মোসাইদ রাহাত, সুনামগঞ্জ

আঙ্গুরী বেগম। তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের সূর্যেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। টানা তিন দফা বন্যায় ঘরে পানি ওঠায় দুই বছরের শিশুসহ যেতে হয়েছিল আশ্রয়কেন্দ্রে। যে বিদ্যালয়ের ভবনে তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন, এর পরিবেশ ছিল ভীষণ নোংরা। বাথরুমে যাওয়া যেত না। নারী-পুরুষ সবাইকে এক জায়গায় থাকতে হয়েছে। শিশুদের বুকের দুধপানের পরিবেশ পাওয়া যায়নি।
হাওরের বন্যা, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য মারাত্মক দুর্ভোগের সৃষ্টি করে। তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা বন্যার কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বছর টানা তিন দফা বন্যায় সুনামগঞ্জের অবস্থা আরও করুণ ছিল। গোসল থেকে শুরু করে শৌচাগার ব্যবহারে বেগ পেতে হয়েছে নারীদের। ঋতুকালে ব্যবহারের জন্য ন্যাপকিনের অপ্রতুলতা তো ছিলই, ছিল ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সংকট। ফলে নারীদের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে থাকতে হয়েছে পুরো সময়।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চালবন এলাকার বাসিন্দা লুবনা বিবি। তিনি বলেছেন, ‘এগুলো শরমের কথা। তবে বন্যা এলে নিজের জান বাঁচানি গেলেও মহিলার সমস্যা সবকিছু কওয়া যায় না। গোসল করার সুবিধা থাকে না, অনেক সময় রাতের অপেক্ষা করতে হয় গোসলের লাগি; বিশেষ করি মাসিক যারার অয়, তারার অবস্থা খারাপ।’ লুবনা বিবি দাবি জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে যেন নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়।
তিন দফার বন্যায় ঘরে পানি উঠলেও আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি শান্তিগঞ্জের শরিয়তপুর গ্রামের বাসিন্দা রোকসানা বেগম। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর শেষ সম্বল ভিটে ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না বলে সেখানে যাননি। বন্যায় ঘরের ভেতরে পানি। ঘরের পাশে যে বাথরুম ছিল, সেটা ছিল পানির নিচে। এ অবস্থায় তাঁর ছোট মেয়ে অসুস্থ হয়েছিল।
এসব খণ্ড চিত্র একত্র করলে পুরো সুনামগঞ্জের বন্যাকালের চিত্র বোঝা যায়। বাস্তবতা হলো, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে নারী-পুরুষ সবারই সমস্যা হয়। কিন্তু নারী ও শিশুদের সমস্যা হয় বেশি। আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। তাতে দুর্যোগকালে মানুষ আশ্রয়ও নিচ্ছে। কিন্তু নারী ও শিশুদের বিশেষ সমস্যাগুলোর দিকে তেমন নজর দেওয়া হচ্ছে বলে মনে হয় না। নারী ও শিশুদের দুর্ভোগের বিষয়ে রুম টু রিড বাংলাদেশের গার্লস এডুকেশন প্রোগ্রামের বর্ষা রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, বন্যার সময় মেয়েরা স্যানিটেশন বিষয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হয়। সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলে অন্য সবকিছুর সঙ্গে টয়লেটও তলিয়ে যায়। ফলে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে নারী ও শিশুরা।
বর্ষা রায় চৌধুরী বলেন, বন্যা কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করা জরুরি। সেই সঙ্গে বন্যা চলাকালে মেয়েদের স্যানিটেশন নিয়ে ভাবার আছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট এবং সম্ভব হলে মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেট রাখার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। বন্যাদুর্গতদের ত্রাণসামগ্রীর সঙ্গে স্যানিটারি ন্যাপকিন রাখাটা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া জরুরি।
সুনামগঞ্জ জেলা মহিলাবিষয়ক কার্যালয়ের উপপরিচালক এ জে এম রেজাউল আলম বিন আনছার বলেন, ‘বন্যায় নারী ও শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এটি সত্য। এ থেকে উত্তরণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এই সমস্যাগুলো মন্ত্রণালয়কে অবগত করা আছে। মূল সমস্যা আমাদের যে শেল্টার ঘরগুলো আছে, সেগুলো বানানোর সময় সেভাবে চিন্তা করে বানানো হয়নি। যার কারণে নারীদের এমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এই দুর্ভোগ কমিয়ে আনা হবে।’

আঙ্গুরী বেগম। তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের সূর্যেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। টানা তিন দফা বন্যায় ঘরে পানি ওঠায় দুই বছরের শিশুসহ যেতে হয়েছিল আশ্রয়কেন্দ্রে। যে বিদ্যালয়ের ভবনে তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন, এর পরিবেশ ছিল ভীষণ নোংরা। বাথরুমে যাওয়া যেত না। নারী-পুরুষ সবাইকে এক জায়গায় থাকতে হয়েছে। শিশুদের বুকের দুধপানের পরিবেশ পাওয়া যায়নি।
হাওরের বন্যা, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য মারাত্মক দুর্ভোগের সৃষ্টি করে। তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা বন্যার কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বছর টানা তিন দফা বন্যায় সুনামগঞ্জের অবস্থা আরও করুণ ছিল। গোসল থেকে শুরু করে শৌচাগার ব্যবহারে বেগ পেতে হয়েছে নারীদের। ঋতুকালে ব্যবহারের জন্য ন্যাপকিনের অপ্রতুলতা তো ছিলই, ছিল ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সংকট। ফলে নারীদের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে থাকতে হয়েছে পুরো সময়।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চালবন এলাকার বাসিন্দা লুবনা বিবি। তিনি বলেছেন, ‘এগুলো শরমের কথা। তবে বন্যা এলে নিজের জান বাঁচানি গেলেও মহিলার সমস্যা সবকিছু কওয়া যায় না। গোসল করার সুবিধা থাকে না, অনেক সময় রাতের অপেক্ষা করতে হয় গোসলের লাগি; বিশেষ করি মাসিক যারার অয়, তারার অবস্থা খারাপ।’ লুবনা বিবি দাবি জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে যেন নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়।
তিন দফার বন্যায় ঘরে পানি উঠলেও আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি শান্তিগঞ্জের শরিয়তপুর গ্রামের বাসিন্দা রোকসানা বেগম। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর শেষ সম্বল ভিটে ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না বলে সেখানে যাননি। বন্যায় ঘরের ভেতরে পানি। ঘরের পাশে যে বাথরুম ছিল, সেটা ছিল পানির নিচে। এ অবস্থায় তাঁর ছোট মেয়ে অসুস্থ হয়েছিল।
এসব খণ্ড চিত্র একত্র করলে পুরো সুনামগঞ্জের বন্যাকালের চিত্র বোঝা যায়। বাস্তবতা হলো, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে নারী-পুরুষ সবারই সমস্যা হয়। কিন্তু নারী ও শিশুদের সমস্যা হয় বেশি। আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। তাতে দুর্যোগকালে মানুষ আশ্রয়ও নিচ্ছে। কিন্তু নারী ও শিশুদের বিশেষ সমস্যাগুলোর দিকে তেমন নজর দেওয়া হচ্ছে বলে মনে হয় না। নারী ও শিশুদের দুর্ভোগের বিষয়ে রুম টু রিড বাংলাদেশের গার্লস এডুকেশন প্রোগ্রামের বর্ষা রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, বন্যার সময় মেয়েরা স্যানিটেশন বিষয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হয়। সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলে অন্য সবকিছুর সঙ্গে টয়লেটও তলিয়ে যায়। ফলে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে নারী ও শিশুরা।
বর্ষা রায় চৌধুরী বলেন, বন্যা কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করা জরুরি। সেই সঙ্গে বন্যা চলাকালে মেয়েদের স্যানিটেশন নিয়ে ভাবার আছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট এবং সম্ভব হলে মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেট রাখার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। বন্যাদুর্গতদের ত্রাণসামগ্রীর সঙ্গে স্যানিটারি ন্যাপকিন রাখাটা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া জরুরি।
সুনামগঞ্জ জেলা মহিলাবিষয়ক কার্যালয়ের উপপরিচালক এ জে এম রেজাউল আলম বিন আনছার বলেন, ‘বন্যায় নারী ও শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এটি সত্য। এ থেকে উত্তরণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এই সমস্যাগুলো মন্ত্রণালয়কে অবগত করা আছে। মূল সমস্যা আমাদের যে শেল্টার ঘরগুলো আছে, সেগুলো বানানোর সময় সেভাবে চিন্তা করে বানানো হয়নি। যার কারণে নারীদের এমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এই দুর্ভোগ কমিয়ে আনা হবে।’

লৈঙ্গিক সমতা শুধু একটি সামাজিক আদর্শ নয়, এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০২৫ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে লৈঙ্গিক বৈষম্য বর্তমানে ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ দূর হয়েছে। তবে বর্তমান অগ্রগতির গতি বজায় থাকলে পূর্ণ সমতা অর্জনে বিশ্বকে আরও ১২৩
৩২ মিনিট আগে
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাসে এক অনন্য নাম ড. রাজিয়া বানু। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনার জন্য যে ৩৪ সদস্যের খসড়া কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন সেই কমিটির একমাত্র নারী সদস্য। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন, যেটি মুসলিম পারিবারিক আইনসংক্রান্ত বহুবিবাহের প্রক্রিয়া। এই রায়ে হাইকোর্ট মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী একজন ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে ‘সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি’ নিতে হবে, এমন বিধান
২ ঘণ্টা আগে
সত্তর দশকের তেহরান ছিল আজকের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন। সেই ভিন্ন তেহরানের এক প্রাণচঞ্চল কিশোরী ছিলেন মেরিনা। যে কিশোরী সমুদ্রসৈকতে নিজের মতো করে ঘুরে বেড়াতে, বন্ধুদের সঙ্গে গানের তালে নেচে বেড়াতে পছন্দ করতেন। কিন্তু ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব মেরিনার রঙিন শৈশব নিমেষে ধূসর করে দেয়। ইরানি বংশোদ্ভূত কানাডীয়
৩ ঘণ্টা আগে