মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

সেকশন

 

বাংলাদেশের জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: কত দূরে

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৩, ১০:১২

পাকিস্তানি বাহিনী ও তার দোসরদের জেনোসাইডের চিহ্ন। ছবি: সংগৃহীত এক. বিগত শতাব্দীর প্রায় সূচনালগ্নে যুদ্ধের ভয়াবহতায় তরুণ আর্মেনিয়ান যুবক শগোমন তেহরিলিয়ানের হৃদয় একেবারে শূন্য হয়ে গিয়েছিল। ভূ-রাজনীতির হিসাব-নিকাশ জানত না সে; বিভিন্ন দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তির বিষয়েও তার কোনো ধারণা ছিল না। শুধু খাঁ খাঁ করা হৃদয়ে অনুভব করত এই যুদ্ধ তার সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে, আর বুঝত আর্মেনিয়ান জনগোষ্ঠীর ওপর নারকীয়তা চরিতার্থ করতে মুখ্যত দায়ী যে ব্যক্তি—তুরস্কের সাবেক মন্ত্রী তালাত পাশা, তাঁর কোনো দিন বিচার হবে না, শাস্তি হবে না; বরং তিনি বীরদর্পে ঘুরে বেড়াবেন সমাজজুড়ে। যুদ্ধে নিজ পরিবারের সদস্যরা হত্যার শিকার হওয়ার পর থেকে মাথায় দারুণ জখম নিয়ে তেহরিলিয়ান ঘুমোতে পারে না–মাঝে মাঝেই ভয়ানক খিঁচুনি হয়। ১৯২০ সালে সুযোগ চলে আসে–বোস্টনভিত্তিক আর্মেনিয়ান প্লট অপারেশন নেমেসিসের পক্ষে তালাত পাশাকে হত্যা করার জন্য নির্বাচিত ও নিযুক্ত হয় সে এবং সফলভাবে হত্যা করে তালাতকে। এই হত্যার অপরাধে বার্লিনের আদালতে চলমান তেহরিলিয়ানের বিচারের ছোট্ট খবরখানা স্থানীয় পোলিশ পত্রিকায় ছাপা হলে পোল্যান্ডের লভভ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাতত্ত্বের তরুণ শিক্ষার্থী রাফায়েল লেমকিনের নজরে আসে। তৎক্ষণাৎ সে তার একজন অধ্যাপকের কাছে জানতে চায়, আর্মেনিয়ানদের হত্যাযজ্ঞের কারণে তালাতকে গ্রেপ্তার করার ব্যবস্থা না করে কেন তাকে হত্যা করা হলো। উত্তরে শিক্ষক মশাই জানালেন, তালাতকে গ্রেপ্তার করার মতো কোনো আইন নেই। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ধরো, কোনো চাষির ঘরে একঝাঁক মুরগি আছে এবং সে সেগুলোকে মেরে ফেলল, এতে কারও কিছু বলার নেই। কেন সে মেরে ফেলল জানতে চাওয়া মানে, তুমি তার কাজে অযথা নাক গলাচ্ছ, সীমা লঙ্ঘন করছ। শুনে লেমকিন বলে উঠল, একজন তালাত পাশাকে খুন করার জন্য তেহরিলিয়ান অপরাধী নিঃসন্দেহে, কিন্তু যে ব্যক্তি (তালাত পাশা) নিযুত আর্মেনিয়ানকে হত্যার জন্য দায়ী, সে অপরাধী নয়! এর চেয়ে অসংগতিপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না! এ ক্ষেত্রে সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভূমিকা সম্পর্কে ভাবতে গিয়ে লেমকিন মেলাতেই পারছিলেন না। নাগরিকের কল্যাণ করার কাজে সার্বভৌম রাষ্ট্র ভূমিকা রাখবে—সেটাই কাম্য, কিন্তু সার্বভৌম রাষ্ট্র তো নিযুত নাগরিককে হত্যা করার অধিকার কাউকে দিতে পারে না! এক ভীষণ মানসিক অস্থিরতার মধ্যে পড়লেন লেমকিন। এ ধরনের ভয়াবহ অপরাধের কি তবে কোনো শাস্তি হবে না? এ ধরনের মনের অস্থিরতা নিয়ে তিনি আইন বিষয়ে লেখাপড়া শুরু করেন। ১৯১৫ থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত আর্মেনিয়ান জনগোষ্ঠীকে যে নৃশংস অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, সেই নামহীন অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করার জন্য, বিচারের আওতায় আনার জন্য লেমকিন এর পরবর্তী প্রায় দেড় যুগ এ বিষয়টি নিয়ে নিরন্তরভাবে ভেবেছেন, লিখেছেন এবং নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করে গেছেন।

দুই. জাতি, বর্ণ বা ধর্মভিত্তিক কোনো জনগোষ্ঠীকে সুপরিকল্পিতভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার মতো জঘন্য অপরাধ যাতে সংঘটিত হতে না পারে, সে জন্য লেমকিন আইনের খসড়া তৈরি করেন। তিনি গুরুত্ব দেন এ ধরনের অপরাধের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে। এ ধরনের অপরাধকারীর বিচারের ব্যাপারে সর্বব্যাপী আইনগত অধিকারের (international jurisdiction) কথা ভেবেছেন লেমকিন–যার অর্থ অপরাধকারী যে দেশেই অপরাধ করুক না কেন, তাঁকে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বিচারের আওতায় আনা যাবে, শাস্তি দেওয়া যাবে। এই অপরাধের একটি নাম দেওয়ার জন্য সেদিন অস্থির হয়ে উঠেছিলেন লেমকিন এবং শেষ পর্যন্ত একটি যথার্থ নাম তিনি খুঁজে বের করেছিলেন, ‘জেনোসাইড’। গ্রিক শব্দ genos (জাতি/গোষ্ঠী) এবং লাতিন শব্দ cide (হত্যা)-এর সমন্বয় করে এই Genocide শব্দটি উদ্ভাবন করেন তিনি। কোনো জাতি বা গোষ্ঠীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত একগুচ্ছ অপরাধকে তিনি নতুন একটি শব্দ ‘জেনোসাইড’ দিয়ে অভিহিত করলেন। কিছু জরুরি বিষয় সংযোজন-বিয়োজনের লেমকিনের প্রস্তাবিত কনভেনশন ১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘে গৃহীত হলো।

তিন. এই কনভেনশনের দ্বিতীয় ধারায় জেনোসাইডের একটা স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করে বলা হয়, একটা জাতি বা গোত্র, নৃতাত্ত্বিক বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার অভিপ্রায়ে সংঘটিত কার্যক্রমগুলো ‘জেনোসাইড’। লক্ষণীয়, এই ধারায় ‘ইনটেন্ট টু ডেস্ট্রয়’ গুরুত্ব পেয়েছে; অর্থাৎ ধ্বংস করার ইচ্ছাটাও জেনোসাইড।

শারীরিকভাবে হত্যা করা শুধু নয়–নির্দিষ্ট জাতি, গোষ্ঠী, নৃতাত্ত্বিক বা ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে মানসিক ও শারীরিক নানা ধরনের নির্যাতন করাও জেনোসাইড। একটা জাতি, গোত্র, নৃতাত্ত্বিক বা ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে ফেলার প্রকাশ্য ঘোষণা বা ধ্বংস করার জন্য কাউকে উৎসাহিত করাও জেনোসাইড, যা একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ। জেনোসাইড সংঘটিত হতে পারে যুদ্ধ কিংবা শান্তিকালীন। যাদের বিরুদ্ধে জেনোসাইড সংঘটিত হয় তারা সক্ষম হলে নিজেরাই বিচারের আয়োজন করতে পারে; না হলে জেনোসাইড থামানো এবং বিচার করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আইনি দায়িত্ব।

১৯৭১ সালের পরিপ্রেক্ষিতে যদি আমরা দেখি, যেসব নির্যাতনমূলক কার্যক্রমকে জেনোসাইড বলা হয়েছে, অর্থাৎ হত্যা, শারীরিক ও মানসিক আঘাত, সম্পদ লুট, ধর্ষণ, ধর্মান্তকরণ—এর সবকিছুই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে এসব জেনোসাইডাল অ্যাক্ট সংঘটিত হয়েছে—তা হলো, বাঙালি জাতিগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দেওয়া। তাই পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা আমাদের বিরুদ্ধে যে অপরাধ ঘটিয়েছে, তা জেনোসাইড নিঃসন্দেহে।

এমনকি ধর্ষণেরও সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল, ধর্ষণগুলো স্রেফ যৌন তাড়নায় ছিল না। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাদের সৈনিকদের উসকে দিয়েছিল এবং ধর্মীয় ফতোয়াও জারি করেছিল। এসব ধর্ষণের উদ্দেশ্য ছিল, বাঙালি জাতিসত্তার স্বকীয়তা শেষ করে দেওয়া, বাঙালি নারীর গর্ভে পাকিস্তানি সন্তান জন্ম দেওয়া, যারা অনুগত থাকবে তাদের পিতৃগোষ্ঠীর প্রতি। জাতি ধ্বংসের এই অভিপ্রায়ই জেনোসাইড। জেনোসাইডে সরাসরি অংশগ্রহণকারীরাই শুধু নয়, জেনোসাইড সংঘটনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন প্রদানকারীরাও অপরাধী।

জাতিসংঘের জেনোসাইড কনভেনশনে আর্টিকেল ২-এ জেনোসাইডের সংজ্ঞায় যে ‘ইনটেন্ট টু ডেস্ট্রয়’-এর কথা বলা হয়েছে, আমাদের পরিপ্রেক্ষিতে এর শুরু ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ নয়; বরং পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির সময় থেকেই। ১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা, ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে গুলি করে হত্যা, রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ, আরবি হরফে বাংলা লেখানোর চেষ্টা—এগুলো যেমন ছিল বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়কে ধ্বংস করার অভিপ্রায়, তেমনি অর্থনৈতিক বৈষম্যের মাধ্যমে ও বাঙালি জাতিগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে। বাঙালি ‘প্রকৃত মুসলমান নয়’, ‘দুর্বল, কালো, বেঁটে’—এ রকম চিহ্নিত করে বাঙালি জাতির প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে সুপরিকল্পিতভাবে। মূলত পাকিস্তানের শুরু থেকেই জেনোসাইডের প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়েছে এবং ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ রাত থেকে এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

ব্যাপক গণহত্যা এবং এক কোটি মানুষকে উদ্বাস্তু হতে বাধ্য করার উদ্দেশ্য অবশ্যই ছিল বাঙালি জাতিগোষ্ঠীকে সংখ্যালঘুতে পরিণত করা। এর পাশাপাশি সুপরিকল্পিতভাবে জাতিকে মেধাশূন্য করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পীসহ সমাজের মুক্তিকামী প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী শ্রেণি।

চার. মূল কথা, মুক্তিকামী বাঙালিকে ধ্বংসের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী খুব ঠান্ডা মাথায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল। মাঠে বাস্তবায়নের সময় তারা আরও নৃশংসতার পরিচয় দিয়েছিল। সেই আক্রমণ এ দেশের দালালগোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে সারা দেশের গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ব্যাপ্তি লাভ করেছিল, যার কারণে এ দেশের নিযুত মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী এই হত্যাযজ্ঞের অংশভাক হয়ে বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে কলঙ্কময় অধ্যায় রচনা করতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করেছে। ছোট্ট একটি দেশ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করতে যে মূল্য দিতে হয়েছে বাঙালি জাতির, তা তুলনাহীন। নৃশংস জেনোসাইডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে মুক্তিযোদ্ধারা লড়াই করে পরাজিত করেছেন হত্যাকারী বাহিনীকে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশে সংঘটিত জেনোসাইডের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি অর্জিত হয়নি। তবে আশাপ্রদ ঘটনার সূচনা হয়েছে জেনোসাইড বিষয়ে কাজ করে—এমন তিনটি আমেরিকাভিত্তিক সংগঠন–লেমকিন ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন, জেনোসাইড ওয়াচ ও ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিশন অব সাইটস অব কন্সেন্স-৩১ ডিসেম্বর, ২০২১ থেকে ২৮ মার্চ ২০২২ সময়সীমার মধ্যে জেনোসাইডের স্বীকৃতিসূচক ঘোষণা দিয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কংগ্রেসম্যান বাংলাদেশে সংঘটিত জেনোসাইডের স্বীকৃতি প্রদানের আহ্বান জানিয়ে রেজল্যুশন জমা দিয়েছেন, যা আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য অপেক্ষমাণ। বিশ্বব্যাপী জেনোসাইড স্কলারদের ফোরাম ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলারসের পক্ষ থেকে শিগগিরই স্বীকৃতিসূচক রেজল্যুশন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মানবেতিহাসের বর্বরতম জেনোসাইড যা রচিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে, তার স্বীকৃতি আদায়ের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ এখনো অনেক দীর্ঘ। আমরা বিশ্বাস করি, সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় দেশে-বিদেশে সবাই মিলে বিরামহীন কাজ করে যাওয়ার মাধ্যমে এই স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা নিশ্চয় সফল হবে।

তৌহীদ রেজা নূর, লেখক, গবেষক

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    খাগড়াছড়ি পাহাড়ে রঙিন আম, বেশি দাম

    আশ্রয়ণের ঘর বরাদ্দ আছে, পরিবার নেই

    ধীরগতিতে নামছে পানি থামছে না নদীভাঙন

    ধানের দামে হতাশ দিনাজপুরের কৃষকেরা

    সাক্ষাৎকার

    চরিত্রের ব্যাপ্তি নিয়ে দর্শকের মতো আমিও হতাশ

    সাগর জাহানের নাটকে জোভান ও সাদিয়া

    ঝিনাইদহে রেলস্টেশনের কাছে পড়ে ছিল যুবকের দ্বিখণ্ডিত মরদেহ

    শেখ হাসিনা দেশকে বিক্রি করে না, সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী

    আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন পরীমণি 

    উত্তরা ব্যাংকে চাকরির সুযোগ

    যে শঙ্কায় বিয়ে করছেন না সালমান, জানালেন বাবা সেলিম খান

    বাগেরহাটে প্রতিপক্ষের হামলায় মাছ ব্যবসায়ী নিহত