
এ কথা বলা বেশ কঠিন যে, এ দেশের সাধারণ মানুষ খুব সহজেই ভালোর দেখা পেয়েছে কিংবা ভালোয় বসবাস করেছে নির্বিঘ্নে, যা তার ও তাদের জীবনকে করেছে নিরাপদ। নিরাপদ না হলেও, ভালোভাবে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা না দেখলেও সাধারণ মানুষ ভালোর পক্ষেই তার অবস্থানকে প্রতীয়মান করেছে বারংবার, ভালোটাই দেখতে চেয়েছে, পেতে চেয়েছে।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, সাধারণ মানুষ ভালোর সন্ধান পায়নি ভালোকে মনে-প্রাণে চেয়েও, প্রার্থনা করেও এক দিন নয়, বহুদিন সেই আশাহতের ঘটনা। সাধারণ মানুষ বোকা বনে গেছে তখনই, যখন তাদের বোকা ভাবা হয়েছে। বোকা থাকতে থাকতে অতিচালাক হয়ে উঠলেও সাধারণ মানুষ তার, তাদের জীবনের পরিবর্তন কখনোই আনতে পারেনি। তার অন্যতম কারণ, যারা সাধারণ তারা কখনোই অসাধারণ হতে চায় না, চায়নি। যে অসাধারণত্ব ক্ষমতাবলে, ক্ষমতার মোহে কেউ কেউ কিংবা অনেকেই অর্জন করেছে, করছে।
কেমন ভালো থাকতে চান—এমন একটা প্রশ্নের জবাব সাধারণ মানুষ খুব সহজেই দেবে। একটা শ্রেণির জবাব হবে, ‘দুবেলা খেয়েপরে, ছেলেমেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ বানিয়ে সুস্থভাবে ও নিরাপদে থাকতে চাই। এই নিরাপত্তা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে—দুভাবেই হতে হবে। তা ছাড়া রাষ্ট্রের যেসব সেবামূলক প্রতিষ্ঠান জনগণের রাজস্বে চলে, সেখান থেকে সব অধিকার বিনা প্রতিবন্ধকতায় ভোগ করতে চাই। কোনো ধরনের প্রতিহিংসা, প্রতিশোধপরায়ণতা দেখতে চাই না।’ আরেক শ্রেণি হয়তো বলবে, ‘সব ধরনের নাগরিক অধিকার ভোগসহ সংবিধানসম্মতভাবে একজন নাগরিক তার ন্যায্য মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবে, সংস্কৃতির চর্চা করবে, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে পারবে—এটাই হলো ভালো থাকা।’ আইনের যথাযথ প্রয়োগ তারা দেখতে চায়।
একজন রিকশাচালক চাইবেন আয় অনুযায়ী ব্যয়ের সামর্থ্য থাকুক। এবং তাঁর জীবনে আরও সচ্ছলতা আসুক। সন্তানকে নিয়ে তারও একটা স্বপ্ন থাকে, সেই স্বপ্ন সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখার। নিজের মানবমর্যাদা পাওয়ার। একজন রিকশাচালক কখনোই বৈমানিক হওয়ার চিন্তা করেন না, স্বপ্ন দেখেন না। কিন্তু তিনি স্বপ্ন দেখেন তাঁর সন্তান বৈমানিক হবে, একজন ভালো মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে অন্য সবার মতো। যাঁরা শ্রমজীবী মানুষ, তাঁরা অতিরিক্ত কোনো কিছুই পেতে চান না। যতটুকু না হলেই নয়, ততটুকুই চান। বেশি চাওয়াদের সঙ্গে অল্প চাওয়াদের জীবনাচরণে ব্যাপক ফারাক থাকে। বেশি চাহিদাবাজেরা আবার অল্প চাহিদাপ্রত্যাশীদের শোষণ-শাসন করে সহায়তার নামে, মানবতার ব্যানারে। বিচক্ষণ ব্যক্তিরাই কেবল তা অনুধাবন করতে পারেন। যাই হোক, প্রকৃত মানুষ মাত্রই ভালোর পক্ষে থাকে, ভালোয় বসবাস করে।
অনেক সময়, অনেক ক্ষেত্রে ভালোর সংজ্ঞা নিরূপণ হয় ব্যক্তি, গোষ্ঠীর চেতনার ওপর দাঁড়িয়ে। যে ব্যক্তির গোষ্ঠী প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর, তিনি বা তাঁরা যাই-ই বলেন, সেটাই সমাজে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। অর্থাৎ, সমাজ ক্ষমতাধরদের চেতনায় চলে। চলতে অভ্যস্ত হয় অনেকটা বাধ্যবাধকতায়। সেই চেতনা ভালো হোক কিংবা মন্দ। ক্ষমতাধরদের ভালো বা মন্দ চিন্তার, বিশ্লেষণের প্রয়োজন পড়ে না। যা করেন, সেটাই ভালো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। দুঃখজনক ঘটনা হলো, সাধারণ মানুষের অধিকাংশই দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত। যাদের সব ধরনের পরিবেশ, পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। ধনীদের আরও ধনী হওয়ার রেকর্ড যেমন আছে, দরিদ্রদের আরও দরিদ্র হওয়ার রেকর্ডও আছে। এর নেপথ্যের ঘটনা কেউ গভীরভাবে দেখে না। দেখার প্রয়োজন বোধ করে না। সবাইকে সন্তুষ্ট করে রাখার চেষ্টা চলে। এমনটাই চলে এসেছে যুগ যুগ ধরে।
অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতার পরও সাধারণ মানুষ সহনশীল পরিবেশ চায়। প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা সাধারণ মানুষের হিসাবে নেই। সাধারণ মানুষের এহেন বিনয়ী স্বভাবকে ব্যবহার করে স্বার্থবাদী শ্রেণি। তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে নিজেদের ফায়দা লোটে। তারা বন্ধু সাজে। বন্ধুত্বের বেশে নিজেদের আখের গোছায়। এটা সত্য যে, সোজা-সরল মানুষকে ঠকানো সহজ। কারণ, তারা অন্যকে বিশ্বাস করতে শেখে, অন্যকে নিজের থেকেও বেশি বিশ্বাস করে। এখানেই সে ধরা খায়। বিশ্বাস হয়ে ওঠে বিষফোড়া। সমাজে বিশ্বাস এক বহুল ব্যবহৃত পোশাক, যা কমবেশি সবাই পরিধান করে। সময়মতো আবার তার নকশা পরিবর্তন করে। এই কাজটা বেশি হয় চতুর শ্রেণিতে।
ভালো কথা বলার মানুষ কিন্তু কমে আসছে দিনে দিনে। যা শোনা যায়, তা পুনরাবৃত্তি এবং নতুন ভঙ্গিতে। ভেতরে আলো নেই, অথচ আলোর মতো একটা কিছু চোখে লাগে। তাই দেখেই মানুষ আলোর স্বপ্ন দেখে, আলোকিত হতে চায়। অন্যান্য প্রাণীর চেয়ে মানুষের আবেগ বেশি বলেই হয়তো মানুষ অল্পতেই স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। এটা তার দোষ নয়, সহজাত প্রবৃত্তি।

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫