
বিশ্ব ইতিহাসে সর্বাধিক বিক্রি হওয়া বইয়ের লেখকদের তালিকায় অন্যতম নাম উইলিয়াম শেক্সপিয়ার কিংবা আগাথা ক্রিস্টি। একনামে সাহিত্যপ্রেমীরা সবাই তাঁদের চেনে। কিন্তু ডেম বারবারা কার্টল্যান্ডকে চিনতে পারবেন কি? বেশির ভাগ মানুষের উত্তর হবে—না। জীবদ্দশায় তিনি লিখেছিলেন ৭২৩টি উপন্যাস। সেগুলো বিক্রি হয়েছিল ৭৫ কোটি কপির বেশি! অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এখন বইয়ের দোকানগুলোতে তাঁর লেখা কোনো বই খুঁজে পাওয়া একপ্রকার দুষ্কর। অথচ ‘রোমান্টিক কল্পকাহিনির সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত বারবারা মারা গেছেন ২০০০ সালের ২১ মে। ৭২৩টি উপন্যাস লেখা একজন লেখিকাকে ভুলে যাওয়ার জন্য সময়টি খুব অল্প।
আজকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে ‘পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং’ শব্দটি বেশ পরিচিত। কিন্তু বারবারা তাঁর সময়ে এই পার্সোনাল ব্র্যান্ডিংয়ের শিখরে উঠে গিয়েছিলেন। জনপরিসরে তিনি নিজের এক অদ্ভুত অথচ আকর্ষণীয় ইমেজ তৈরি করেছিলেন। ঝালর দেওয়া গোলাপি গাউন, কোলে সব সময় একটি ছোট কুকুর আর চোখে ঘন পাপড়ি—এসব ছিল তাঁর আইকনিক চিত্রকল্প। তিনি এভাবেই চলাফেরা করতেন। ফলে অনেক পাঠকের কাছে তিনি ছিলেন ‘গোলাপি পোশাকের নারী’। তিনি টুথব্রাশ ব্যবহার করতেন জুতা কালি করার কাজে। তাঁকে ঘিরে মজার মজার সব ঘটনা অনেক সময় লোককে হাসিয়েছে কিংবা অবাক হতে বাধ্য করেছে। একবার কোয়ারেন্টাইন বিধিনিষেধের কারণে নিজের প্রিয় কুকুর যুক্তরাষ্ট্রে নিতে নিষেধাজ্ঞায় পড়েন তিনি। এ জন্য একটি তুলার তৈরি কুকুর কোলে নিয়ে বইয়ের প্রচারণায় নেমে পড়েছিলেন।

বারবারা শুধু এক অদ্ভুত আইকন ছিলেন না, তাঁর ব্যক্তিজীবনের পারিবারিক সম্পর্কও ছিল রাজকীয় গল্পগাথার মতো। তিনি ছিলেন ব্রিটেনের প্রয়াত রাজকুমারী প্রিন্সেস ডায়ানার সৎনানি। বারবারা কার্টল্যান্ডের মেয়ে ছিলেন রেইন ম্যাককরকোডেল, যিনি পরে রেইন স্পেনসার হিসেবে পরিচিত হন। ১৯৭৬ সালে রেইন বিয়ে করেন জন স্পেনসার বা অষ্টম আর্ল স্পেনসারকে। জন স্পেনসার প্রিন্সেস ডায়ানার বাবা। ফলে রেইন হন ডায়ানার সৎমা এবং বারবারা কার্টল্যান্ড হন ডায়ানার সৎনানি। কৈশোরে ডায়ানা নিজে বারবারা কার্টল্যান্ডের উপন্যাসের একনিষ্ঠ পাঠিকা ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, কোনো উপন্যাস লেখার পর বারবারা তাঁর কপি পাঠাতেন ডায়ানার কাছে। কিন্তু পরবর্তী জীবনে ডায়ানার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না।
লেখালেখির ক্ষেত্রেও বারবারা ছিলেন অনন্য স্টাইলের মানুষ। সোফায় শুয়ে দ্রুতগতিতে মুখে মুখে বলে যেতেন গল্প। তা টাইপ করতেন তাঁর সহকারী। এই গতিতেই তিনি প্রতি দুই সপ্তাহে একটি করে উপন্যাস শেষ করতেন। তাঁর শেষ জীবনে লেখার পরিমাণ এত বেশি ছিল যে প্রতিদিন হাজার হাজার শব্দ ডিক্টেট করতেন তিনি। সাম্প্রতিক এক জীবনীভিত্তিক গবেষণায় তাঁর দৈনিক ৭ থেকে ৮ হাজার শব্দ ডিক্টেট করার কথা উঠে এসেছে।

বারবারার গল্পগুলো ছিল ঐতিহাসিক পটভূমির। তাতে থাকত অভিজাত সমাজ, তরুণী নায়িকা, প্রেম, বিয়ে এবং আকর্ষণীয় পুরুষ চরিত্র; বিশেষ করে ভিক্টোরিয়ান ও এডওয়ার্ডিয়ান যুগ তাঁর উপন্যাসের জনপ্রিয় পটভূমি ছিল। অনেকে হয়তো একে অবাস্তব বলবেন। কিন্তু যুদ্ধোত্তর যুগের সাধারণ শ্রমজীবী নারীদের কাছে তাঁর বই ছিল এক অদ্ভুত রূপকথার আশ্রয়। বারবারার লেখায় তাঁরা প্রতিদিনের সাংসারিক বাস্তবতা ভুলে একটু মানসিক শান্তির ছোঁয়া পেতেন।
কার্টল্যান্ড শুধু রোমান্টিক উপন্যাসের লেখিকাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন মূলত একজন সাংবাদিক। তারপর বিপুল জনপ্রিয় লেখক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন রাজনীতিতে। বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন বিয়ের পোশাক সরবরাহ বা ধার দেওয়ার মতো উদ্যোগে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু আপাতদৃষ্টে ঐতিহ্যবাহী বা নারীবাদবিরোধী মনে হলেও বারবারার সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন ছিল চমকপ্রদ বৈপরীত্যে ভরা। তিনি ষাটের দশকের নারীবাদী আন্দোলনের সমালোচনা করতেন। কিন্তু তিনিই আবার নারীদের গৃহস্থালি কাজের জন্য সরকারি ভাতার জোরালো দাবি তুলেছিলেন। ১০ বছর কাউন্টি কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি স্বল্প বেতনের নার্স, অবহেলিত বৃদ্ধ এবং যাযাবর জিপসি সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ে লড়াই করেছেন। তাঁর উদ্যোগেই ব্রিটেনে জিপসিদের প্রথম স্থায়ী বাসস্থান তৈরি হয়, যে আস্তানার নাম ছিল বারবারাভিল।
এত সাফল্য সত্ত্বেও আজকের লাইব্রেরিগুলোতে তাঁর অনুপস্থিতি চোখে লাগার মতো। এর প্রধান কারণ, তাঁর উপন্যাসগুলো ছিল নির্দিষ্ট একটা সময়ের চাহিদা অনুযায়ী লেখা। তখনকার পাঠকদের যে মনস্তাত্ত্বিক ফ্যান্টাসি ছিল, তা কালক্রমে বদলে গেছে। বিশ শতকের পটভূমিতে কোনো নিষ্পাপ, সুন্দরী তরুণী এবং অভিজাত কিন্তু উদ্ধত কোনো লর্ড বা পুরুষ চরিত্রের প্রেমই ছিল তাঁর গল্পের মূল উপজীব্য। তাঁর লেখা পাঠকদের কাছে কোনো নির্দিষ্ট গল্প নয়, বরং ‘বারবারা কার্টল্যান্ড রোমান্স’ হিসেবেই পরিচিত ছিল। তাই একটা সময় বইয়ের পাতা থেকে তাঁর চরিত্র হারিয়ে গেছে। কিন্তু অনন্য ব্যক্তিত্ব, অদ্ভুত ব্র্যান্ডিং আর মানুষের জন্য কাজের মধ্য দিয়ে বারবারা কার্টল্যান্ড ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় চরিত্র হয়েই থেকে যাবেন।
সূত্র: বিবিসি, দ্য উইক

জিন মারিয়ান ওপেনহাইমার ছিলেন একজন ভ্রূণবিজ্ঞানী এবং বিজ্ঞান ইতিহাসবিদ। ভ্রূণবিজ্ঞানে তাঁর অন্যতম অবদান ছিল একধরনের মাছের ভ্রূণের ওপর পরীক্ষা। বিস্তারিত তথ্যের প্রতি নির্ভুল মনোযোগ এবং প্রজ্ঞার জন্য বিজ্ঞান মহলে তিনি আজও স্মরণীয়।
৩ ঘণ্টা আগে
এমন যদি হয়—ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে একটি পেজ চলে এল আপনার সামনে। নাম ‘নিশু পিশু’। সেখানে একজন বইয়ের গল্প বলছেন। আপনি কিছুটা থমকে গেলেন। গল্পটা মন দিয়ে শুনলেন। তারপর বইটি কিনে পড়লেন। বইটি পড়ে মুগ্ধও হলেন। যাঁর গল্প শুনে বইটি কিনতে আগ্রহী হলেন, তিনি নিশাত সিকদার।
৪ ঘণ্টা আগে
আধুনিক ইতিহাস ও নারী অধিকার আন্দোলনের পাতায় ১৬ সেপ্টেম্বর তারিখটি রক্তক্ষয়ী এক সংগ্রামের প্রতীক হয়ে থাকা কালো দিন। আজ থেকে ঠিক চার বছর আগে, ২০২২ সালের এই দিনে তেহরানের একটি হাসপাতালে মাত্র ২২ বছর বয়সী এক কুর্দি তরুণী শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। সেই তরুণীর নাম মাহসা জিনা আমিনি।
৫ ঘণ্টা আগে
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাসাকা প্রদেশ। সূর্য ডোবার সময় পাহাড়ের ওপর দুর্গের মতো তৈরি সামরিক স্থাপনার পাশ দিয়ে ছুটছেন কয়েকজন তরুণী। কারও হাতে কালাশনিকভ অর্থাৎ একে-৪৭ রাইফেল। তবে শত্রুর দিকে অস্ত্র তাক করতে নয়, সূর্যাস্তের হালকা নীল ও সবুজ আলোয় ছবি তুলতেই তাঁদের এই ব্যস্ততা।
৭ দিন আগে