
গভীর রাত। হঠাৎ পাহাড়ের নীরবতা ভাঙে গাছ ভাঙার শব্দে। আতঙ্কে ঘুম ভাঙে আশপাশের বাসিন্দাদের। ঘর থেকে বেরিয়ে দেখে, একদল বন্য হাতি এগিয়ে আসছে। মশাল জ্বালিয়ে, ঢাকঢোল পিটিয়ে, চিৎকার করে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা শুরু হয়। কখনো হাতির পাল ফিরে যায় পাহাড়ে, কখনো ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার দেয়াঙ পাহাড়ে গত ৮ বছর ধরে অবস্থান করছিল একপাল হাতি। তাদের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল দুই উপজেলার বাসিন্দারা। চলতি বছরের এপ্রিলে চারটি হাতি বাঁশখালী বনে ফিরে গেলে মানুষের মনে স্বস্তি ফেরে। তবে তিন মাস পর আবার একটি হাতির লোকালয়ে এসে তাণ্ডব চালিয়েছে।

কক্সবাজারের টেকনাফে প্রায় ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত সেই বন্য মা হাতিটির মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ২৫-২৬ বছর বয়সী হাতিটি পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ার সময় মেরুদণ্ড ভেঙে যায় এবং তলপেটে গুরুতর আঘাত পায় বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা, আমুচিয়া ও করলডেঙ্গা ইউনিয়নের পাহাড় থেকে বন্য হাতির পাল লোকালয়ে নেমে ফসল, বাগান ও বসতবাড়ির ক্ষতি করছে। আতঙ্কে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তরা প্রশাসন ও বন বিভাগের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।