গল্পটা এক রাষ্ট্রনায়কের। আবার বিখ্যাত এক অভিনেতারও। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪০তম প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান। আজকের এই দিনে অর্থাৎ ১৯১১ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে আসেন তিনি।
উত্তর-পশ্চিম ইলিনয়ের ছোট্ট এক শহর টামপিকোতে জন্ম রিগ্যানের। তাঁর পরিবার দরিদ্র হলেও পরে রিগ্যান বলেছিলেন চমৎকার একটি শৈশব কাটিয়েছিলেন। স্কুল ও কলেজে পড়ার সময় নিয়মিত ফুটবল খেলেন তিনি। যখন স্নাতক করেন, তখন অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চাকরির বাজারের অবস্থা মোটেই ভালো নয়।
লোয়ার একটি রেডিওতে কাজ শুরু করলেন তিনি। ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার ধারাভাষ্য দিতেন। এরই মধ্যে পরিচিত একজনের মাধ্যমে হলিউডের এক এজেন্টের সঙ্গে আলাপ হলো। ১৯৩৭ সালে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সঙ্গে সাত বছরের এক চুক্তি করলেন, সপ্তাহে ২০০ ডলার সম্মানীতে। তাঁর প্রথম ছবি মুক্তি পায় ১৯৩৭ সালে। ‘লাভ ইজ অন দ্য এয়ার’ নামের কম বাজেটের ছবিটিতে একজন রেডিও রিপোর্টারের ভূমিকায় অভিনয় করেন।
তবে কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁকে পরিচিত করে তোলে এমন একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যান। নুটে রকনি, অল আমেরিকান নামের ছবিটিতে নটর ডেমের ফুটবল খেলোয়াড় জর্জ গিপের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। কিংবদন্তি নটর ডেম কোচ নুটে রকনির (অভিনয় করেন পেট ব্রায়ান) জীবন তুলে ধরা হয় চলচ্চিত্রটিতে। ১৯৩১ সালে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় মারা যান রকনি। তারকা খেলোয়াড় গিপ মারা গিয়েছিলেন গলার ইনফেকশনে। মোট ৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন রোনাল্ড রিগ্যান।
১৯৪৮ সালে প্রথম স্ত্রী অভিনেত্রী জেন ওয়াইম্যানের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয় রিগ্যানের। ১৯৫২ সালে আরেক অভিনেত্রী ন্যান্সি ডেভিসকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের দুটি সন্তান হয়, প্যাট্রিসিয়া ও রোনাল্ড। রিগ্যান ও ওয়াইম্যানেরও একটি মেয়ে সন্তান ছিল আগে থেকেই, মৌরিন। ন্যান্সি রিগ্যান পরে রাজনৈতিক কর্মজীবনে স্বামীর খুব আস্থাভাজন এবং উপদেষ্টা হয়ে ওঠেন।
যদিও হলিউডের বছরগুলোতে একজন নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট ছিলেন, ১৯৬২ সালে রাজনৈতিক পরিচয় বদলে রিপাবলিকানে পরিণত হন। ১৯৪১ সালে মুক্তি পাওয়া কিংস রো চলচ্চিত্রে ছোট্ট শহরের এক হিরোর ভূমিকায় অভিনয় করেন, যাঁর এক পা কাটা পড়েছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হওয়ার জন্য ভোটে দাঁড়ানোর আগে ১৯৬৫ সালে বাজারে আসা তাঁর প্রথম আত্মজীবনীর নাম হিসেবে ছবিটির একটি সংলাপ ব্যবহার করেন, ‘হয়্যার’স দ্য রেস্ট অব মি?’
পরের বছর রিগ্যান ক্যালিফোর্নিয়ার সে সময়কার গভর্নর প্যাট ব্রাউনকে প্রায় দশ লাখ ভোটে পরাজিত করে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের পথে এক ধাপ এগিয়ে যান।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হিসেবে দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭৬ সালে রিপাবলিকান পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট পদে লড়াইয়ের জন্য টিকিট চান। তবে প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের কাছে হেরে যান। ১৯৮০ সালে রিগ্যান রিপাবলিকানদের মনোনয়ন লাভ করেন এবং জিমি কার্টারকে পরাজিত করে আমেরিকার ৪০তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
৬৯ বছর বয়সে রিগ্যান যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন, তখন তিনি মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট। মানুষের মধ্যে আশা জাগিয়ে তোলার পাশাপাশি সাফল্যের সঙ্গে বিভিন্ন বিপর্যয় মোকাবিলা করেছিলেন রিগ্যান। তাঁর পররাষ্ট্রনীতি ইরান-কন্ট্রা নীতির কারণে সমালোচিত হলেও স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি এবং ১৯৮০-র দশকের শেষের দিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক শুরু হওয়ার পর এর অনেকটাই পুনরুদ্ধার হয়।
১৯৮৮ সালে হোয়াইট হাউস তাঁর অনুগত ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের হাতে রেখে জনপ্রিয়তা বজায় রেখেই বিদায় নিতে সক্ষম হন রিগ্যান। ছয় বছর পরে, রিগ্যান সবাইকে চমকে দিয়ে জানান তিনি আলঝেইমারে (স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায় যে রোগে) আক্রান্ত। ২০০৪ সালের ৫ জুন ৯৩ বছর বয়সে মারা যান রোনাল্ড রিগ্যান।

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগোতে একধরনের স্থানীয় বেগুনগাছ আছে, যার পাতার স্বাদ অনেকটা পালংশাকের মতো। একে বলা হয় বোমা। এই বোমাপাতা দিয়ে টোগোবাসী গরুর মাংসের একটি তরকারি রান্না করে। পদটির নাম বোমা দেসি। টোগোর দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় এই রান্নার উৎপত্তি হলেও বর্তমানে এটি সারা দেশে একটি পছন্দের...
৮ দিন আগে
জাম্বিয়ার গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষ ঐতিহাসিকভাবেই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বাড়ির আঙিনায় বা খামারে তারা প্রচুর পরিমাণে কুমড়াপাতা, মিষ্টি আলুর পাতা এবং স্থানীয় শাকসবজি চাষ করত। এসব শাক-পাতা দিয়ে তারা রান্না করে ইফিসাশি। মূলত জাম্বিয়ার উত্তরাঞ্চলের বেম্বা উপজাতির ঐতিহ্যবাহী খাবার এটি।
১৫ দিন আগে
হাঁস রোস্ট করার সবচেয়ে প্রথম লিখিত উল্লেখ পাওয়া যায় চীনের উত্তর ও দক্ষিণ রাজবংশের সময়কালের একটি রান্নার বইয়ে। ১২৭১ সালে মঙ্গোল নেতা কুবলাই খান যখন ইউয়ান রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন, তখন এই খাবারটি রাজকীয় খাদ্যতালিকার অংশ হয়ে ওঠে।
২২ দিন আগে
একসময় শিক্ষাকে একটি ফুটো পাত্র আকারে দেখা হতো, যেখানে হয়তো একজন পানি দিচ্ছে কিংবা কেউ শিক্ষাকে মন্ত্র হিসেবে দেখছেন; যার জোরে যে কেউ তাঁর নিজের মতো করে জ্ঞানের রাজ্যে হাঁটতে পারেন। ‘অন্বেষণ ও সৃষ্টি’র পথে নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত থেকে উন্নততর করে তুলতে পারেন। ওই ধারার শিক্ষার কথা বলছেন ভনহাম বোল্ডট।
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬