
কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তা প্রত্যাশিত সুফল না এনে বরং অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, এই ধরনের নীতিমালা সমস্যার মূল কারণ সমাধান না করে তরুণদের আরও কঠিনভাবে পর্যবেক্ষণযোগ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঠেলে দিতে পারে।
ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে গবেষকেরা বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় গৃহীত এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিবেচনাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ নীতিগুলো এককভাবে কার্যকর হবে না। কারণ, কিশোরদের অনলাইন আচরণ পরিবার, স্কুল, সরকার ও সামাজিক পরিবেশের মতো বৃহত্তর একটি ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
গবেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা দিলে তরুণেরা সহজেই বিকল্প অ্যাপ বা ব্যক্তিগত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে যাবে, যেখানে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা আরও কঠিন হবে। একই সঙ্গে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও তামাক ও অ্যালকোহল শিল্পের মতো নতুন নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বিভিন্ন কৌশল নিতে পারে। এমনকি ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম’-এর সংজ্ঞা পরিবর্তনের চেষ্টা, কম নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ এবং লবিংয়ের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ সব কিশোরের ওপর একই প্রভাব ফেলবে না। যাদের পরিবার ও শিক্ষা ব্যবস্থার শক্তিশালী সহায়তা রয়েছে, তারা তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকবে। কিন্তু সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, অনিরাপদ পরিবেশ বা সীমিত সহায়তায় থাকা তরুণেরা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গবেষণার সহলেখক এক কিশোর বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু বিনোদনের জায়গা নয়; এটি বন্ধুত্ব গড়ে তোলা, নিজের অনুভূতি প্রকাশ, নতুন কিছু শেখা এবং অনেক সময় কঠিন পরিস্থিতি থেকে মানসিক আশ্রয় পাওয়ারও মাধ্যম। পরিবারের সঙ্গে বলতে না পারা অনেক বিষয় বন্ধুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেই ভাগাভাগি করে থাকে।
বিজ্ঞানীরা তাই সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে প্রমাণভিত্তিক, নমনীয় ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, শুধু স্ক্রিন টাইম বা স্বল্পমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্য নয়, বরং শিক্ষা, সামাজিক সম্পর্ক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় নিয়েই কার্যকর নীতি প্রণয়ন করা উচিত। অন্যথায়, সরকার দৃশ্যমান হলেও অকার্যকর এমন নীতি গ্রহণের ঝুঁকিতে পড়বে, যা সমস্যার মূল কারণ অমীমাংসিত রেখেই নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রও টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বা বিবেচনা করছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৩০৬ জন। আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
১ ঘণ্টা আগে
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬৮৪ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৫ জনের। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন এবং নির্ধারিত কোর্স সম্পন্ন না করার কারণে দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স...
২০ ঘণ্টা আগে
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু নেই। আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
১ দিন আগে