Ajker Patrika

বিশ্বকাপের মৌসুমে মেক্সিকোতে যেভাবে তারকাখ্যাতি পেল একটি হাঁস

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ১৯: ২৮
বিশ্বকাপের মৌসুমে মেক্সিকোতে যেভাবে তারকাখ্যাতি পেল একটি হাঁস
বর্তমানে মার্লিনকে দেখতে এবং তার সঙ্গে ছবি তুলতে ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। ছবি: এএফপি

মেক্সিকোতে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যেই লাখো মানুষের হৃদয় জয় করেছে মার্লিন নামের একটি হাঁস। মাত্র দুই বছর বয়সী এই হাঁসকে এখন দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা স্নেহভরে বিশ্বকাপের ‘তারকা সমর্থক’ হিসেবে গণ্য করছেন। এমনকি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাও তাকে মেক্সিকোর ‘অ্যাম্বাসেডর’ বা দূত বলে আখ্যা দিয়েছে।

সবুজ রঙের ম্যাক্সিকান জাতীয় দলের জার্সি পরে মালিকের সঙ্গে রাস্তায় হাঁটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে মার্লিন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, মেক্সিকো সিটির ব্যস্ত সড়কে জুসের ঠেলাগাড়ি ঠেলে এগিয়ে যাচ্ছেন কার্লা ইভেত গোমেজ, আর তাঁর পেছনে পেছনে হাঁটছে হাঁসটি।

মার্লিনের জার্সিতে ১২ নম্বর লেখা, যা ফুটবল সমর্থকদের প্রতীকী নম্বর হিসেবে পরিচিত। তার জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়ে গেছে যে বিভিন্ন বেকারিতে তার আদলে বিশেষ পেস্ট্রি তৈরি করা হচ্ছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও তাকে নিয়ে অনুষ্ঠান করছে এবং বিশ্বকাপের ফলাফল সম্পর্কে ‘মতামত’ জানতে চাইছে। অবশ্য মার্লিনের সব উত্তর একই—‘কোয়াক, কোয়াক, কোয়াক’।

৪৮ বছর বয়সী কার্লা গোমেজ বলেন, তাঁরা কখনো ভাবেননি একটি সাধারণ ভিডিও তাঁদের পোষা হাঁসকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসবে। বর্তমানে মার্লিনকে দেখতে এবং তার সঙ্গে ছবি তুলতে ভিড় জমাচ্ছে অসংখ্য মানুষ।

শুক্রবার (১৯ জুন) ‘রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল’ জানিয়েছে, গোমেজ পরিবারের এটি তৃতীয় হাঁস। আগের হাঁসটি মারা যাওয়ার পর এক গ্রাহক উপহার হিসেবে মার্লিনকে দিয়েছিলেন। মধ্যযুগীয় কিংবদন্তির জাদুকর মার্লিনের নামেই তার নামকরণ করা হয়েছে। পরিবারের ১৪ বছর বয়সী ছেলে ক্রিস্টিয়ান গোমেজ তার দেখাশোনা করে। পরিবারটির ভাষ্যমতে, মার্লিনকে তাঁরা তাঁদের পরিবারেরই একজন সদস্য হিসেবে গণ্য করেন।’

ফল, সবজি, মাছ, ক্রিকেট পোকা এবং মাঝেমধ্যে টাকো খেতে পছন্দ করে মার্লিন। তবে সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় পশুচিকিৎসক জানিয়েছেন, হাঁসটি কিছুটা অতিরিক্ত ওজনের।

মেক্সিকো সিটির ফ্যান ফেস্টে হাজারো সমর্থকের সঙ্গে যোগ দেওয়ারও কথা রয়েছে মার্লিনের। তার মালিকের দাবি, ফিফা তাকে মেক্সিকোতে নিজেদের ‘অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে।

বিশ্বকাপে প্রাণীদের ভবিষ্যদ্বাণী করার ঐতিহ্য নতুন নয়। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে ফলাফল অনুমান করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেয়েছিল ‘পল দ্য অক্টোপাস’। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মেক্সিকোর হাঁস মার্লিন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত