মার্কিন সরকারের রপ্তানি বিধিনিষেধ এবং চীনের স্থানীয় চিপ নির্মাতাদের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে মার্কিন চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে কোম্পানিটি। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) চীনের ডেটা-সেন্টারভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপের বাজারে এনভিডিয়ার অংশীদারত্ব কমে ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের (আইডিসি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আইডিসির উপাত্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এনভিডিয়া চীনে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ‘এআই অ্যাক্সিলারেটর’ চিপ সরবরাহ করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৪ শতাংশ কম। এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে এই বিশেষায়িত চিপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ওয়াশিংটন থেকে চীনে এনভিডিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী এআই চিপ বিক্রির ওপর আন্তর্জাতিক আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর উদ্দেশ্য ছিল বেইজিংয়ের সামরিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে সীমিত রাখা। ফলে চীনের বাজারে এনভিডিয়া তাদের পণ্য বিক্রির সুযোগ অনেকটাই হারিয়ে ফেলে।
অন্যদিকে, বেইজিংও তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থানীয় চিপ ব্যবহারের ওপর জোর দেয়। যেসব চীনা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার অনুমোদিত চিপ আমদানির পরিকল্পনা করে, তাদের জন্য সরকারের বিশেষ অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।
এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের এই রপ্তানি নীতির সমালোচনা করে আসছেন। তাঁর মতে, মার্কিন নীতির কারণেই একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনভিডিয়াকে চীনের প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের এআই চিপের বাজার প্রতিদ্বন্দ্বী চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের হাতে ছেড়ে দিতে হচ্ছে।
তবে এই ৩৪ শতাংশ শেয়ারের মধ্যে বি২০০ বা বি৩০০-এর মতো অত্যাধুনিক চিপের কোনো চোরাচালানকৃত অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি আইডিসি। বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এনভিডিয়াও।
এনভিডিয়ার এই ধসের বিপরীতে চীনে দ্রুত নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে হুয়াওয়ে। আইডিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে হুয়াওয়ে ৫ লাখ ৭২ হাজার এআই অ্যাক্সিলারেটর বাজারে সরবরাহ করেছে, যা আগের বছর ছিল তিন লাখের কিছু বেশি। এর ফলে চীনের সামগ্রিক এআই চিপ বাজারে হুয়াওয়ের শেয়ার বেড়ে ২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
আইডিসি ট্র্যাক করা ১১টি চীনা চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানই গত বছরের তুলনায় বাজারে তাদের চিপ সরবরাহ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে চীনে সব মিলিয়ে ২০ লাখ ৮ হাজার এআই অ্যাক্সিলারেটর সরবরাহ করা হয়েছে।
সাধারণত এআই মডেল প্রশিক্ষণে বহুল ব্যবহৃত ‘গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট’ বা জিপিইউ চিপের সরবরাহ সীমাবদ্ধ থাকায় বাজারে এর উপস্থিতি ২৬ শতাংশ কমে ৯ লাখ ৯১ হাজারে নেমে এসেছে।
এর বিপরীতে জিপিইউ ব্যতিরেকে নির্দিষ্ট এআই কাজের জন্য তৈরি অন্যান্য চিপের সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০ লাখ ১৬ হাজারে পৌঁছেছে। প্রথমবারের মতো এ ধরনের চিপ বিক্রির পরিমাণ জিপিইউ-কে ছাড়িয়ে গেল।
আইডিসি জানিয়েছে, জিপিইউ-বহির্ভূত এই এআই অ্যাক্সিলারেটর বাজারের ৯৫ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করছে হুয়াওয়ে, টি-হেড, কুয়ানলুনশিন ও ক্যামব্রিকন। চীনা সরকারি সংস্থা, ইন্টারনেট জায়ান্ট ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই এই অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চীনের বাজারে প্রতিযোগিতা এখন আর একটি নির্দিষ্ট চিপের সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং পুরো ডেটা সেন্টার ও ক্লাস্টার সিস্টেমে চিপগুলো কতটা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে, সেটির ওপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বাজার।
চলতি বছর চীনে জিপিইউ চিপ সরবরাহ ৯ শতাংশ কমার আশঙ্কা থাকলেও সামগ্রিক এআই চিপের বাজার ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করছে আইডিসি।

উপস্থাপনার স্লাইড থেকে শুরু করে কণ্ঠস্বর তৈরি, ছবি আঁকা, তথ্য অনুসন্ধান, কোডিং এবং দৈনন্দিন কাজের সহায়তা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঢুকে পড়েছে এআই টুলস। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি প্রাতিষ্ঠানিক কর্মদক্ষতা, সৃজনশীল কাজের ধারা এবং ডেভেলপারদের কাজের পরিবেশ সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। সাধারণ চ্যাট ইন্ট
৮ ঘণ্টা আগে
কর্নওয়ালের ফালমাউথে একটি পুরোনো ব্যাংক ভবনের ভেতরে তখন চারপাশ কাঁপিয়ে বাজছে মিউজিক। ঘামে ভেজা তরুণ-তরুণীর ভিড়, আলো আর মিউজিকের তালে সবাই যেন এক অদ্ভুত সুরের জালে বন্দী। সেখানে ডিজে হিসেবে উপস্থিত রবার্ট (রস) অ্যাটকিনস স্পষ্ট অনুভব করেছিলেন—এই অভিজ্ঞতা শুধু একটি ডিজে নাইটের নয়
৯ ঘণ্টা আগে
২০১২ সালের ১৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদ সাময়িকী ‘নিউজউইক’ ঘোষণা করে, প্রায় ৮০ বছরের মুদ্রণ-ইতিহাসের ইতি টেনে তারা ডিজিটাল-নির্ভর প্রকাশনায় যাবে। সেই বছরের ৩১ ডিসেম্বর সাময়িকীটির শেষ সংখ্যা ছাপা হয়। ২০১৩ সালে ‘নিউজউইক গ্লোবাল’ নামে ডিজিটাল-নির্ভর সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
৯ ঘণ্টা আগে
এআই চ্যাটবট ক্লদকে ‘মানুষের’ মতো করে দেখতে চায় এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। এমনই ভাবনা থেকে প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা দিয়েছে, ক্লদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে অপ্রয়োজনীয় ও অপমানজনক আচরণ করলে ব্যবহারকারীকে নিষিদ্ধ করা হবে।
৩ দিন আগে