Ajker Patrika

‘উনি যেন দ্রুত মারা যান’, মন্দিরের দানবাক্সে ২০ রুপির নোটে লেখা আরজি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২০ জুন ২০২৬, ১৬: ০৭
‘উনি যেন দ্রুত মারা যান’, মন্দিরের দানবাক্সে ২০ রুপির নোটে লেখা আরজি
ঈশ্বরের কাছে মৃত্যু কামনা করে ভক্তের আর্জি। ছবি: সংগৃহীত

ঈশ্বরের কাছে মানুষ সাধারণত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, চাকরি, বিয়ে কিংবা সংসারের সুখ-শান্তির জন্য প্রার্থনা করে থাকে। কিন্তু ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের একটি মন্দিরের দানবাক্সে পাওয়া গেছে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী এবং এক ভীতিকর চিরকুট। ২০ রুপির একটি নোটের ওপর হাতে লেখা ওই চিরকুটে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে—যাতে এক পরীক্ষার্থীর বা ভক্তের অত্যাচারী ‘চাচি’ দ্রুত মারা যান।

অন্ধ্র প্রদেশের অনন্তপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী সুব্রহ্মণেশ্বর স্বামী মন্দিরে ঘটনাটি ঘটেছে। এই অদ্ভুত চিরকুটটি প্রকাশ্যে আসার পর মন্দিরের সেবায়েত, কর্মকর্তা এবং সাধারণ ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি সপ্তাহের মতো মন্দিরের হুন্ডি বা দানবাক্সে জমা পড়া ভক্তদের অর্থ ও অন্যান্য প্রণামি গোনার কাজ করছিলেন কর্মকর্তারা। বিভিন্ন মূল্যমানের নোট ও কয়েন সাজানোর সময় এক কর্মকর্তার চোখে পড়ে ২০ রুপির একটি নোট, যার ওপর কলম দিয়ে কিছু একটা লেখা রয়েছে।

কৌতূহলবশত নোটটি হাতে নিয়ে পড়তে গিয়ে হতবাক হয়ে যান মন্দিরের কর্মীরা। অত্যন্ত অনুনয়-বিনয় বা অনুরোধের সুরে তেলেগু ভাষায় নোটে লেখা ছিল: ‘স্বামী (হে ঈশ্বর), আমি আমার চাচির অত্যাচার আর সহ্য করতে পারছি না। দয়া করে নিশ্চিত করুন, যাতে তিনি খুব দ্রুত মারা যান।’

সাধারণত মন্দিরের দানবাক্সে ভক্তরা নিজেদের মনস্কামনা লিখে চিরকুট বা অর্থ দিয়ে থাকেন। তবে কোনো মানুষের মৃত্যুর প্রার্থনা করে এমন চিরকুট মেলা অত্যন্ত নজিরবিহীন বলে জানিয়েছেন মন্দির-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চিরকুটটি পড়ার পর মন্দিরের কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ কেউ এই অদ্ভুত ও করুণ আরজি দেখে হেসে ফেললেও অনেকের মধ্যেই এটি গভীর অস্বস্তি তৈরি করেছে। স্থানীয় এক ভক্ত বলেন, ‘পারিবারিক অত্যাচার কতটা চরম পর্যায়ে পৌঁছালে একজন মানুষ মন্দিরে এসে ঈশ্বরের কাছে কারও মৃত্যু কামনা করতে পারেন, তা ভাবলেই খারাপ লাগছে।’

নোটটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের মধ্যেও এটি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। অনেকেই ওই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মানসিক কষ্ট ও পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন, আবার অনেকে মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা এবং এমন নেতিবাচক প্রার্থনার সমালোচনা করেছেন।

মন্দির কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে দানবাক্সে হরেক রকমের চিঠি বা চিরকুট পাওয়া গেলেও এই ধরনের চরম বিদ্বেষ ও হতাশা মাখানো চিরকুট তাঁরা আগে কখনো দেখেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত