মানুষকে আকৃষ্ট করতে কত নিত্যনতুন চমক নিয়েই তো হাজির হচ্ছে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো। এ ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে এক কাঠি বাড়া কোস্টারিকার হোটেল কোস্টা ভার্দে। গোটা একটি বোয়িং উড়োজাহাজকেই হোটেলের স্যুইটে পরিণত করেছে তারা।
হঠাৎ করে বোয়িং ৭২৭ উড়োজাহাজের কাঠামোটির ছবি কোথাও দেখলে বা একটু দূর থেকে দেখলে ভাবতে পারেন জঙ্গলের মধ্যে বোধ হয় এটি ক্র্যাশ করেছে। তবে কাছে গেলেই পরিষ্কার হবে এটি আসলে একটি হোটেলের অংশ। অর্থাৎ এখানে রাতও কাটাতে পারবেন।
হোটেল কোস্টা ভার্দের অবস্থান উত্তর আমেরিকার দেশ কোস্টারিকার কুয়েপোজের ম্যানুয়েল এন্টনিও জাতীয় উদ্যানে। পরিত্যক্ত এক উড়োজাহাজের কাঠামোকে স্যুইটে রূপান্তর করা এর একমাত্র চমক নয়, অপর একটি উড়োজাহাজকে রেস্তোরাঁয় রূপান্তরিত করা হয়েছে। তেমনি হোটেলটিতে ট্রেনের পরিত্যক্ত এক বগিকেও রেস্তোরাঁয় পরিণত করা হয়েছে। একটি উড়োজাহাজের ককপিটকেও কটেজে রূপান্তরিত করা হয়েছে আশ্চর্য এ হোটেলে।
মোটামুটি ৫০ ফুট উঁচু একটা ভিতের ওপর বসানো হয়েছে বোয়িং ৭২৭ উড়োজাহাজের কাঠামোটাকে। এই উচ্চতার কারণে ডান ডানার ওপর বসানো শক্ত কাঠের তৈরি ডেক থেকে জঙ্গল ও সাগরের দুর্দান্ত দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হবে আপনার।
পরিত্যক্ত এই উড়োজাহাজের ভেতরে কী পাবেন? স্যুইটটিতে চমৎকার দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বেডরুম। একটিতে আছে দুটি কুইন বেড, অপরটিতে একটি কুইন বেড। প্রতিটি কামরার সঙ্গে আছে বাথরুমও। ভেতরে সেগুন কাঠের প্যানেল। উড়োজাহাজের ভেতরে রাত কাটানোর পাশাপাশি এখানে থেকে শ্লথ, বানরের মতো জঙ্গলের বাসিন্দাদের সান্নিধ্যও উপভোগ করতে পারবেন।
ভেতরে ঢোকার পর কোনো কারণে যদি আপনি ভুলে যান পুরোনো একটি উড়োজাহাজের ভেতরে অবস্থান করছেন, তবে আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য মূল কেবিন জানালাগুলো রাখা হয়েছে আগের মতোই।
এখন নিশ্চয় আপনার জানতে ইচ্ছা করছে এখানে থাকার ভাড়া কেমন গুনতে হবে। আপনার কিন্তু আলাদা কামরা ভাড়া করার সুযোগ নেই, গোটা স্যুইটটাই ভাড়া করতে হবে। মৌসুম অনুযায়ী এই ভাড়ায়ও পার্থক্য আছে। এখন যে মৌসুম চলছে, সেটা থাকবে ডিসেম্বরের ২৪ তারিখ পর্যন্ত। এই সময়টায় ভাড়া গুনতে হবে প্রতি রাতের জন্য ৫৬০ ডলার বা ৬০ হাজার টাকার বেশি।
সাউথ আফ্রিকা এয়ার ও কলম্বিয়ান কোম্পানি আভিনকা এয়ারলাইনসের পরিচালনায় বিভিন্ন রুটে যাত্রী পরিবহন করত উড়োজাহাজটি।
ধরুন আপনি উড়োজাহাজের ভেতরের কামরায় একটি রাত কাটানোর জন্য সেখানে গেলেন, কিন্তু দেখলেন এর কামরা দুটো আগে থেকেই বুকিং হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এখান থেকে ১০০ মিটার দূরে জঙ্গলের মধ্যে হোটেল কেপ ভার্দের আরও একটি থাকার ব্যবস্থা আছে, নাম ককপিট কটেজ। গভীর বনানীর ভেতর দিয়ে একটি ঝুলন্ত সেতু পেরিয়েই সেখানে পৌঁছাতে পারবেন।
এখানে একটি রান্নাঘরও পাবেন। সেটি বসানো হয়েছে পাইলটরা যেখানে বসে উড়োজাহাজ উড়াতেন সেখানে। কটেজটির ভেতরে আছে কিং সাইজ বেডরুম, বসার জায়গা, বাথরুমসহ বিভিন্ন আসবাব। এখানে একটি রাত কাটাতে খরচ হবে ৩১০ ডলার বা প্রায় সাড়ে ৩৩ হাজার টাকা। উড়োজাহাজটি ছিল বিলুপ্ত ফরাসি উড়োজাহাজ কোম্পানি অ্যারোপোস্টালের। এটি উড়ত ফ্রান্স থেকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয়।
এবার স্যুইটে রূপান্তর করা উড়োজাহাজ দুটি থেকে আরেকটু নিচের দিকে নেমে আসেন জঙ্গলের ভেতরের রাস্তা ধরে। পেয়ে যাবেন এল এভিয়ন রেস্তোরাঁ। হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, গুলিতে বিধ্বস্ত হওয়া একটি আমেরিকান সামরিক মালবাহী ফেয়ারচাইল্ড সি-১২৩ উড়োজাহাজকে রেস্তোরাঁয় রূপান্তরিত করা হয়েছে এখানে।
স্বাভাবিকভাবেই জঙ্গলের মধ্যে উড়োজাহাজে রাত কাটানোর আশ্চর্য অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য হোটেল কেপ ভার্দে বৈচিত্র্যপিয়াসী মানুষের ভারি পছন্দ। যদি মনে করেন, খরচা অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে, তাহলে হোটেলের উড়োজাহাজ–স্যুইট, ককপিট কটেজ দেখে রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে চলে এলেও মন্দ হবে না।
সূত্র: কোস্টা ভার্দে ডট কম, বিজনেস ইনসাইডার

ভারতের উত্তর প্রদেশে অবিশ্বাস্য এক ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকদের কাছে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষিত এক নারী অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় হঠাৎ আবার শ্বাস নিতে শুরু করেছেন। পরিবারের সদস্যরা এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করছেন।
২ দিন আগে
ওমানে আয়োজিত ২০২৬ সালের ‘ক্যামেল বিউটি শো ফেস্টিভ্যাল’-এ কৃত্রিমভাবে সৌন্দর্য বাড়ানোর অভিযোগে ২০টি উটকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। উটের কুঁজ ও মুখমণ্ডলের শ্রী বাড়াতে বোটক্স ইনজেকশন, সিলিকন ওয়াক্স এবং ফিলার ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়ায় আয়োজক কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
৩ দিন আগে
সিসিটিভি ক্যামেরার চোখ ফাঁকি দিয়ে রাস্তার ধারে ময়লা ফেলতে পোষা কুকুরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মালিকের বিরুদ্ধে। ইতালির সিসিলি দ্বীপের কাতানিয়া শহরের সান জর্জিও জেলায় এই অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটেছে। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনে চলছে তোলপাড়, আলোচনায় মজেছে নেটিজেনরা।
১৪ দিন আগে
একসময় সাম্রাজ্যের লোকজন গর্ব করে বলত, তাদের সাম্রাজ্যে সূর্য কখনো অস্ত যায় না। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের ছোট শহর শেহোরের এক ভুলে যাওয়া কাগজ যেন অন্য গল্প বলে। সেখানে ইঙ্গিত আছে, সেই শক্তিশালী সাম্রাজ্যকেও একসময় ভোরের আলো দেখতে এক স্থানীয় ধনী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছিল।
১৫ দিন আগে