Ajker Patrika

লটারিতে রাতারাতি কোটিপতি হওয়া বৌদ্ধ সন্ন্যাসী যে ঘোষণা দিলেন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
লটারিতে রাতারাতি কোটিপতি হওয়া বৌদ্ধ সন্ন্যাসী যে ঘোষণা দিলেন
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার পেনাং অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ব্যাংকের সৌভাগ্যবান গ্রাহক নির্বাচনী ড্র-তে এক মিলিয়ন রিঙ্গিত (প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা) জিতে রাতারাতি ধনী হয়ে গেছেন। তবে ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসে নয়, এই অর্থ সমাজের কল্যাণে ব্যয় করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী চান চাই সিয়াং নামের ওই সন্ন্যাসী একসময় কারখানার শ্রমিক ছিলেন। বর্তমানে তিনি একটি নির্জন আশ্রমে (হারমিটেজ) বসবাস করেন। ব্যাংক সিম্পানান ন্যাশনালের (বিএসএন) ‘মিলিয়নিয়ার ড্র’-এর ১২৪ তম বিজয়ী হিসেবে তিনি ১০ লাখ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত পুরস্কার পান।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে। তবে প্রথম দিকে বিষয়টি বিশ্বাসই করতে পারেননি চান চাই সিয়াং। তিনি জানান, ব্যাংক থেকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি সেটিকে প্রতারণার চেষ্টা বলে মনে করেছিলেন।

সন্ন্যাসী বলেন, ‘প্রথমে আমি ভেবেছিলাম এটি একটি প্রতারণা। তারা আমাকে প্রায় তিনবার ফোন করেছিল, কিন্তু আমি মাত্র একবার ফোন ধরেছিলাম।’

পরে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করার পর তিনি নিশ্চিত হন, পুরস্কারটি সত্যিই তার প্রাপ্য।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—এই বিপুল অর্থের পুরস্কার জিতলেও তার সঞ্চয় ছিল খুবই সামান্য। প্রায় ৩০ বছর আগে ধর্মীয় জীবনে প্রবেশ করা চান জানান, কয়েক বছরে তিনি মোটে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার রিঙ্গিত সঞ্চয় করেছিলেন। জনসাধারণের দেওয়া অনুদান থেকেই মূলত এই অর্থ জমা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি অল্প অল্প করে সঞ্চয় করেছি। কখনো ১০ রিঙ্গিত, কখনো তার চেয়ে কিছু বেশি।’

পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টিকে তিনি কোনো অলৌকিক আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন না। এটি পূর্বজন্মের কর্মফলের ফলাফল বলেই মনে করছেন। তিনি বলেন, ‘এটি কোনো আশীর্বাদ নয়, বরং পূর্বজন্মের কর্মফল।’

চান আরও জানান, অর্থ বা সম্পদ লাভের জন্য তিনি কখনো বিশেষ প্রার্থনা বা মানত করেননি। ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর এই অর্থের প্রয়োজনও নেই। তাই পুরস্কারের বড় একটি অংশ সমাজের কল্যাণে ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছেন তিনি।

সন্ন্যাসী বলেন, ‘আমি এই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করব। এর একটি অংশ অসুস্থ ও অভাবগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হবে।’

একই সঙ্গে তিনি সম্পদ ব্যবহারে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, অর্থের প্রকৃত মূল্য তখনই সৃষ্টি হয়, যখন তা নিজের পাশাপাশি অন্য মানুষের জীবনেও সুখ ও কল্যাণ বয়ে আনে।

তিনি বলেন, ‘যদি আপনি অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করেন, তাহলে তা আপনাকে এবং অন্যদের সুখী করবে। এটাই অর্থের প্রকৃত মূল্য।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত