উত্তরণ

আমরা দুই বোন, ভাই নেই। ছোটবেলায় বাবা মারা যান। বাবার রেখে যাওয়া দুটি ফ্ল্যাট হেবা করা হয়েছে। কিন্তু তা রেজিস্ট্রেশন হয়েছে কি না, আমরা দুই বোন জানি না। সম্প্রতি মা আবার বিয়ে করেছেন এবং মায়ের কেনা একটি জমি আছে। বর্তমান বাবা কি আমাদের ওয়ারিশ? আর কীভাবে কী করলে আমরা নিরাপদ?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ঢাকা
আপনার পরিস্থিতি পারিবারিক উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি-সম্পর্কিত আইনের মধ্যে পড়ে। প্রথমত আপনার বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি (দুটি ফ্ল্যাট) সম্পর্কে বলি। সেগুলো যদি হেবা (উপহার) করা হয়ে থাকে, তবে দেখতে হবে, হেবা আইনত বৈধভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না। হেবা যদি শুধু মৌখিকভাবে করা হয়, তবে তা আইনি ভিত্তিতে দুর্বল হতে পারে। হেবা নিবন্ধিত (রেজিস্ট্রেশন) করা হয়েছে কি না, তা জেলা সাবরেজিস্ট্রার অফিসে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হতে হবে। যদি হেবা বৈধভাবে সম্পন্ন না হয়ে থাকে, তাহলে আপনারা দুই বোন ওয়ারিশ হিসেবে বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকার দাবি করতে পারেন।
দ্বিতীয়ত আপনার মায়ের কেনা জমি তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তিনি যাকে ইচ্ছা এই জমি দিতে পারেন। আপনার মা যদি এই সম্পত্তির ব্যাপারে কোনো উইল (অছি বা অসিয়তনামা) করে না যান, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানেরা এবং বর্তমান স্বামী ওয়ারিশ হতে পারে।
অর্থাৎ, আপনার মায়ের বর্তমান স্বামী আইনি ওয়ারিশ হবেন, তবে সেটা মায়ের মৃত্যুর পর। কিন্তু মা যদি জীবদ্দশায় আপনাদের নামে হেবা করে দেন বা উইল লিখে দেন, তাহলে বর্তমান স্বামীর কোনো অধিকার থাকবে না।
এ বিষয়ে বাবার সম্পত্তির (দুটি ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে) জন্য আপনাদের করণীয় হবে, সাবরেজিস্ট্রার অফিস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা। আপনার বাবার ফ্ল্যাটের হেবা রেজিস্ট্রেশন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া। যদি হেবা রেজিস্ট্রেশন না হয়ে থাকে, তবে ওয়ারিশান সনদ সংগ্রহ করুন এবং আইনগতভাবে অংশীদারত্ব দাবি করুন।
মায়ের সম্পত্তির ক্ষেত্রে আপনাদের করণীয় হবে, মায়ের সঙ্গে বসে উইল বা হেবা করার ব্যাপারে আলোচনা করা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা না হয়। মা যদি আপনাদের নামে জমি হেবা করতে চান, তাহলে তা সাবরেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করান।
যেহেতু বিষয়টি সম্পত্তির মালিকানা ও উত্তরাধিকারের সঙ্গে জড়িত, তাই একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন। তিনি আপনাদের আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করতে পারেন।
পরামর্শ দিয়েছেন: ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

ইরানের ধূলিধূসরিত রাজপথ আজ শুধু প্রতিবাদের সাক্ষী নয়। বর্তমান আন্দোলনের জের ধরে একে মানুষের রক্তেভেজা ইতিহাসের দলিলও বলা চলে। ২০২৬ সালের শুরুতে ইরানের ইস্পাহান, গোরগান এবং তেহরানের রাজপথ প্রকম্পিত হয়েছে স্লোগানে। এই আন্দোলনে পুরুষের পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ে যাচ্ছেন নারীরা।
১ দিন আগে
প্রশ্ন: আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। বাড়িতে থাকি। আব্বু, আম্মু অন্য জেলায় চাকরি করেন, ভাইয়া ঢাকায় পড়াশোনা করে। দাদিদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কলেজে যাই, বাসায় আসি, রান্না করি, বাসার অন্যান্য কাজ করি, ঘুমাই। সামনে আমার পরীক্ষা, পড়াশোনায় ফোকাস রাখার চেষ্টা করি।
১ দিন আগে
নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার প্রশ্নে বর্তমানে বাংলাদেশ এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বিবিএস, ইউএনএফপিএ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাম্প্রতিক তথ্যমতে, ঘরে-বাইরে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীর প্রতি সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ঘরের ভেতরে এই নির্যাতনের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
১ দিন আগে
দেড় শ বছর আগে একজন নারীর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখা ছিল সমাজের চোখে এক বিশাল ধৃষ্টতা। সেই ধৃষ্টতা দেখিয়েছিলেন সোফিয়া জ্যাকস-ব্লেক। তিনি কঠিন সময়েও পিছু হটেননি। অপমানকে পুঁজি করে জনমত গঠন করে প্রমাণ করেছিলেন, চিকিৎসা পেশায় নারীদের প্রয়োজনীয়তা কতটা জরুরি।
১ দিন আগে