রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

ই-অরেঞ্জে বিনিয়োগ করে স্বামী-সংসারও হারাতে বসেছেন মিতু

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৭

শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন মিতু আক্তার। ছবি: আজকের পত্রিকা দু’মাস আগেও স্বামী, সন্তান নিয়ে সুখের সংসার ছিল মিতু আক্তারের। এখন সবই হারাতে বসেছেন। মে ও জুনে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জে দুটি বাইক আর একটি এসি অর্ডার করেছিলেন তিনি। ধার দেনা করে টাকা দ্বিগুণ করার ‘সামার ভাউচার’ও কিনেছিলেন একটি। সব মিলিয়ে পরিশোধ করেছিলেন ১০ লাখ টাকা। পণ্য বা টাকা কিছুই পাননি এখনো। এখন স্বামী-সংসার হারানোর শঙ্কাও চেপে বসেছে। 

আজ সোমবার রাজধানীর পল্টনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ই-অরেঞ্জ ভুক্তভোগীদের বিক্ষোভে দেখা যায় মিতুকে। সবকিছু হারাতে বসা মিতু শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নেমেছেন। 

আজকের পত্রিকাকে মিতু আক্তার বলেন, ‘দেড় মাস হলো মায়ের বাড়িতে থাকতেছি। স্বামীর ঘরে যাইতে পারি না। টাকাগুলা ফেরত না পাইলে পথে বসতে হবে আমার।’ 

তিনি জানান, দশ বছর ধরে নিজের জমানো টাকার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করেও ই-অরেঞ্জে পণ্য অর্ডার করেছিলেন। সমিতি থেকেও ঋণ করেছেন আড়াই লাখ টাকা। গত মে মাসে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে দেখেই ধার দেনা করে ই-অরেঞ্জে পণ্য অর্ডার করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন মিতু আক্তার। 

প্রেসক্লাবে আজ বিক্ষোভে জড়ো হন মিতু আক্তারের মতোই বহু ভুক্তভোগী। সবার একটাই দাবি, ই-অরেঞ্জের মূল হোতা বনানী থানার সাবেক ওসি সোহেল রানাকে দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরিয়ে এনে সবার টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। 

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মাসুদুর রহমান বলেন, নিজেদের টাকা নিজেরা ফেরত চাচ্ছি, তারপরেও নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে আমাদের। সোহেল রানা গ্রেপ্তার হওয়ায় আমরা কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছি। কিন্তু দেশের সীমা পেরিয়ে ভারতে গিয়ে তাঁর গ্রেপ্তার হওয়াটা আমাদের জন্য লজ্জার। 

আরেক বিক্ষোভকারী মৌ আক্তার বলেন, অনেকে বলছে আমরা লোভ করেছি, তাই টাকা হারিয়েছি। কিন্তু আমরা তো চুরি ডাকাতি করিনি। কম দামে পণ্য পেলে কে না কিনতে চায়। মাশরাফিকে দেখে আমরা ই-অরেঞ্জে আস্থা রেখেছিলাম। সেই আস্থাই আমাদের কাল হলো। করোনায় বেকার হয়ে কষ্টের জমানো টাকা, শেষ সম্বলটুকু আমরা অনেকেই বিনিয়োগ করেছি। সেই টাকা ফেরত না পেলে মৃত্যু ছাড়া আমাদের পথ থাকবে না। 

দেশে পুলিশ র‍্যাবসহ এত বাহিনী থাকতে সোহেল রানাকে আগে কেন গ্রেপ্তার করা হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, দেড় মাস ধরে আমরা বলে যাচ্ছি, ওসি সোহেল রানা ই-অরেঞ্জের মূল হোতা। ই-অরেঞ্জে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণও পাওয়া গেছে। এই প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের ১১শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিল, অথচ সোহেল রানার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবশেষে ভারতে গিয়ে তিনি গ্রেপ্তার হলেন। আমাদের দেশের পুলিশ প্রশাসন কিছুই করলো না। টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর অনশনে যাওয়ার হুমকি দেন বিক্ষোভকারীরা।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৭ বছরে সর্বোচ্চ

    আমদানির চাল ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বাজারজাত করতে হবে

    বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন কাল

    ওয়েবসাইট বন্ধের খবর ফেসবুকে জানাল ইভ্যালি

    কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় ভারতীয় নয় সেনা নিহত

    কেঁপে উঠল মহাকাশ স্টেশন, প্রাণে বাঁচলেন রুশ অভিনেতা-অভিনেত্রী

    বুড়িচংয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ দুজন নিহত, আহত ১০

    ঈশ্বরদীতে যুবলীগ নেতা গুলিবিদ্ধ

    ভারতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার বাংলাদেশি কিশোরী, গ্রেপ্তার ২

    ছাত্রলীগ নেতার কুপ্রস্তাব, মেডিকেল ছাত্রীর মামলা