প্রাচীন ভারতের ভাববাদী দার্শনিকদের কথা ছেড়ে দাও, বস্তবাদীদের কথাই ভাবো। অজিত কেসকম্বল, পুরন্দর, অবিদ্ধকর্ণ, উদ্ভটভট্ট—এমন কয়েকজনের নাম করা যায়। স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়ে এঁদের কথা থাকে না, শুধু চার্বাক নামটা থাকে। তাই লোকে এঁদের বিষয়ে জানতেও পারেন না। কিন্তু ব্যক্তি হিসেবেই এঁরা চিরস্মরণীয়। বস্তুবাদের ক্ষীণ শিখাটিকে এঁরাই লালন করেছিলেন।
গত শতকে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেকের ভূমিকায় দেখা দিয়েছিলেন রোম্যাঁ রোলাঁ, বারট্রান্ড রাসেল, জ্যাঁ পল সার্ত্র প্রভৃতিকে। গত শতকের শেষ থেকে এখনো সেই ভূমিকায় আছেন নোম চমস্কি। তারা যে মাপের লোক, তাদের প্রভাব পড়ে সেই মাপে। কথাটা হলো: যা ঠিক, সেই নিয়ে তুমি ঠিক কথা বল কি না। যদি দশজনও তোমার কথা শোনেন, তাঁরা যে সবাই সেই মুহূর্তে তোমার সঙ্গে একমত হবেন—এমন আশা করো না। কিন্তু ঠিক কথাটা ঠিক সময়ে বলা দরকার। আর লেগে থাকা চাই। তবে ব্যক্তি হিসেবে, খুব ছোট গণ্ডির ভেতরে, তোমার কথা কিছু লোকের কাছে গ্রাহ্য হবে।
আর একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ‘মান্থলি রিভিউ’র সম্পাদক পল সুইজির কথা বলতে চাই। দম কাকে বলে, তা সুইজির কাছ থেকে শেখা যায়। ১৯৪৮ সালে যখন তাঁর বয়স ৩৮, তিনি এ মাসিক পত্রিকাটি বের করলেন।
তারপর প্রতি মাসে নিয়ম করে কাগজটা চালিয়ে গেলেন ৫৬ বছর পর্যন্ত। ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা গেলেন। বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। প্রথমে তাঁর পত্রিকার গ্রাহক ছিলেন আড়াই হাজার। এখনো সাত হাজারের মতো গ্রাহক আছেন। ১৯৭৭ সালে গ্রাহক ছিলেন সবচেয়ে বেশি, প্রায় বারো হাজার। চমস্কির মতো বিরাট প্রচার পাননি সুইজি। কিন্তু সাচ্চা মানুষ সাচ্চা কাজ করে গেছেন।
বাঙলায় কোনো কাগজ বার করলে হয়তো পাঁচ শর বেশি কাটতি হবে না। কিন্তু খদ্দেরের লোভে কোনো আপসে যেও না। সুইজির কাছে এটাও একটা শেখার জিনিস—পত্রিকার মান যেন কখনো না নামে।
তথ্যসূত্র: নিজের মুখোমুখি, রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য, পৃষ্ঠা ১৩-১৪

‘দ্বিতীয় লিঙ্গ’ বইয়ের শেষ ভাগে বলেছিলাম, আমি নারীবাদী নই। কারণ আমি তখন বিশ্বাস করতাম যে সমাজতান্ত্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়েদের সমস্যার সমাধান হবে। নারীবাদী অভিধাটির দ্বারা আমি তখন বোঝাতে চেয়েছিলাম, শ্রেণি-সংগ্রাম নিরপেক্ষভাবে শুধুই সুনির্দিষ্ট নারী ইস্যুতে সংগ্রাম করা।
৯ ঘণ্টা আগে
এপ্রিল মাসের প্রথম দিনটি বিশ্বজুড়ে ‘এপ্রিল ফুলস ডে’ হিসেবে পরিচিত। এ দিনে অনেকেই কাছের বা পরিচিত মানুষকে বোকা বানিয়ে মজা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এপ্রিলের প্রথম দিনটি কীভাবে বোকা বানানোর দিন হলো? এ নিয়ে মার্কিন সাময়িকী ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
৩ দিন আগে
’৭১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারী অস্ত্রশস্ত্রসহ ১০ হাজার টন যুদ্ধসামগ্রী নিয়ে পাকিস্তানি জাহাজ এমভি সোয়াত চট্টগ্রামে এসে পৌঁছায়। সেনাবাহিনীতে চাকরি করার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বুঝতে পারি যে, এই জাহাজ পাকিস্তান থেকে রওনা দেওয়ার আগে অন্তত এক মাস সময় লেগেছে বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিতে, সমরাস্ত্রগুলোকে...
৭ দিন আগে
একটা সময় বিমানবন্দর অফিসার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী। কিন্তু পরে যোগ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মেজর হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন কুষ্টিয়ায়। অপারেশন সার্চলাইটের খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার ঘাঁটিতে পৌঁছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।
৮ দিন আগে