
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা যে ধরনের মূল্যবোধ ও বিশ্বাস ধারণ করেন, অ্যালগরিদম প্রায়শই তার বিপরীতধর্মী কনটেন্ট বা পোস্ট তাদের ফিডে বেশি ছড়িয়ে দিচ্ছে।
বিজ্ঞানবিষয়ক খ্যাতনামা সাময়িকী ‘প্রোসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস’ (পিএনএএস)-এ প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষকদের মতে, ব্যবহারকারীরা যেসব পোস্টে মন্তব্য বা রিপ্লাই করেন, সামাজিক মাধ্যমগুলোর অ্যালগরিদম সেগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেয়। আর সাধারণত মানুষ যেসব বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে বা আপত্তি থাকে, সেগুলোতে মন্তব্য করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। ফলে পরোক্ষভাবে অ্যালগরিদম সেই অপছন্দের বিষয়বস্তুগুলোকেই ব্যবহারকারীর ফিডে বারবার নিয়ে আসে।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এর ৭১৫ জন মার্কিন ব্যবহারকারীর ওপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, একজন ব্যবহারকারী সামাজিক মাধ্যমে কী ধরনের পোস্ট দেখতে পাবেন, তা নির্ধারণ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যালগরিদম অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তাঁর অনলাইন আচরণ বিশ্লেষণ করে।
সাধারণত ব্যবহারকারীরা যেসব পোস্টের সঙ্গে একমত হন, সেগুলোতে কেবল একটি ‘লাইক’ (হার্ট বা থাম্বস-আপ আইকন) দিয়ে চলে যান। কিন্তু যেসব পোস্টের সঙ্গে তারা তীব্র দ্বিমত পোষণ করেন, সেখানে গিয়ে দীর্ঘ মন্তব্য লেখেন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীর দেওয়া একটি ‘লাইক’-এর চেয়ে একটি ‘রিপ্লাই’ বা মন্তব্যকে অনেক বেশি শক্তিশালী সংকেত হিসেবে গণ্য করে। এর ফলে সিস্টেম ধরে নেয় যে ব্যবহারকারী এই ধরনের বিষয়ের ওপর বেশি আগ্রহী, এবং পরবর্তীতে ‘ফর ইউ’ ফিডে সেই সম্পর্কিত বা সমভাবাপন্ন পোস্টের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।
ফলাফলে দেখা যায়, পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সর্বজনীন যত্নের মতো যেসব ইতিবাচক মূল্যবোধ ব্যবহারকারীরা ধারণ করেন, সেগুলোর চেয়ে নিয়মকানুন ও প্রথা রক্ষার মতো পোস্টগুলো তাদের ফিডে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
গবেষকেরা দেখেছেন, অ্যালগরিদমের এই বৈপরীত্যপূর্ণ দৃশ্যটি রাজনৈতিক আদর্শের ওপর ভিত্তি করেও ভিন্ন রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের ফিডে তাদের নিজস্ব মূল্যবোধের বিরোধী পোস্ট আসার প্রবণতা চার গুণেরও বেশি।
গবেষণার ডেটা অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট সমর্থকেরা তাদের অপছন্দের কনটেন্টে রিপ্লাই বা বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে বেশি সোচ্চার। ফলে শক্তিশালী একটি ‘ফিডব্যাক লুপ’ বা চক্র তৈরি হয়, যা তাদের ফিডে আরও বেশি নেতিবাচক বা বিরোধাত্মক কনটেন্ট নিয়ে আসে।
গবেষকদের মতে, শুধু এনগেজমেন্ট বা ব্যবহারকারীর সক্রিয়তাকে ভিত্তি করে অ্যালগরিদম পরিচালনা করায় সমাজে রাজনৈতিক ও সামাজিক মেরুকরণ দিন দিন বাড়ছে। কেবল বিরোধিতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করে দিলে তা সুস্থ আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করে না।
এর সমাধান হিসেবে বিজ্ঞানীরা একটি নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছেন, যেখানে প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের সরাসরি জিজ্ঞেস করতে পারে যে তারা কী ধরনের মূল্যবোধ বা বিষয়বস্তুকে অগ্রাধিকার দিতে চান।
গবেষণা দলের মতে, ব্যবহারকারীদের নিজেদের ফিড নিয়ন্ত্রণের বেশি ক্ষমতা দেওয়া হলে এবং রাজনৈতিক মতভেদের বাইরে যেসব বিষয়বস্তু সংযোগ তৈরি করতে পারে তা প্রদর্শন করা গেলে, সামাজিক মাধ্যমে গঠনমূলক আলোচনার পথ সুগম হতে পারে।

এখন ইন্টারনেটের এক-তৃতীয়াংশের বেশি লেখা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এই গবেষণাটি করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার। তারা বলছে, নতুন ওয়েবপেজগুলোর প্রায় ৩৫ শতাংশে ‘উল্লেখযোগ্য মাত্রায় এআই দিয়ে সম্পাদনা বা লেখার’ লক্ষণ পাওয়া গেছে।
১ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা ও রকেট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য লুইজিয়ানায় সবচেয়ে বড় উৎক্ষেপণকেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার।
৩ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকস-এ সেমিকন্ডাক্টর ও স্মার্টফোন বিভাগে কর্মীদের বোনাসের বিশাল ব্যবধানকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও বিভাজন বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত চিপের চাহিদা বাড়ায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সেমিকন্ডাক্টর বিভাগের মুনাফা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে পড়াশোনা, চিকিৎসা, ব্যবসা এবং অফিসের কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার এখন খুব দ্রুত বেড়ে চলেছে। সাধারণ মানুষের অনেকের ধারণা, এআই হয়তো যেকোনো কঠিন বা অসম্ভব কাজ নিমেষে করে ফেলতে পারে। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দুনিয়ায় এআই আসল ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা কতটুকু
১ দিন আগে