
বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনটি ছিল আবদ্ধ। আলো-বাতাসের জায়গা ছিল না। আটকা পড়া ব্যক্তিদের অনেকেই আশ্রয় নিয়েছিলেন তৃতীয় তলার একটি কক্ষে। আপ্রাণ চেষ্টা করেও তাঁরা বের হতে পারেননি। কক্ষ থেকে উদ্ধার হয় ৯ জনের মরদেহ। অধিকাংশই মারা গেছেন ধোঁয়ায়। ধোঁয়া থেকে বাঁচতে জানালা খুঁজেছিলেন তাঁরা। দেয়ালে দেয়ালে রয়েছে তাঁদের হাতের ছাপ।
আজ শুক্রবার সকালে ওই ভবন থেকে বেরিয়ে এমন বর্ণনা দেন স্থপতি ইকবাল হাবিব। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন সঙ্গে তিনি ওই ভবন পরিদর্শন করেন।
ইকবাল হাবিব আজকের পত্রিকাকে বলেন, পুরো ভবন আবদ্ধ, আলো-বাতাসের কোনো জায়গা ছিল না। ২০ ভাগ মানুষ আগুনে পুড়ে আর ৮০ ভাগ মানুষ ধোঁয়াতে মারা গেছে। এটা হয়েছে, কারণ বের হয়ে যাওয়ার কোনো পথ ছিল না।
ইকবাল হাবিব আরও বলেন, ‘আমি যে কক্ষে গেছি সেখানে ফায়ার সার্ভিস আমাকে দেখাল, এখানে ৯টা মরদেহ পড়েছিল। ওই রুমের বিভিন্ন জায়গায় খামচির দাগ ছিল। তাঁরা কোনো না কোনো একটা জানালা-দরজা খোলার চেষ্টা করেছিল, বাতাস নেওয়া জন্য। এটা ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। আশপাশে ওয়ালে তাঁরা জানালা খুঁজেছেন, কিন্তু কিছুই নাই।’
তিনি বলেন, ‘ভবনে ভেন্টিলেটর না থাকা একটা চূড়ান্ত অপরাধ। এই ঘটনা আমাদের নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছে।’
স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, এটি মূলত ছয়টি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থার দীর্ঘদিনের অবহেলা। তাদের অধীনস্থ আইন ও বিধিমালা না মেনে অমার্জনীয় অপরাধের মতো কাজ করে গেছে। কোনো রকম কার্যক্রম তারা পরিচালনা করেনি। তারা দায়িত্বশীল আচরণ না করার জন্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
এই স্থপতি বলেন, ‘যে ভবনে আগুন লেগেছে, এটাকেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। আমি যখন ভেতরে যাই ফায়ার সার্ভিসের ডিজির সঙ্গে, তিনি তখন আমাকে বলেছেন, এই ভবনের লাইসেন্স দেওয়ার জন্য মালিক একজন মুক্তিযোদ্ধা সংবাদ সম্মেলনে হুমকি দিয়ে এই অনুমোদন নিয়েছেন তিন মাসের শর্ত সাপেক্ষে। হুমকি দিলেই কী অনুমোদন দেওয়া হবে। তাহলে এই মৃত্যুর দায় কেন নেবে না।’
ইকবাল হাবিব বলেন, তিন মাসের মধ্যে সব ঠিক করা হবে—এমন শর্তে অনুমোদন নেওয়া। একই সঙ্গে এই কার্যক্রমে রাজউক একবার এসে পরিদর্শন করেনি যে অফিসের জন্য একটা ভবনে একের পর এক রেস্টুরেন্ট হলো। রেস্টুরেন্টের যে কিচেন, সেটি কিন্তু সাধারণ বাসাবাড়ির কিচেন না। এর জন্য বিশেষ ডিজাইন করতে হয়। সেই রকম কিচেনের সিলিন্ডার রাখার জন্য যে জায়গা দরকার তা নেই। সব রাখা হয়েছে সিঁড়িতে। একটি মাত্র সিঁড়ি।
তিনি বলেন, একটা টাস্কফোর্স গঠন হয়েছিল গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু পরে আর কাজ করেনি। এই ছয় সংস্থার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আরো পড়ুন:

নাটোরের চারটি আসনে ২৭ প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। প্রতিটি আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পেলে ওই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধান রয়েছে। এই শর্ত পূরণ না হওয়ায় ১৯ জন প্রার্থী তাঁদের জামানত হারিয়েছেন।
১২ মিনিট আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ছয়টি আসনে মোট ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভোট না পেয়ে জামানত হারিয়েছেন ২০ জন প্রার্থী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে।
১৬ মিনিট আগে
ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের মধ্যে ২৩টিতে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি আসনে জয়লাভ করেছে বিএনপি। জামায়াত জিতেছে ৩টি। আর খেলাফত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেছেন একটি করে আসন।
২৫ মিনিট আগে
ভোটে জিতেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দিয়েছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিয়ে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির এ নেতা।
২৮ মিনিট আগে