কাশফিয়া আলম ঝিলিক

পাট দিয়ে শৌখিন জিনিস তৈরি করতেন নাসরিনের বাবা। করোনার সময় যখন তাঁর পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, তখন সংসারে সাহায্য করার কথা ভাবেন নাসরিন। বাবার তৈরি পণ্য দিয়েই শুরু করেন নিজের অনলাইন ব্যবসা। যুক্ত হন ফেসবুকের উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স (উই) নামের গ্রুপটির সঙ্গে। এই গ্রুপে এসে তাঁর ব্যবসা পেয়েছে নতুন মাত্রা।
নাসরিনের মতো অনেকেই আছেন যাঁরা নিজের পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য হাল ধরেছেন সফলভাবে। উই নামের গ্রুপটি তৈরি করা হয় সেই নারীদের জন্য, যাঁরা নিজে কিছু করতে চান। এর পেছনে আছে একজন নিশার পরিশ্রমের গল্প।
শুরুর গল্প
উইয়ের প্রতিষ্ঠাতা নাসিমা আক্তার নিশার জন্ম ঢাকাতেই। বেড়ে ওঠা, বিয়ে এবং কর্মক্ষেত্র সবই ঢাকায়। নির্দিষ্ট করে বললে বনানীতে। একটি যৌথ পরিবারের সন্তান নিশার হাত ধরে উইয়ের বেড়ে ওঠার গল্পটা খুব সহজ ছিল না। মেয়েদের পড়াশোনার বিষয়ে পরিবারের মনোভাব খুব ভালো ছিল না। কিন্তু নিশার পড়ালেখা করার আগ্রহ ছিল প্রবল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছে থাকলেও বাসা থেকে তা দূরে হওয়ায় সেখানে পড়ার অনুমতি মেলেনি। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি থেকেও কাজ করা নিয়ে ছিল আপত্তি। তবে নিশার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাবা ও স্বামীর সিদ্ধান্তে ২০০৫ সাল থেকে বাবার ব্যবসার দায়িত্ব বুঝে নেন নিশা।
ব্যবসাবদল
বাবার রিয়েল এস্টেট ব্যবসা দেখাশোনা করতে গিয়ে কিছুদিনের মধ্যেই নিশা বুঝতে পারেন, সেই কাজ তাঁকে দিয়ে হবে না। তাই শুরু করেন নিজের আগ্রহের জায়গা গেমিং প্ল্যাটফর্মের কাজ। মোবাইল ফোনের অ্যাপ ডেভেলপ দিয়ে শুরু করে পরে সফটওয়্যার ডেভেলপের কাজ শুরু করেন তিনি। এভাবে ২০১০ সাল থেকে নিশার উদ্যোক্তা জীবনের শুরু। ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আসা করতে করতে খেয়াল করেন, এমন অনেক নারীই আছেন যাঁরা প্রতিভাবান হওয়া সত্ত্বেও কাজ করতে পারছেন না। চাইলেই তাঁরা সংসারের হাল ধরতে পারছেন না। সে সময় নিশা ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সঙ্গে কাজ করছিলেন। তখন থেকেই নারীদের ই-কমার্স সেক্টরে কাজের সুযোগ নিয়ে ভাবতে থাকেন। নিজে কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নারীদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার চিন্তা করলেন, যেখানে তাঁরা নিজেদের প্রতিভা কাজে লাগাতে পারেন।
উইয়ের যাত্রা শুরু
তুরস্কে এনটিএফের একটি নারীবিষয়ক প্রশিক্ষণে অংশ নেন নিশা। সেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের নারীরা তাঁদের পণ্য নিয়ে হাজির হন এবং সেখানকার ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই ছিলেন নারী। মূলত সেখান থেকেই দেশের নারীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির কথা মাথায় আসে নিশার। তত দিনে তিনি খেয়াল করেন, সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করতে গিয়েও বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বুঝতে পারছেন না কোথায় বায়ার কিংবা সেলার পাবেন। ই-ক্যাবের তৎকালীন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেন বিষয়টি। এরপর ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর উইয়ের যাত্রা শুরু হয়।
আশীর্বাদ হয়ে আসে করোনা
করোনার সময় উই একটা নতুন মাত্রা পায়। তখন পরিবার বাঁচাতে অনেকেই ফেসবুক ঘিরে কিছু না কিছু করতে চাইছেন। সে সময় উই নারীদের সহায়তা করতে এগিয়ে আসে। গ্রুপটি যেহেতু আগে থেকেই ছিল, তাই কাজটি সহজ হয়। পণ্য বিপণনের জন্য অনেকেই যুক্ত হতে থাকেন গ্রুপটিতে। কার্যক্রম বাড়তে থাকে। তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ট্রলের শিকার হতে হয়েছিল নিশা এবং উইয়ের সদস্যদের। প্রতিদিনই বিভিন্ন নেতিবাচক জিনিস দেখতেন তিনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি।
ধীরে ধীরে উই থেকে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। প্রথমে ঢাকাভিত্তিক হলেও পরে ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় কাজ করা শুরু করে উই। ধীরে ধীরে সারা দেশে এমনকি এখন বিদেশেও নানান আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। উইয়ের অফিসে প্রতিদিন ক্রেতা ও বিক্রেতার দেখা হয়। প্রায় ৫০ জন উদ্যোক্তা সেখানে তাঁদের পণ্য নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য। ক্রেতাদের আনা হয় উইয়ের পক্ষ থেকে।
উইয়ের সঙ্গে যুক্ত এমন অনেকেই আছেন যাঁদের পরিবার চায় না তাঁরা বাইরে কাজ করুন। সে ধরনের সদস্যরা উইকে নিজেদের ভরসার জায়গা মনে করেন।
উইকে আজকের অবস্থানে আনতে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে নিশাকে। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে তিনি পেয়েছিলেন জীবনসঙ্গীর সহায়তা। একসঙ্গে পথ চলতে চলতে ২০১৯ সালে তিনি হারান তাঁকে। উইয়ের সফলতার ভাগীদার হিসেবে তাই তাঁকে অস্বীকার করেন না নিশা। বলেন, ‘আমার পার্টনার আমাকে সব সময় বলতেন, ‘’তুমি উই কখনো ছেড়ে দিয়ো না।’’ আমি ওকে অনেক মিস করি। আমার আজকে এই অবস্থানে আসার পেছনে তাঁর অবদান অনেক।’

পাট দিয়ে শৌখিন জিনিস তৈরি করতেন নাসরিনের বাবা। করোনার সময় যখন তাঁর পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, তখন সংসারে সাহায্য করার কথা ভাবেন নাসরিন। বাবার তৈরি পণ্য দিয়েই শুরু করেন নিজের অনলাইন ব্যবসা। যুক্ত হন ফেসবুকের উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স (উই) নামের গ্রুপটির সঙ্গে। এই গ্রুপে এসে তাঁর ব্যবসা পেয়েছে নতুন মাত্রা।
নাসরিনের মতো অনেকেই আছেন যাঁরা নিজের পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য হাল ধরেছেন সফলভাবে। উই নামের গ্রুপটি তৈরি করা হয় সেই নারীদের জন্য, যাঁরা নিজে কিছু করতে চান। এর পেছনে আছে একজন নিশার পরিশ্রমের গল্প।
শুরুর গল্প
উইয়ের প্রতিষ্ঠাতা নাসিমা আক্তার নিশার জন্ম ঢাকাতেই। বেড়ে ওঠা, বিয়ে এবং কর্মক্ষেত্র সবই ঢাকায়। নির্দিষ্ট করে বললে বনানীতে। একটি যৌথ পরিবারের সন্তান নিশার হাত ধরে উইয়ের বেড়ে ওঠার গল্পটা খুব সহজ ছিল না। মেয়েদের পড়াশোনার বিষয়ে পরিবারের মনোভাব খুব ভালো ছিল না। কিন্তু নিশার পড়ালেখা করার আগ্রহ ছিল প্রবল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছে থাকলেও বাসা থেকে তা দূরে হওয়ায় সেখানে পড়ার অনুমতি মেলেনি। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি থেকেও কাজ করা নিয়ে ছিল আপত্তি। তবে নিশার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাবা ও স্বামীর সিদ্ধান্তে ২০০৫ সাল থেকে বাবার ব্যবসার দায়িত্ব বুঝে নেন নিশা।
ব্যবসাবদল
বাবার রিয়েল এস্টেট ব্যবসা দেখাশোনা করতে গিয়ে কিছুদিনের মধ্যেই নিশা বুঝতে পারেন, সেই কাজ তাঁকে দিয়ে হবে না। তাই শুরু করেন নিজের আগ্রহের জায়গা গেমিং প্ল্যাটফর্মের কাজ। মোবাইল ফোনের অ্যাপ ডেভেলপ দিয়ে শুরু করে পরে সফটওয়্যার ডেভেলপের কাজ শুরু করেন তিনি। এভাবে ২০১০ সাল থেকে নিশার উদ্যোক্তা জীবনের শুরু। ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আসা করতে করতে খেয়াল করেন, এমন অনেক নারীই আছেন যাঁরা প্রতিভাবান হওয়া সত্ত্বেও কাজ করতে পারছেন না। চাইলেই তাঁরা সংসারের হাল ধরতে পারছেন না। সে সময় নিশা ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সঙ্গে কাজ করছিলেন। তখন থেকেই নারীদের ই-কমার্স সেক্টরে কাজের সুযোগ নিয়ে ভাবতে থাকেন। নিজে কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নারীদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার চিন্তা করলেন, যেখানে তাঁরা নিজেদের প্রতিভা কাজে লাগাতে পারেন।
উইয়ের যাত্রা শুরু
তুরস্কে এনটিএফের একটি নারীবিষয়ক প্রশিক্ষণে অংশ নেন নিশা। সেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের নারীরা তাঁদের পণ্য নিয়ে হাজির হন এবং সেখানকার ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই ছিলেন নারী। মূলত সেখান থেকেই দেশের নারীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির কথা মাথায় আসে নিশার। তত দিনে তিনি খেয়াল করেন, সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করতে গিয়েও বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বুঝতে পারছেন না কোথায় বায়ার কিংবা সেলার পাবেন। ই-ক্যাবের তৎকালীন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেন বিষয়টি। এরপর ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর উইয়ের যাত্রা শুরু হয়।
আশীর্বাদ হয়ে আসে করোনা
করোনার সময় উই একটা নতুন মাত্রা পায়। তখন পরিবার বাঁচাতে অনেকেই ফেসবুক ঘিরে কিছু না কিছু করতে চাইছেন। সে সময় উই নারীদের সহায়তা করতে এগিয়ে আসে। গ্রুপটি যেহেতু আগে থেকেই ছিল, তাই কাজটি সহজ হয়। পণ্য বিপণনের জন্য অনেকেই যুক্ত হতে থাকেন গ্রুপটিতে। কার্যক্রম বাড়তে থাকে। তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ট্রলের শিকার হতে হয়েছিল নিশা এবং উইয়ের সদস্যদের। প্রতিদিনই বিভিন্ন নেতিবাচক জিনিস দেখতেন তিনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি।
ধীরে ধীরে উই থেকে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। প্রথমে ঢাকাভিত্তিক হলেও পরে ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় কাজ করা শুরু করে উই। ধীরে ধীরে সারা দেশে এমনকি এখন বিদেশেও নানান আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। উইয়ের অফিসে প্রতিদিন ক্রেতা ও বিক্রেতার দেখা হয়। প্রায় ৫০ জন উদ্যোক্তা সেখানে তাঁদের পণ্য নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য। ক্রেতাদের আনা হয় উইয়ের পক্ষ থেকে।
উইয়ের সঙ্গে যুক্ত এমন অনেকেই আছেন যাঁদের পরিবার চায় না তাঁরা বাইরে কাজ করুন। সে ধরনের সদস্যরা উইকে নিজেদের ভরসার জায়গা মনে করেন।
উইকে আজকের অবস্থানে আনতে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে নিশাকে। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে তিনি পেয়েছিলেন জীবনসঙ্গীর সহায়তা। একসঙ্গে পথ চলতে চলতে ২০১৯ সালে তিনি হারান তাঁকে। উইয়ের সফলতার ভাগীদার হিসেবে তাই তাঁকে অস্বীকার করেন না নিশা। বলেন, ‘আমার পার্টনার আমাকে সব সময় বলতেন, ‘’তুমি উই কখনো ছেড়ে দিয়ো না।’’ আমি ওকে অনেক মিস করি। আমার আজকে এই অবস্থানে আসার পেছনে তাঁর অবদান অনেক।’

লৈঙ্গিক সমতা শুধু একটি সামাজিক আদর্শ নয়, এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০২৫ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে লৈঙ্গিক বৈষম্য বর্তমানে ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ দূর হয়েছে। তবে বর্তমান অগ্রগতির গতি বজায় থাকলে পূর্ণ সমতা অর্জনে বিশ্বকে আরও ১২৩
৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাসে এক অনন্য নাম ড. রাজিয়া বানু। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনার জন্য যে ৩৪ সদস্যের খসড়া কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন সেই কমিটির একমাত্র নারী সদস্য। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন তিনি।
৪ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন, যেটি মুসলিম পারিবারিক আইনসংক্রান্ত বহুবিবাহের প্রক্রিয়া। এই রায়ে হাইকোর্ট মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী একজন ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে ‘সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি’ নিতে হবে, এমন বিধান
৪ ঘণ্টা আগে
সত্তর দশকের তেহরান ছিল আজকের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন। সেই ভিন্ন তেহরানের এক প্রাণচঞ্চল কিশোরী ছিলেন মেরিনা। যে কিশোরী সমুদ্রসৈকতে নিজের মতো করে ঘুরে বেড়াতে, বন্ধুদের সঙ্গে গানের তালে নেচে বেড়াতে পছন্দ করতেন। কিন্তু ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব মেরিনার রঙিন শৈশব নিমেষে ধূসর করে দেয়। ইরানি বংশোদ্ভূত কানাডীয়
৫ ঘণ্টা আগে