন ডলার ইরানের মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতির শিক্ষক রোকসানে ফারমানফারমাইয়ান বলেন, এই অর্থ ফিরে পাওয়া ইরানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে। এতে দেশটি তেলের পাওনা বিদেশি মুদ্রায় ফেরত এনে নিজের অর্থনীতিতে কাজে লাগাতে পারবে। মুদ্রার অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মতো বিক্ষোভের পরিস্থিতিও এড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের তেল ক্ষেত্র, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এই অর্থ দিয়ে দেশটি বিদেশি কোম্পানি ও নিজস্ব শিল্পখাতকে কাজে লাগিয়ে আধুনিকায়ন করতে পারবে। যুদ্ধের পর দেশ পুনর্গঠনেও এই অর্থ বড় ভূমিকা রাখবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চাঙ্গা করে দুর্নীতির লাগাম টানতে সাহায্য করবে।
ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ক্রিস ফেদারস্টোন মনে করেন, সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি একটি বড় কূটনৈতিক বার্তাও বহন করবে। এটি আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ কমার সংকেত হিসেবে দেখা যেতে পারে, যা ইরানের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর বাণিজ্য ও সম্পৃক্ততা বাড়াবে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক রাজনীতির অনিশ্চিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী পদক্ষেপ নেবে, তা বন্ধু বা শত্রু কারো পক্ষেই আগে থেকে আন্দাজ করা কঠিন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি সম্পদ, চাকরির প্রলোভন এবং শেষ মুহূর্তে প্রকল্প ঘোষণার মতো কৌশল ব্যবহার করেও শহুরে ভোটারদের মন জয় করতে পারেনি সরকার। ভোটাররা আবাসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মতো মৌলিক ইস্যুগুলোকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
১৫ ঘণ্টা আগে
২০১৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ‘ব্রেক্সিট’ গণভোটের ১০ বছর পর ব্রিটিশ রাজনীতি ও অর্থনীতি এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একসময় যে ব্রেক্সিটকে সার্বভৌমত্ব ও সমৃদ্ধির চূড়ান্ত চাবিকাঠি হিসেবে দেখা হয়েছিল, ২০২৬ সালের বাস্তবতায় তা এখন এক বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সাবেক লেবার এমপি রিচার্ড করবেটের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ
১৮ ঘণ্টা আগে
১১ এপ্রিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে স্বাগত জানান এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত করেন। ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর প্রথমবার সরাসরি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই আলোচনা হয়।
১ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত হচ্ছে এক মহাজাগতিক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট। ইরানের প্রধান বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ অবরোধ এবং চীনের জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে রাশিয়ার প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি বিশ্বরাজনীতিতে এক নতুন এবং বিপজ্জনক মেরুকরণের...
১ দিন আগে