ভারতের ১৮তম লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হবে আজ মঙ্গলবার। টানা ৪৪ দিন ধরে চলা সাত ধাপের ভোট শেষে ফলাফল ঘোষণা হতে যাচ্ছে আজ। এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ভারতের প্রায় ৬৪ কোটি মানুষ। বুথফেরত জরিপ বলছে, নরেন্দ্র মোদির বিজেপির নেতৃত্বে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স বা এনডিএ টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তবে বিরোধীরা বারবার বলছেন, এবার তারাই জিতবেন।
তবে যে বা যারাই জিতুক না কেন, সেখানে ব্যবধান গড়ে দেবে ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্য। আর সেগুলো হলো—বাংলাদেশ সংলগ্ন ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, বিহার, তেলেঙ্গানা, ওডিশা, অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক ও উত্তর প্রদেশ। এ ছাড়া, বিজেপি ভারতের দক্ষিণের অন্যান্য রাজ্যে কতটা ভালো করে, তারা ওপরও অনেক কিছুই নির্ভর করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ
এই রাজ্যে ৪২টি লোকসভা আসন আছে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ২২টি আসন, যা ২০১৪ সালের নির্বাচনের চেয়ে ১২টি কম। বিপরীতে ২০১৪ সালে মাত্র দুটি আসনে জেতা বিজেপি ২০১৯ সালে পেয়েছিল ১৮টি আসন।
সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনের আগে ও নির্বাচন চলাকালে মোদি বেশ কয়েকবার পশ্চিমবঙ্গ সফর করেছেন। এ থেকেই বোঝা যায় তাঁর দল বিজেপি পশ্চিমবঙ্গকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এ ছাড়া, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাজ্যটির বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি যদি লোকসভায় ভালো ফলাফল করে, তবে তা সেই নির্বাচনেও প্রভাব ফেলবে।
বুথফেরত জরিপ অবশ্য বলছে, এই রাজ্যে বিজেপিই এগিয়ে থাকবে। তবে বুথফেরত জরিপ যা-ই বলুক না কেন, বিরোধী জোট ইন্ডিয়া এই রাজ্যে ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী। তৃণমূল কংগ্রেস তো বটেই, এই রাজ্যে জয় ইন্ডিয়া জোটের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
মহারাষ্ট্র
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ও স্থানীয় রাজনৈতিক দল শিবসেনা মিলে ৪৮টি আসনের মধ্যে ৪১ টিতে জিতেছিল। তবে এবার শিবসেনা দুই ভাগে বিভক্ত। একাংশ অবশ্যই বিজেপির সঙ্গে আছে। কিন্তু অপর অংশ যোগ দিয়েছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটে। ফলে জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না, এই রাজ্যে কোন শিবসেনা বিজয়ী রূপে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।
শারদ পাওয়ারের ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টিও দুই ভাগে বিভক্ত। একাংশ বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার সঙ্গে, অপরাংশ বিজেপির জোটে। ফলে, এনসিপির কোন অংশ ভোটে প্রাধান্য বিস্তার করবে, তা জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। হিন্দুপ্রধান এই রাজ্যে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া যদি ভালো ফলাফল করতে পারে, তবে তা বিজেপির জোটের বিরুদ্ধে তাদের অনেকাংশেই এগিয়ে দেবে। অধিকাংশ বুথফেরত জরিপ বলছে, এবারের নির্বাচনে বিজেপি জোটের আসনসংখ্যা কমতে পারে এই রাজ্যে।
ওডিশা
বিজেপি এবারের নির্বাচনে বিজু জনতা দলের ঘাঁটি বলে পরিচিত ওডিশায়ও ভালো ফলের আশা করছে। এর আগে ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজু জনতা দল ২১টি আসনের মধ্যে ১২টিতে জিতেছিল। বিপরীতে বিজেপি পেয়েছিল আটটি আসন। এবার লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি আরও ভালো করার আশা করছে। কারণ, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মাত্র একটি আসন পাওয়া বিজেপি পরের নির্বাচনেই পেয়েছিল আটটি আসন।
নির্বাচনের আগে বিজেপি বিজু জনতা দলের সঙ্গে জোট গঠনের চেষ্টা চালালেও তা ভেস্তে যায়। তবে এরপর প্রধানমন্ত্রী মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ দলের শীর্ষ নেতারা রাজ্যটিতে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। বুথফেরত জরিপগুলো রাজ্যটিতে বিজেপির বিশাল জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে বিরোধীরা এটিকে উড়িয়ে দিয়েছে।
বিহার
ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে বিহার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজ্য, যে রাজ্যে বর্ণ রাজনীতি অনেক বড় ভূমিকা পালন করে ভোটের লড়াইয়ে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির এনডিএ জোটের অংশীদার ছিল জনতা দল (ইউনাইটে)। সেবার রাজ্যের ৪০ আসনের মধ্যে ৩৯টিই জিতেছিল বিজেপি ও জেডিইউ।
কিন্তু কিছুদিন পরেই বিজেপির জোট ভেঙে জনতা দলের নিতীশ কুমার চির প্রতিদ্বন্দ্বী লালু প্রাসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের সঙ্গে যোগ দেয়। গত বছর সেই জোটও ভেঙে নিতীশ ফের বিজেপির কোলে ওঠেন। আর রাষ্ট্রীয় জনতা দল যায় বিরোধী জোট ইন্ডিয়ায়। বিরোধী জোট বিহারে ভালো ফলের আশা করছে। বিরোধী জোটের অন্যতম মুখ রাহুল গান্ধী রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদবের হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।
তবে আশার বিপরীতে বুথফেরত জরিপ বলছে, এবারের নির্বাচনে ইন্ডিয়া জোট দুই অঙ্কের সংখ্যাই পার হতে পারবে না। বিপরীতে এনডিএ জোটই এই রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে আবির্ভূত হবে। বিরোধীরা এই জরিপের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ‘মনস্তাত্ত্বিক প্রতারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
তেলেঙ্গানা
এবারের লোকসভা নির্বাচনের অন্যতম ব্যাটলগ্রাউন্ড বা রণক্ষেত্র হলো দক্ষিণী রাজ্য তেলেঙ্গানা। বছরখানেক আগেই এই রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস স্থানীয় নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করেছে। তবে এর আগের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি ১৭ লোকসভা আসনের মধ্যে ৯টিতে জিতেছিল। বিজেপি জিতেছিল চারটি এবং কংগ্রেস মাত্র তিনটি। এবারে চিত্রটা ভিন্ন হতে পারে। কারণ, রাজ্যটিতে এখন কংগ্রেস ক্ষমতায়।
বুথফেরত জরিপগুলো বলছে, তেলেঙ্গানায় বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। বিপরীতে তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
কর্ণাটক
তেলেঙ্গানার পাশাপাশি কর্ণাটকেও ক্ষমতায় আছে কংগ্রেস। গত বছর অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে ভূমিধস জয়লাভ করে। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যের ২৮টি লোকসভা আসনের মধ্যে ২৫টিতেই জিতেছিল। সে সময় জোটে থাকা স্থানীয় দল জেডিএস ও কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র একটি করে আসন। গতবার জেডিএস কংগ্রেসের সঙ্গে থাকলেও এবার দলটি বিজেপির এনডিএ জোটে গেছে।
কর্ণাটকে জয় কংগ্রেসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে কয়েকটি রাজ্যে ক্ষমতায় আছে সেখানে এটি দলটির সাংগঠনিক শক্তির পরীক্ষা। তবে বেশির ভাগ বুথফেরত জরিপ কর্ণাটকে বিজেপিকে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিপরীতে কংগ্রেস দুই অঙ্কের সংখ্যা পার হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার ভবিষ্যদ্বাণী বাতিল করেছেন।
এ ছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশ এবং উত্তর প্রদেশ রাজ্যও এই নির্বাচনে ব্যবধান গড়ে দিতে ভূমিকা রাখবে।

দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে ৪৪ জন আরোহী ছিলেন। পর্যটন নগরী পোখরা থেকে রাজধানী কাঠমান্ডু যাওয়ার পথে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ১৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও ঘিরে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন ভারতের রাজস্থান রাজ্যের টঙ্ক-সোয়াই মাধোপুর এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য ও বিজেপি নেতা সুখবীর সিং জৌনপুরিয়া। ভিডিওতে দেখা যায়, এক কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে মুসলিম নারীদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও যেকোনো মুহূর্তে মার্কিন হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আলোচনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছে ট্রাম্প...
২ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের একটি স্নুকার ক্লাবের ভেতরে ৩০ সেকেন্ডে ২৭ বার ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছে দশম শ্রেণির এক ছাত্র। আরও ভয়াবহ ও দুঃসাহসিক ঘটনা হলো, অভিযুক্তরাই নাকি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
৩ ঘণ্টা আগে