গোল না পেয়ে ক্রমেই হতাশায় ডুবে যাচ্ছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। মেক্সিকোর রক্ষণে মার খাচ্ছিল একের পর এক আক্রমণ। এমন সময়ে একজনই পারতেন দলকে বাঁচাতে এবং তিনিই এলেন। বক্সের বাইরে থেকে চোখ জুড়ানো এক গোলে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলেন লিওনেল মেসি। করালেন আরেকটি।
মেক্সিকো ম্যাচের আগে পোল্যান্ডের জয়ে খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। কাতার বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে মেক্সিকোর বিপক্ষে জিততেই হতো আলবিসেলেস্তেদের। সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছেন মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজ। মেক্সিকোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে দুবারের বিশ্বকাপজয়ী দলটি।
স্বস্তির এই জয়ে ‘সি’ গ্রুপে ভালো করেই বেঁচে রইল আর্জেন্টিনার আশা। ১ ডিসেম্বর পোল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেলে হেসেখেলেই দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবেন মেসিরা। ড্র করলেও থাকবে সম্ভাবনা তবে তাকিয়ে থাকতে হবে মেক্সিকো-সৌদি আরব ম্যাচের ফলের দিকে।
আগের একাদশ থেকে পাঁচ পরিবর্তন এনে মেক্সিকোর বিপক্ষে একাদশ সাজান আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। শুরুর একাদশে খেলেছেন গঞ্জালো মন্তিয়েল, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, মার্কোস আকুনিয়া, গুইদো রদ্রিগেজ ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।
বাঁচা-মরার ম্যাচ বলেই কিনা লুসাইল স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা খেলল এলোমেলো ফুটবল। বলের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও ম্যাচের চাপে অসংখ্যবার ভুল পাস দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা।
শরীরনির্ভর ফুটবলে প্রথমার্ধে বলার মতো সুযোগই বের করতে পারেনি কোনো দলই। ৪৫ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বেশ ভালো একটা ফ্রিকিক নিয়েছিলেন আলেক্সিস ভেগা। তবে গোলরক্ষক এমেলিয়ানো মার্তিনেজের কল্যাণে কোনো বিপদে পড়তে হয়নি আর্জেন্টিনাকে।
দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের রক্ষণকে প্রায় দুর্গ বানিয়ে ফেলেছিল মেক্সিকো। একের পর এক আক্রমণেও সেই দুর্গে ফাটল ধরাতে পারছিলেন না আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। সুযোগ নষ্টে যখন হতাশা চেপে বসছিল দলের মধ্যে, তখনই এগিয়ে আসতে হলো মেসিকে। ৬৪ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে আনহেল ডি মারিয়ার কাট ব্যাকে বক্সের বাইরে বল পান মেসি। এরপর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর মাটি কামড়ানো শট ঝাঁপিয়েও ঠেকাতে পারেননি মেক্সিকো গোলরক্ষক গিলের্মো ওচোয়া। কাতার বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় গোলে ডিয়েগো ম্যারাডোনার করা ৮ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন মেসি।
সেই গোলের পরই রক্ষণকে শক্তিশালী করার কাজে মনোযোগ দেন আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি। ৬৩ মিনিটে তুলে নেওয়া হয়েছিল লাওতারো মার্তিনেজকে। ৬৯ মিনিটে একসঙ্গে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও আনহেল ডি মারিয়াকে তুলে নিয়ে নামানো হয় ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও নাহুয়েল মলিনাকে।
আক্রমণে বড় নাম না থাকলেও দ্বিতীয় গোল পেতে কষ্ট হয়নি আর্জেন্টিনার। ৮৭ মিনিটে বক্সের বাইরে বাঁ প্রান্ত থেকে ফার্নান্দেজকে বল বাড়ান মেসি। বক্সের একটু ভেতর থেকে বাঁকানো এক শটে মেক্সিকো গোলরক্ষককে হার মানান ফার্নান্দেজ। এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে গোলের রেকর্ড গড়েছেন ২১ বছর বয়সী বেনফিকা ফরোয়ার্ড।

সবশেষ কোয়ার্টার ফাইনাল হবে ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। মিসরের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩–২ ব্যবধানে জিতে শেষ আটে উঠেছে লিওনেল মেসির দল। গোলশূন্য ম্যাচের টাইব্রেকারে কলম্বিয়া
২ ঘণ্টা আগে
টাইব্রেকারে প্রথম শটেই গোল করেন কুইন্তেরো। সুইজারল্যান্ডের হয়ে জবাব দেন গ্রানিত জাকা। এরপর কলম্বিয়ার দাভিনসন সানচেসের শট ক্রসবারে লাগে, আর জেকি আমদুনি গোল করে সুইসদের এগিয়ে দেন। যদিও ম্যানুয়েল আকাঞ্জি নিজের শট বারের ওপর দিয়ে মারায় সমতায় ফেরার সুযোগ পায় কলম্বিয়া। কিন্তু কুচো হার্নান্দেসের শট
২ ঘণ্টা আগে
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মেসির জন্য সুখকর ছিল না। প্রথমার্ধে তাঁর নেওয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। কিন্তু শেষ দিকে অধিনায়কের পা থেকেই আসে সমতাসূচক গোল। এরপর যোগ করা সময়ে এনসো ফের্নান্দেসের গোলে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন লিখে ফেলে আর্জেন্টিনা।
৩ ঘণ্টা আগে
ম্যাচে ২–০ গোলে এগিয়ে থেকেও ১৩ মিনিটে তিন গোল হজম করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় মিসর। এরপর থেকেই রেফারিং নিয়ে একের পর এক অভিযোগ করে আসছেন হোসাম হাসান। মাঠের বাইরের এই ঘটনাও সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
৪ ঘণ্টা আগে