আমরা একটা গিভেন পয়েন্ট অব টাইমে বাস করছি। আজকে যে মানুষের জীবন, পাঁচ হাজার বছর আগের কোনো ইতিহাস নেই। পাঁচ হাজার বছর পরেও কোনো ইতিহাস থাকবে না। [পাঁচ হাজার বছর আগে লেখে নাই কেন?] লিখে রাখার প্রয়োজনীয়তা ফিল করেনি। ইতিহাস লেখার সঙ্গে একটা সাবজেক্টিভ আইডিয়া যুক্ত আছে। ‘ইতিহাস’ কথাটা যখনই উচ্চারণ করবা, তখনই তার সঙ্গে একটা সাবজেক্টিভ আইডিয়া যুক্ত আছে।
আইডিয়াটা হচ্ছে, ‘আমরা অন্যদের চাইতে আলাদা’, ‘আমাদের কথা লিখে রাখতে হবে’। মানবজাতিটাই এলিটিজমের মধ্যে নিমজ্জিত। আমরা যে গ্রেকো-রোমান হিস্ট্রি বলি, এটা হচ্ছে গ্রিক ইগোর ফল। মানুষ তখনই ইতিহাস লেখে...রবিঠাকুর যখন রবিঠাকুর হন, তখন তাঁর অটোবায়োগ্রাফি লেখতে গেলে তেরো পুরুষের বর্ণনা দেওয়া লাগে। বুঝেছ? যে লোক রবিঠাকুর হয়নি, সে অটোবায়োগ্রাফিও লেখে না, তেরো পুরুষকেও টেনে আনে না। আজকে যে মানুষের জীবন, পাঁচ হাজার বছর আগের কোনো ইতিহাস নেই। পাঁচ হাজার বছর পরেও কোনো ইতিহাস থাকবে না...।’
এই যে সাবজেক্টিভনেস, এটা হচ্ছে মানুষের একটা বিশেষ গুণ। আমি এইখানে পাঁচতলায় দাঁড়িয়ে যে আকাশ দেখি, তখন আকাশের চারপাশে যতটা গোল দেখি, নিচের তলায় দাঁড়ালে সে গোলটা আরও সংকুচিত হয়ে আসে। তুমি যত ওপরে উঠবে, বলয়টা তত বাড়বে। মানুষের জীবনকে ঘিরে চারপাশে কতগুলো আঁধার, কতগুলো আলো থাকে। যেখানে আমি নিজের চোখে দেখি না, অনুভব করি না, সেখানে সভ্যতা নেই।
মনে না করার উপায় নাই, আমাদের যা আছে, তা হলো সভ্যতা, আর আমরা যা, তা-ই হলো সংস্কৃতি। সংস্কৃতি-সভ্যতা সবই হচ্ছে মানুষের অস্তিত্বের বিস্তার...আমি তো সবার লেখা পড়ি। আমি লেখা পড়ি প্রাণের বিকাশ দেখার জন্য।
তথ্যসূত্র: আশীষ খন্দকার ও ব্রাত্য রাইসুর গ্রহণ করা আহমদ ছফার সাক্ষাৎকার, প্রথম আলোয় পুনঃপ্রকাশিত, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

কুমিল্লা শহরে ১৯১২ সালে শিক্ষানুরাগী মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য প্রতিষ্ঠা করেন রামমালা পাঠাগার। শতাধিক বছরের এই পাঠাগারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, এখানকার পুঁথি বিভাগে সংরক্ষিত আছে লালসালু মোড়ানো আট হাজারের বেশি প্রাচীন পুঁথি। তাই পাঠাগারটিকে পুঁথির জাদুঘর বলাই যায়।
২ দিন আগে
বরফে ঢাকা অ্যান্টার্কটিকা। চারপাশে তুষার আর পাহাড়, আশেপাশে নেই কোনো সঙ্গী, শুধু নিস্তব্ধতা। এরই মাঝে ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছে দলছুট এক পেঙ্গুইন। তাঁর গন্তব্য সাগরে নয়, বরং উল্টো দিকে, বরফে ঢাকা পাহাড়ের দিকে।
৪ দিন আগে
প্রাচীন ভারতের ভাববাদী দার্শনিকদের কথা ছেড়ে দাও, বস্তবাদীদের কথাই ভাবো। অজিত কেসকম্বল, পুরন্দর, অবিদ্ধকর্ণ, উদ্ভটভট্ট—এমন কয়েকজনের নাম করা যায়। স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়ে এঁদের কথা থাকে না, শুধু চার্বাক নামটা থাকে। তাই লোকে এঁদের বিষয়ে জানতেও পারেন না। কিন্তু ব্যক্তি হিসেবেই এঁরা চিরস্মরণীয়।
৮ দিন আগে
করতোয়া নদীর পশ্চিম তীর ঘেঁষে বগুড়া শহরে নবাব প্যালেসের অবস্থান। ১৯৯৮ সালে এটি নবাব মোহাম্মাদ আলী প্যালেস মিউজিয়াম অ্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক হিসেবে এর বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করে। নবাববাড়ির পুরোনো প্রাসাদটি বিশাল এক জাদুঘর। বাড়ির আঙিনায় ও প্রাসাদের ভেতর নান্দনিক সব ভাস্কর্য, যেগুলো মূলত...
৯ দিন আগে