মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

সেকশন

 

আজকের তারাবিহ: মদিনার যে মসজিদ পুড়িয়ে দিয়েছিলেন মহানবী (সা.)

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৪, ১০:২৮

আজ খতমে তারাবিহে পবিত্র কোরআনের ১১তম পারা তিলাওয়াত করা হবে। সুরা তওবার ৯৪ থেকে সুরা হুদের ৫ নম্বর আয়াত পর্যন্ত। এই অংশে সত্য সাক্ষ্যদানকারীদের পুরস্কার, মসজিদ নির্মাণ, তাকওয়া অর্জন, জ্ঞান ও গবেষণার গুরুত্ব, নবীজির অনুসরণ, কিয়ামতের ঘটনা ও মুমিনের গুণাবলিসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিবরণ রয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হলো—

যে মসজিদ পুড়িয়ে দিয়েছিলেন মহানবী (সা.) 
মসজিদ আল্লাহ ঘর। আল্লাহর পছন্দনীয় জায়গা। মুমিনজীবনের আনুষ্ঠানিক সেজদা করার পবিত্র স্থান। মুসলমানদের বিশ্বাস, চেতনা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক মসজিদ। মুসলিম সমাজের মূল কেন্দ্র হলো মসজিদ। মুসলমান যেখানে বসতি গড়বে, সেখানে গড়ে উঠবে মসজিদ—এটা নবীজির শিক্ষা। রাসুল (সা.) মদিনায় হিজরতের সময় যাত্রাবিরতিকালে কুবা নামক স্থানে ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন। পরে মদিনায় পৌঁছে তিনি মসজিদে নববি স্থাপন করেন। 

মসজিদ নির্মাণ সওয়াবের কাজ। আল্লাহকে খুশি করার মাধ্যম। আল্লাহ মানুষকে মসজিদ নির্মাণে উৎসাহিত করেছেন। নবীজি তাগিদ করেছেন। জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। তবে মসজিদ নির্মাণ হতে হবে তাকওয়ার ওপর ভিত্তি করে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। মুসলমানদের কল্যাণের জন্য। আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য। 

ইসলামের ক্ষতিসাধন হয়—এমন মসজিদ নির্মাণ করা যাবে না। মহানবী (সা.)-এর আমলেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য একটি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। মদিনার অদূরে, কুবা এলাকায়। মসজিদটি ইসলামের ইতিহাসে ‘মসজিদে জিরার’ নামে পরিচিত। পরে নবী (সা.) মসজিদটি ধ্বংস করার নির্দেশ দেন। 

রাসুল (সা.) তখন তাবুক যুদ্ধে যাচ্ছিলেন। এক ঘণ্টা পথ চলে জুআওয়ান নামক স্থানে থামলেন। মসজিদে জিরার নির্মাণকারীরা নবীজির কাছে এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, দুর্বলদের জন্য এবং বৃষ্টির রাতে নামাজ পড়ার জন্য আমরা একটি মসজিদ নির্মাণ করেছি। আমরা চাই যে, আপনি তাতে আসবেন এবং নামাজ পড়ে মসজিদটি উদ্বোধন করে দেবেন।’ নবীজি (সা.) বললেন, ‘আমি সফরে যাচ্ছি। ফেরার পথে তোমাদের এখানে যাব, ইনশাআল্লাহ।’ 

মূলত মুসলমানদের ক্ষতি করার জন্য খ্রিষ্টান পাদরি আবু আমিরের উসকানিতে কিছু অমুসলিম ইসলাম গ্রহণের ভান করে ওই মসজিদ বানায়। সেখানে তারা লোক দেখানো নামাজ পড়ত আর ফেতনা-অশান্তি সৃষ্টি এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে বহিঃশত্রুর আক্রমণের সুযোগ তৈরিসহ নানা রকম ষড়যন্ত্র করত। তাবুক থেকে ফেরার পথে নবীজিকে সতর্ক করে আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা মসজিদ তৈরি করেছে ক্ষতিসাধন, কুফুরি আর মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে, আর যে ব্যক্তি আগে থেকেই আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে তার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের নিমিত্তে, তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, আমাদের উদ্দেশ্য সৎ ব্যতীত নয়। আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তারা নিশ্চিত মিথ্যাবাদী।’ (সুরা তওবা: ১০৭)

রাসুলুল্লাহ (সা.) তখনই দুই সাহাবিকে এই মসজিদ পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য পাঠালেন। নবীজি মদিনায় পৌঁছার আগেই তাঁরা মসজিদটি একেবারে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেন। 

মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি, সামাজিক অবক্ষয় ও বিশৃঙ্খলার জন্য মসজিদ বানানো ভয়াবহ পাপ। লোক দেখানো, আধিপত্য বিস্তার, কালো টাকা সাদা বা মানুষের প্রশংসা কিংবা পাপ লুকানোর জন্য মসজিদ নির্মাণ করা গুনাহ। 

সুরা তওবায় বর্ণিত মুমিনের ৯ গুণ
সুরা তওবার ১১২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের কিছু গুণের কথা বলে সুসংবাদ দিয়েছেন। যথা—
 ১. তারা তওবাকারী
 ২. ইবাদতকারী
 ৩. আল্লাহর প্রশংসাকারী
 ৪. রোজাদার
 ৫. রুকুকারী 
৬. সিজদাকারী
 ৭. ভালো কাজের আদেশদাতা
 ৮. মন্দ কাজে বাধাদানকারী
 ৯. আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা হেফাজতকারী

আজকের তারাবিহ: মদিনার যে মসজিদ পুড়িয়ে দিয়েছিলেন মহানবী (সা.) জ্ঞানর্চচা ও গবেষণার গুরুত্ব
ইসলামে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নারী-পুরুষের জন্য আবশ্যক। মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনে সুখ, শান্তি, সফলতা ও উন্নতির জন্য যতগুলো শাস্ত্রের জ্ঞানচর্চা দরকার, ইসলাম সেই সমুদয় শাস্ত্রের জ্ঞান চর্চাকে উৎসাহিত করে। নবীজি (সা.)-এর নির্দেশে সাহাবিরা বিদেশি ভাষা শিখেছেন। অনেক সাহাবি সাহিত্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, হস্তশিল্প, কৃষি ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানার্জন করেছেন। নবীজির যুগে মসজিদে নববির বারান্দায় দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের জন্য নিবেদিত একদল মানুষ পড়ে থাকতেন। সেখানে তাঁরা দিন-রাত কাটাতেন। ইসলামের ইতিহাসে যাঁরা ‘আসহাবে সুফফা’ নামে পরিচিত।

চিকিৎসা, গণিত, কৃষি, রাষ্ট্রনীতি, প্রয়োজনীয় বিজ্ঞান, দর্শন ইত্যাদির মৌলিক পর্যায়ের জ্ঞান শেখা ও এসব নিয়ে গবেষণা করা অপরিহার্য। গোটা জনপদে যদি এই জ্ঞানের পারদর্শী কেউ না থাকে, তাহলে সবাই কষ্টে পতিত হবে। তবে যা মানুষকে অকল্যাণের দিকে নিয়ে যায়, তা চর্চা করা হারাম। 

আল্লাহ তাআলা চান না যে সবাই একই কাজ করুক। একই বিষয়ে পারদর্শী হোক। তিনি চান, একেকজন একেক বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠুক। কিছু লোক জ্ঞান অর্জনে লেগে থাকুক। তাবুক যুদ্ধে যখন মুসলমানেরা সবচেয়ে বড় যুদ্ধের মুখোমুখি হচ্ছেন, সবাইকে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য নবীজি আদেশ দিয়েছেন, তখন আল্লাহ বলেন, ‘আর সমস্ত মুমিনের অভিযানে (একসঙ্গে যুদ্ধে) বের হওয়া সংগত নয়। তাই তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হলো না, যাতে দ্বীনের জ্ঞান লাভ করে এবং সংবাদ (জ্ঞান) দান করে স্বজাতিকে, যখন তারা তাদের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে, যেন তারা (গুনাহ থেকে) বাঁচতে পারে।’ (সুরা তওবা: ১২২) 

মুসলমানদের জীবন-মরণের খেলা, রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াসের বিশাল বাহিনীর সঙ্গে যেখানে যুদ্ধ করতে হচ্ছে, তা-ও মদিনার বাইরে গিয়ে, কড়া রোদের উত্তপ্ত মরুভূমির পথ পাড়ি দিয়ে, যে যুদ্ধ নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করছে, সে যুদ্ধে পর্যন্ত আল্লাহ কিছু লোককে জ্ঞানার্জনের জন্য মদিনায় রেখে যেতে বলছেন; গবেষণায় থাকতে বলছেন।

সুরা ইউনুসের বিষয়বস্তু
সুরা ইউনুস মক্কায় অবতীর্ণ। এ সুরার আয়াত সংখ্যা ১০৯। কোরআনুল কারিমের ১০ নম্বর সুরা এটি। এ সুরায় ইমানের মৌলিক আকিদা-বিশ্বাস, পবিত্র কোরআনের মাহাত্ম্য ও মানুষের প্রতি চ্যালেঞ্জ, কিছু উপদেশ ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। সুরার একটি অংশে ইউনুস (আ.)-এর ঘটনার বর্ণনা রয়েছে, সে দৃষ্টিকোণ থেকে এ সুরার নাম রাখা হয়—সুরা ইউনুস।

এ ছাড়া আজকের তারাবিহে মুনাফিকদের থেকে দূরত্ব বজায়, সত্যবাদীদের সংস্পর্শে থাকার নির্দেশ, নবীজির বিশেষ গুণ, মুনাফিকদের নিন্দা, কোরআন আল্লাহর কালাম, বিপদ কেটে গেলে আল্লাহকে ভুলে যাওয়া, দ্বীনের ব্যাপারে ছলচাতুরীর পরিণাম ইত্যাদি বিষয় আলোচিত হয়েছে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    অজুর পুণ্যময় কয়েকটি দোয়া

    যাদের চোখ আল্লাহ পছন্দ করেন

    মদিনা নগরী কেন এত মর্যাদাপূর্ণ

    কোরবানি কখন কার জন্য আবশ্যক

    আঙুলের ছাপ আল্লাহর বিস্ময়কর সৃষ্টি

    আতিয়া মসজিদের নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী

    ভূমধ্যসাগরে ভাসতে থাকা ৩৫ বাংলাদেশি উদ্ধার

    সিলেটে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, ৩টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ

    রেইনড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের ছবি ‘ডেথ অ্যান্ড ল্যান্ডস্কেপ’

    সপ্তাহে ২৫০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত সেভিংস খোলা যাচ্ছে বিকাশ অ্যাপে

    রাইসির মৃত্যুতে তেল ও সোনার বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

    ভাইরাল খুদে ভ্লগার শিরাজের সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়ার কারণ জানালেন বাবা