Ajker Patrika

হরমুজ প্রণালিকে সচল করার ঘুঁটি হতে পারে চীন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
হরমুজ প্রণালিকে সচল করার ঘুঁটি হতে পারে চীন
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগরে এক চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির মুখে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা কীভাবে একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে পারে, তা নিয়ে লিখেছেন থিংকট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশ্লেষক ডেভিড এল গোল্ডউইন ও অ্যান্ড্রেয়া ক্ল্যাবো।

বিশ্বের সমুদ্রপথে মোট অপরিশোধিত তেলের ৩০ শতাংশেরও বেশি এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত এক সপ্তাহে এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ৭০ শতাংশ কমে গেছে। বিমাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে নির্ধারণ করছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই পথ এড়িয়ে চলছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর পর থেকে তেলের দাম ইতিমধ্যে ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে (পরে আবার কমে ১০০ ডলারের নিচে এসেছে)।

১৯৭০-এর দশকে আরব দেশগুলো তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল। তখন ১৯৭৪ সালে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এবং আমেরিকায় কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) তৈরি করা হয়েছিল। এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল সংকটের সময় বাজারকে আশ্বস্ত করা। আইইএর নিয়ম অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোকে অন্তত ৯০ দিনের তেলের মজুত রাখতে হয়।

ইতিহাস বলে, সঠিক সময়ে মজুত তেল ছাড়ার ঘোষণা না দিলে বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। ১৯৯০ সালের প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় আমেরিকা রিজার্ভ ব্যবহারে দেরি করায় তেলের দাম ১৪০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। ব্যবসায়ীরা যখন জানতে পারেন বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ আসছে না, তখন অনিশ্চয়তা থেকে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং দাম হু হু করে বাড়তে থাকে।

জ্বালানি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনকে এখন তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে। প্রথমত, ওয়াশিংটনকে অবিলম্বে আইইএর সঙ্গে বসে একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। বাজারকে এই বার্তা দিতে হবে যে যদি হরমুজ প্রণালি দ্রুত সচল না হয়, তবে সদস্য দেশগুলো আগামী ৬০ দিনের জন্য তাদের মজুত থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়বে।

দ্বিতীয়ত, বাজারকে আশ্বস্ত করা। তেলের বাজারের একটি সাধারণ নিয়ম হলো ‘Buy the rumor, sell the fact’ (গুজবে কেন আর বাস্তবতা বিক্রি করো)। অর্থাৎ, সরকার যদি শুধু তেল ছাড়ার ঘোষণাও দেয়, তবে বাস্তবে তেল বাজারে আসার আগেই দাম কমতে শুরু করবে।

তৃতীয়ত, কূটনৈতিক তৎপরতা। আইইএর বাইরে থাকা দেশগুলোকে, বিশেষ করে চীনকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে। চীন ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা এবং তাদের নিজস্ব বিশাল মজুত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল এশিয়ায় পৌঁছাতে না পারলে চীনের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাই তারা পর্দার আড়ালে এই সমন্বিত উদ্যোগে যোগ দিতে পারে।

সর্বোপরি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংকটের চরম মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। একটি দ্রুত এবং সমন্বিত প্রচেষ্টা হয়তো যুদ্ধ থামাতে পারবে না, কিন্তু এটি আকস্মিক মুদ্রাস্ফীতি রোধ করতে পারে এবং বিকল্প উৎস খুঁজে পাওয়ার জন্য বিশ্বকে কিছুটা সময় দেবে।

আটলান্টিক কাউন্সিল থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জামায়াতের মঞ্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি

নেতানিয়াহু নিহত বা গুরুতর আহত হওয়ার দাবি ইরানি গণমাধ্যমের, ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল

ইরান যুদ্ধ থেকে ‘প্রস্থানের পথ’ খুঁজছে ইসরায়েল

ইরানের স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধের দুর্বলতা ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের শক্তিমত্তা

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মানুষের ৪৭টি মাথার খুলি, বিপুল পরিমাণ হাড়সহ গ্রেপ্তার ৪

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত