
কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের জয়গান চলছে কয়েক বছর ধরেই। লক্ষ্য ছিল—এআই মানুষের একঘেয়ে কাজগুলো করে দেবে আর কর্মীরা পাবে বাড়তি অবসর। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে ঠিক তার উল্টো। যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ ফাইব-এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ড্রু ইয়াং এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন, এআই আসার পর কর্মীদের কাজের চাপ কমার বদলে উল্টো পাঁচ গুণ বেড়ে গেছে।
অ্যান্ড্রু ইয়াং তাঁর এক সহকর্মীর অভিজ্ঞতার বরাত দিয়ে জানান, বড় বড় টেক কোম্পানিগুলোতে এখন দৈনন্দিন কাজের প্রায় ৭৫ শতাংশই এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্লাইড তৈরি, স্প্রেডশিটের হিসাব, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, তথ্য বিশ্লেষণ এবং সমন্বয় সাধনের মতো কাজগুলো।
ইয়াং লক্ষ্য করেছেন, এই অটোমেশন কর্মীদের জন্য কোনো অবসর বয়ে আনেনি। তিনি লেখেন, এআই মানুষের কিছু কাজ কেড়ে নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর মানে এই নয় যে কর্মীদের হাতে এখন বেশি সময় আছে। উল্টো তাদের কাজ আরও বেড়েছে। আসল বিষয়টি হলো, কাজ যখন সহজ ও দ্রুততর হয়, তখন কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশাও সেই খালি জায়গা পূরণে বহুগুণ বেড়ে যায়। এখন প্রতিটি কর্মীর কাছ থেকে আগের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি আউটপুট বা ফলাফল আশা করা হচ্ছে।
ইয়াংয়ের এই পোস্টের নিচে অনেক পেশাজীবী তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, আমরা এখন ‘বাস্তবায়ন-নির্ভর’ কাজ থেকে ‘কৌশল-নির্ভর’ কাজের দিকে চলে গেছি এবং সবাই কাজের চাপে হাবুডুবু খাচ্ছে। আপনার দিনের ৭৫ শতাংশ কাজ যদি এআই করে দেয় এবং এরপরও যদি আপনার কাজ আগের চেয়ে বেড়ে যায়, তবে কি আপনি আসলে সময় বাঁচালেন নাকি নিজের মানসিক সক্ষমতাকে স্রেফ নিঃশেষ করলেন?
অন্য এক ব্যবহারকারী বলেন, এআই কাজ সহজ করে দেয়, তাই নেতৃত্বের প্রত্যাশাও সেই শূন্যস্থান পূরণে বেড়ে যায়। আপনি যদি পাঁচ গুণ বেশি কাজ করতে পারেন, তবে নেতৃত্ব সেই পাঁচ গুণের ওপর ভিত্তি করেই পরিকল্পনা শুরু করে। এখন সমস্যা ‘কাজ করা’ নয়, বরং ‘কোন কাজ করা উচিত’ তা ঠিক করাতেই সময় বেশি যাচ্ছে। ফলাফল বাড়ছে, কিন্তু তার চেয়েও দ্রুত বাড়ছে মানসিক চাপ।
করপোরেট দুনিয়ার মানসিকতা নিয়ে অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। একজন পেশাজীবী বলেন, দিন শেষে ম্যানেজমেন্ট এবং শেয়ারহোল্ডাররাই ঠিক করেন কতটুকু কাজ যথেষ্ট। তাঁরা কর্মীদের কাজ ও জীবনের ভারসাম্য দেখেন না। তাঁরা দেখেন একটি লেবুকে কত বেশি চিপে রস বের করা যায়। এমবিএ ডিগ্রিধারীদের এটাই শেখানো হয়।
আলোচনায় উঠে আসা মূল বিষয়টি হলো—প্রযুক্তি চাপ কমায় না, বরং চাপের ধরন বদলে দেয়। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, শারীরিক বা কায়িক শ্রম কমা মানেই হলো দায়িত্ব বাড়া এবং উচ্চ ফলাফলের চাহিদা তৈরি হওয়া। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং বিচারবুদ্ধিই এখন প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ মানুষ এই কঠিন কাজের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।
তবে এর মধ্যেও অনেকে ইতিবাচক দিক খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ মনে করেন, এআই মানুষকে সৃজনশীল এবং অর্থবহ কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছে। তেমনই একজন বলেন, ‘আমি প্রতিদিন দ্রুততর কিছু তৈরি করছি এবং এই পরিবর্তনে আমার কোনো অভিযোগ নেই।’
তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা আজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর বিশ্বের প্রথম নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকে তারা ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করে তোলার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে শুরু হচ্ছে মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি।
১৯ ঘণ্টা আগে
মাত্র পাঁচ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে নিজস্ব বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছে চীনের একটি পরীক্ষামূলক ম্যাগলেভ ট্রেন। দেশটির হুবেই প্রদেশের দংহু ল্যাবরেটরির এক কিলোমিটার দীর্ঘ পরীক্ষামূলক ট্র্যাকে এই পরীক্ষা চালানো হয়।
১৯ ঘণ্টা আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল দিয়ে তৈরি লেখায় অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি খাতের অন্যতম শীর্ষ স্টার্টআপ অ্যানথ্রপিক অ্যানথ্রপিক। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাঁদের এআই মডেল ক্লদ ব্যবহার করেত তৈরি সব লেখার মধ্যে একটি গোপন সংকেত থাকবে, যা লেখাটি অন্য কোথাও কপি ও পেস্ট করলে
১ দিন আগে