
ইরানে সাম্প্রতিক গণআন্দোলন এবং তার পরবর্তী রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নে হাজারো মানুষ নিহত, আহত বা কারাবন্দী হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দেশটির ইসলামি শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সময়ে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপ—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার রাজনৈতিক মোকাবিলা কীভাবে সম্ভব।
ইরানি ভিন্নমতাবলম্বী চিন্তক আমির হোসেইন গঞ্জবাখশ মনে করেন, সরাসরি ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর বদলে ‘নেতৃত্ব পরিবর্তন’-এর পথটাই বেশি বাস্তবসম্মত। তাঁর মতে, ইরানের সমস্যার মূল কেন্দ্রে রয়েছে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার প্রতিষ্ঠান—‘ভেলায়াতে ফকিহ’। যত দিন এই ব্যবস্থা বহাল থাকবে, তত দিন ইরানে প্রকৃত সংস্কার, কিংবা ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক শাসনে রূপান্তর সম্ভব নয়।
গঞ্জবাখশ আরও বলেন, পশ্চিমা বিশ্বও এই কাঠামো টিকে থাকা অবস্থায় ইরানের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির অবসান আশা করতে পারে না। গত ৪৭ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ৯ জন প্রেসিডেন্ট নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সামরিক চাপ—সব ধরনের কৌশল প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু ইরানি শাসকগোষ্ঠী সবসময়ই উতরে গেছে।
গঞ্জবাখশের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র মূলত দুটি পরস্পরবিরোধী কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এর একটি হলো রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, যা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়। অন্যটি ‘ভেলায়াতে ফকিহ’, ধর্মের দোহাই নিয়ে ঈশ্বর প্রদত্ত নেতৃত্ব। এই দুটি কাঠামো আবার একসঙ্গে কাজ করতে পারে না। একটিকে কার্যকর করতে গেলে অন্যটি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ‘ভেলায়াতে ফকিহ’ বজায় রেখে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার যেকোনো চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
এর উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—ইরানের ‘ভেলায়াতে ফকিহ’ শক্তিশালী হওয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ, মোহাম্মদ খাতামি ও হাসান রুহানি ধীরে ধীরে রাজনীতি থেকে বাদ পড়েছেন। সাবেক প্রভাবশালী নেতা আলী রাফসানজানির মৃত্যু নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আর বিরোধী নেতা মির হোসেইন মুসাভি ও মেহদি কাররুবি বছরের পর বছর গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত ক্ষমতা ও ধর্মীয় বৈধতার মধ্যে এক ধরনের আপস থেকেই এই দ্বৈত কাঠামোর জন্ম হয়। যদিও শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্ব ঐতিহাসিকভাবে বিকেন্দ্রীভূত ছিল, তবু একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ নেতাকে রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে বসানো হয়। এর ফলেই ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’—এই স্লোগানগুলো শাসনব্যবস্থার স্থায়ী ভিত্তি হয়ে ওঠে।
গঞ্জবাখশের মতে, ইরানে এই ব্যবস্থার অবসান মানেই নতুন সংবিধান এবং কার্যত শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন। তা কেবল বিদেশি চাপ বা ক্ষমতাবানদের সমঝোতায় সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য এবং একটি সাংবিধানিক পরিষদের মাধ্যমে মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন।
এই লক্ষ্যেই একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন গঞ্জবাখশ। তিনি এটিকে বলেন ‘রেইনবো কোয়ালিশন’। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাসিত সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী নেতা মির হোসেইন মুসাভি একসঙ্গে এগিয়ে এলে আমলাতন্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর আস্থা যেমন পাওয়া যাবে, তেমনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও আশ্বস্ত হবে।
গঞ্জবাখশের ভাষায়, এই দুই প্রতীকের ঐক্যই ইরানকে ‘ভেলায়াতে ফকিহ’-নির্ভর দমবন্ধ করা শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্ত করার সবচেয়ে বাস্তব আশা।
ইকোনমিস্ট অবলম্বনে

পারস্য উপসাগরের কোনো ইরানি দ্বীপ দখলে যদি মার্কিন মেরিন ও প্যারাট্রুপারদের পাঠানো হয় তবে তারা কার্যত এক ‘লাইভ শুটিং গ্যালারি’তে ঢুকে পড়বে। যেখানে তাদের সরবরাহ লাইন থাকবে দুর্বল এবং কৌশলগত লক্ষ্যও থাকবে অস্পষ্ট। এই অবস্থায় প্রথম দিকে মার্কিন সেনারা স্রেফ কচুকাটা হবে। এমনটাই বলছেন সাবেক মার্কিন সামরিক
৬ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ‘জয়ী’ ঘোষণা করছেন, অপরদিকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। এই দ্বিমুখী তৎপরতা ইরান যুদ্ধে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
১ দিন আগে
ছাব্বিশ বছর আগে ইরাকের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যার ধাক্কা বাগদাদের সীমা পেরিয়ে বহুদূর পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তিনি ইরাকের তেল রপ্তানির মূল্য মার্কিন ডলারের বদলে ইউরোতে নির্ধারণের উদ্যোগ নেন। সে সময় অনেক পর্যবেক্ষক এটিকে একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতীকী
১ দিন আগে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়, বরং আধুনিক বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য এক মহাবিপৎসংকেত।
১ দিন আগে