তামান্না-ই-জাহান

পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার সীমিত রেখে আপাত শান্তি বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সর্বশেষ যে চুক্তি হয়েছিল, তার দশা যে খুব ভালো ছিল তা নয়; টানাপোড়েনের মধ্যেই ছিল। তবু যতটুকু আনুষ্ঠানিকতার দায় ছিল, তার কফিনে শেষ পেরেকটি বোধ হয় ঠুকতে যাচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিন।
গত মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত ‘পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি’ থেকে সরে আসার ঘোষণা দেওয়ার পর তেমন আশঙ্কাই করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁরা বলছেন, পুতিনের এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে পরমাণু অস্ত্রের প্রতিযোগিতা নতুন করে শুরু হতে পারে।
ওই চুক্তি হয়তো আর মেরামত করা যাবে না; তাতে ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি নতুন করে অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অর্ধশতক বছরের বেশি সময় ধরে চলা পরমাণু চুক্তির মতো স্থিতিশীল, পূর্বাভাসযোগ্য নতুন কোনো চুক্তির রূপরেখায় কোনো পক্ষই আস্থা রাখতে পারে না।
বিশ্বের দুই শীর্ষ পরমাণু অস্ত্রধারী দেশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নামে ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তিটি স্বাক্ষর হয় ২০১০ সালে। পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার সীমিত করার এই চুক্তি এর মধ্যেই অনেকটা সংকটে ছিল। পুতিনের ঘোষণার ফলে চুক্তিটি ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, পরমাণু চুক্তি স্থগিত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার অর্থনৈতিক-কূটনৈতিক সূক্ষ্ম হিসাবনিকাশ আরও জটিল হয়ে উঠবে। এর সঙ্গে পরমাণু শক্তিধর চীন, ভারত ও পাকিস্তান নতুন করে পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে উৎসাহ পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির অংশগ্রহণ স্থগিতের সুযোগ কোনো পক্ষেরই নেই, একমাত্র উপায় চুক্তি থেকে সরে আসা। চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণার ভাষণে পুতিন বলেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পরমাণু অস্ত্র বিবেচনায় নিলেই কেবল তিনি আলোচনায় বসবেন। তবে তাঁর এ শর্তের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের কৌশল, প্রযুক্তি ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণবিষয়ক পরিচালক উইলিয়াম আলবার্ক বলেন, ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া, কিন্তু দেশটি দায় চাপাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর।
টেলিফোনে এক সাক্ষাৎকারে রয়টার্সকে আলবার্ক বলেন, ‘চুক্তি যে আর টিকছে না, তা নিয়ে হিসাবনিকাশ করে ফেলেছে রাশিয়া। এখন চেষ্টা থাকবে প্রকৃত ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার।’
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার ওয়ারহেড মোতায়েনের সংখ্যা দেড় হাজার বেঁধে দেয় ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তি। এ থেকে সরে আসার পর ওয়ারহেডের সংখ্যা ৪ হাজার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করেন আলবার্ক। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্ট জানায়, রাশিয়ার কাছে পরমাণু ওয়ারহেড আছে ৫ হাজার ৯৭৭টি, আর যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে ৫ হাজার ৪২৮টি।
২০১০ সালে ‘নিউ স্টার্ট’ নামের দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষর করে বিশ্বের দুই শীর্ষ পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ও বারাক ওবামা। বাইডেন ক্ষমতা নেওয়ার পর ২০২১ সালে চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানো হয়।
চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক বোমাবাহী বিমান মোতায়েন সীমিত করা হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে অনূদিত

পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার সীমিত রেখে আপাত শান্তি বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সর্বশেষ যে চুক্তি হয়েছিল, তার দশা যে খুব ভালো ছিল তা নয়; টানাপোড়েনের মধ্যেই ছিল। তবু যতটুকু আনুষ্ঠানিকতার দায় ছিল, তার কফিনে শেষ পেরেকটি বোধ হয় ঠুকতে যাচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিন।
গত মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত ‘পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি’ থেকে সরে আসার ঘোষণা দেওয়ার পর তেমন আশঙ্কাই করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁরা বলছেন, পুতিনের এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে পরমাণু অস্ত্রের প্রতিযোগিতা নতুন করে শুরু হতে পারে।
ওই চুক্তি হয়তো আর মেরামত করা যাবে না; তাতে ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি নতুন করে অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অর্ধশতক বছরের বেশি সময় ধরে চলা পরমাণু চুক্তির মতো স্থিতিশীল, পূর্বাভাসযোগ্য নতুন কোনো চুক্তির রূপরেখায় কোনো পক্ষই আস্থা রাখতে পারে না।
বিশ্বের দুই শীর্ষ পরমাণু অস্ত্রধারী দেশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নামে ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তিটি স্বাক্ষর হয় ২০১০ সালে। পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার সীমিত করার এই চুক্তি এর মধ্যেই অনেকটা সংকটে ছিল। পুতিনের ঘোষণার ফলে চুক্তিটি ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, পরমাণু চুক্তি স্থগিত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার অর্থনৈতিক-কূটনৈতিক সূক্ষ্ম হিসাবনিকাশ আরও জটিল হয়ে উঠবে। এর সঙ্গে পরমাণু শক্তিধর চীন, ভারত ও পাকিস্তান নতুন করে পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে উৎসাহ পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির অংশগ্রহণ স্থগিতের সুযোগ কোনো পক্ষেরই নেই, একমাত্র উপায় চুক্তি থেকে সরে আসা। চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণার ভাষণে পুতিন বলেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পরমাণু অস্ত্র বিবেচনায় নিলেই কেবল তিনি আলোচনায় বসবেন। তবে তাঁর এ শর্তের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের কৌশল, প্রযুক্তি ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণবিষয়ক পরিচালক উইলিয়াম আলবার্ক বলেন, ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া, কিন্তু দেশটি দায় চাপাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর।
টেলিফোনে এক সাক্ষাৎকারে রয়টার্সকে আলবার্ক বলেন, ‘চুক্তি যে আর টিকছে না, তা নিয়ে হিসাবনিকাশ করে ফেলেছে রাশিয়া। এখন চেষ্টা থাকবে প্রকৃত ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার।’
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার ওয়ারহেড মোতায়েনের সংখ্যা দেড় হাজার বেঁধে দেয় ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তি। এ থেকে সরে আসার পর ওয়ারহেডের সংখ্যা ৪ হাজার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করেন আলবার্ক। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্ট জানায়, রাশিয়ার কাছে পরমাণু ওয়ারহেড আছে ৫ হাজার ৯৭৭টি, আর যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে ৫ হাজার ৪২৮টি।
২০১০ সালে ‘নিউ স্টার্ট’ নামের দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষর করে বিশ্বের দুই শীর্ষ পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ও বারাক ওবামা। বাইডেন ক্ষমতা নেওয়ার পর ২০২১ সালে চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানো হয়।
চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক বোমাবাহী বিমান মোতায়েন সীমিত করা হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে অনূদিত

দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়। এটি কার্যত একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক হাতিয়ার। বহু দশক ধরে এই খেলা উপমহাদেশের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিমাপের এক নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে কাজ করেছে। আনুষ্ঠানিক কূটনীতি যখন অচল হয়ে পড়ে, তখনো ক্রিকেট অঞ্চলটিকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে।
১১ ঘণ্টা আগে
গত বছরের শেষ দিকে ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটি আবারও দেশব্যাপী অস্থিরতার কবলে পড়ে। অর্থনৈতিক চাপ, মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের পর তৈরি হওয়া গভীর রাজনৈতিক অবসাদের এক সংমিশ্রণ থেকে এই অসন্তোষের সূত্রপাত। এই অস্থিরতা মোটেও স্বতঃস্ফূর্ত বা সম্পূর্ণ অপ্র
১৭ ঘণ্টা আগে
বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রস্তাবে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছে কেবল হাঙ্গেরি—যার প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ইউরোপসহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
১ দিন আগে
শীর্ষস্থানীয় এক অর্থনৈতিক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে গত বৃহস্পতিবার বলা হয়, ১২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, কোনো দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সব ধরনের বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
১ দিন আগে