আত্মহত্যার অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য। ব্যক্তিগত পর্যায়ে আপনি ও আপনার কোনো বন্ধু বা নিকটজনের আত্মহনন রোধ করতে পারেন, হয়ে উঠতে পারেন মর্মান্তিক পরিণতি ঠেকিয়ে দেওয়ার উপলক্ষ। এ জন্য দরকার সচেতনতা, কুসংস্কার কাটিয়ে ওঠা এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।
বেশ কিছুদিন ধরে আত্মহত্যার কথা চিন্তা করছেন, ধীরে ধীরে পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তিরা সাধারণত প্রকাশ্যে বা ইঙ্গিতে কোনো না কোনোভাবে অন্তর্গত ইচ্ছার কথা বলেন মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু কারও না কারও কাছে। কারও কারও ধারণা, যিনি আত্মহত্যার কথা মুখে বলেন, তিনি আদতে তা করেন না। ধারণাটি ভুল। গবেষণায় উল্টোটাই প্রমাণিত। সে কারণে, কেউ যদি আত্মহত্যার কথা বলেন, তবে তা গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। এড়িয়ে যাওয়া নয়, সহমর্মিতা আর সহানুভূতির মনোভাব নিয়ে তাঁর পাশে থাকতে হবে। তাঁর সমস্যার জায়গাটা চিহ্নিত করে তাঁকে সেভাবে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নিতে হবে। হয়তো সমস্যার ঠিক ঠিক সমাধান আপনি করতে পারবেন না, হয়তো সেই সমস্যা সমাধানের সঠিক পথটিও বলে দিতে পারবেন না–সে বিষয়ে নিজের অজ্ঞতার কারণে।
সব সময় যে আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তিকে কী করতে হবে তা বলে দিতে হবে, এমনটি নয়। তবে সমস্যায় থাকা ব্যক্তির মনের জমানো কষ্টের কথা, না বলতে পারা যন্ত্রণার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে তো পারবেন, তাঁর পাশে থাকার জন্য কিছুটা সময় তো বের করতে পারবেন, আপনার বন্ধুর বা স্বজনের একাকিত্বের বোধটা তো কমিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারবেন। অনেক ক্ষেত্রে এতটুকু এগিয়ে আসাই আত্মহত্যা প্রতিরোধে বিরাট ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে। কেউ পাশে আছেন, এমন কাউকে মনের কথাগুলো অকপটে বলা যাচ্ছে, যে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করবে না। মনোযন্ত্রণার প্রকাশে তির্যক, আরও কষ্টদায়ী মন্তব্য, হাসি-ঠাট্টা করবে না–এটুকু অনুভূতিও স্বেচ্ছামৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে অনেককে।
অনেকেই মনে করেন, যাঁরা একবার আত্মহত্যা করে ব্যর্থ হন, তাঁরা আর ও পথে এগোন না। মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ঘুরে আসায় জীবনের প্রতি তাঁদের মায়া বেড়ে যায়। কিন্তু গবেষকেরা বলছেন ঠিক এর উল্টোটা। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা অতীতে আত্মহননের প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে পুনরায় চেষ্টা করা বা আত্মহত্যার হার, যাঁরা কখনোই আত্মহত্যার প্রচেষ্টা চালাননি, তাঁদের চেয়ে বেশি।
আত্মহত্যার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে আগে আত্মহত্যাচেষ্টার ইতিহাস। আত্মহত্যাচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের করুণার চোখে না দেখে, তিরস্কার না করে, খোঁচা দিয়ে কথা না বলে তাঁর প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত মনে হলে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শমতো চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। যাঁদের মানসিক চাপে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কম, তাঁদের যথোপযুক্ত কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা
আরও পড়ুন:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ১১ জনে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১৪ হাজার ২৪৪ জন। একই সময়ে ৯৮ হাজার ৬০০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
১২ ঘণ্টা আগে
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৩০৬ জন। আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
২ দিন আগে
কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তা প্রত্যাশিত সুফল না এনে বরং অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, এই ধরনের নীতিমালা সমস্যার মূল কারণ সমাধান না করে তরুণদের আরও কঠিনভাবে পর্যবেক্ষণযোগ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঠেলে দিতে পারে।
২ দিন আগে
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬৮৪ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৫ জনের। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২ দিন আগে