
ইরানের চলমান বিক্ষোভ তীব্র হতে শুরু করলেই দেশটিতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় সরকার। এরপরও ইলন মাস্কের রকেট কোম্পানি স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা স্টারলিংক ব্যবহার করে অনেকে বিক্ষোভের তথ্য বহির্বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিচ্ছিল। এবার ‘কিল সুইচ’ কৌশলে সেই ইন্টারনেটও জ্যাম করে দিয়েছে ইরান।
দুই সপ্তাহ আগে তীব্র মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক দুর্দশার বিরুদ্ধে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। বর্তমানে এই বিক্ষোভ সহিংস সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। ৩১টি প্রদেশের সবকটিতেই ৫০০টির বেশি বিক্ষোভ হয়েছে। নিহত হয়েছেন অন্তত ৬৪৮ জন।
বিক্ষোভের মাত্রা বাড়তে থাকলে তেহরান ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেয়, যা ‘কিল সুইচ’ কৌশল নামে পরিচিত। সংকটকালে ভুয়া তথ্যের বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকে।
ইরানে পিসি ও মোবাইল ফোন টাওয়ারে ল্যান্ড কেবলের মাধ্যমে সরবরাহ করা ইন্টারনেট তিন দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রাখা হয়। এরপর ইরান যে বড় পদক্ষেপটি নেয় তা হলো, স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবায় প্রবেশাধিকার বন্ধ করার চেষ্টা।
যেভাবে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা জ্যাম করছে ইরান
ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা স্টারলিংক তেহরানের কেন্দ্রীয় ও কঠোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে এড়িয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশের একটি উপায় হয়ে উঠেছিল।
তবে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) সংকেতে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে সহজেই এই সেবা ব্যাহত করা সম্ভব। কারণ, স্টারলিংকের বেস স্টেশনগুলোকে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান শেয়ার করতে হয়, যাতে নেটওয়ার্কটি নিকটতম গ্রাউন্ড স্টেশন শনাক্ত করতে পারে।
ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিংকট্যাংক হাডসন ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ক্লার্ক বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, স্যাটেলাইট ও গ্রাউন্ড টার্মিনালের মধ্যে সরাসরি ট্রান্সমিশন ব্লক করার জন্য বিকল্প আরেকটি পদ্ধতি রয়েছে, তবে সেটির জন্য প্রচুর পরিমাণে জ্যামিং ডিভাইসের প্রয়োজন হবে।
তিনি আরও বলেন, মোবাইল ফোনকে লক্ষ্য করে ডিজাইন করা জ্যামিং সরঞ্জামগুলো বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হয় এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলে সেগুলো স্টারলিংক সিস্টেমকে লক্ষ্য করেও ব্যবহার করা সম্ভব।
স্টারলিংকের টেলিযোগাযোগ স্যাটেলাইটগুলোর ‘কনস্টেলেশন’ পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে (লো-আর্থ অরবিট বা এলইও) প্রদক্ষিণ করে। ব্যবহারকারী চলাফেরা করার সময় মোবাইল ফোন যেমন বিভিন্ন বেস স্টেশনের সঙ্গে সংযোগ পরিবর্তন করে, ঠিক তেমনি স্টারলিংক টার্মিনালগুলোকেও ওপর দিয়ে স্যাটেলাইট অতিক্রম করার সময় এক স্যাটেলাইট থেকে অন্যটিতে ধারাবাহিকভাবে সংযোগ হস্তান্তর করতে হয়।
এই বৈশিষ্ট্যটির কারণে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ও টার্মিনালগুলোকে এমন অ্যান্টেনা ব্যবহার করতে হয়, যা বিস্তৃত কোণ থেকে সিগন্যাল গ্রহণ করতে পারে। এর ফলে ভূমিতে থাকা অ্যান্টেনার কাছাকাছি কোনো উৎস থেকে জ্যামিং চালানো হলে সেবাটি তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
তবে গ্রাউন্ড রিসিভারের কাছাকাছি জ্যামার বসানোর প্রয়োজনীয়তা ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করেছে, যেখানে তীব্র জ্যামিং সত্ত্বেও কিয়েভের সেনারা এখনো স্টারলিংক ব্যবহার করছে।
ইউক্রেন আগ্রাসনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সরবরাহসহ তেহরান ও মস্কোর ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে, ইরান রাশিয়ার কাছ থেকে জ্যামিং সরঞ্জাম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা পেয়ে থাকতে পারে বলে ‘অজ্ঞাত’ সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এএফপি।
এদিকে ইরানে স্টারলিংকের টার্মিনালগুলোর বৈধতা নিয়েও আইনগত অস্পষ্টতা বা একটি ‘ধূসর অঞ্চল’ (গ্রে জোন) রয়েছে। নিজেদের ভূখণ্ডে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ)-এর কাছে অভিযোগ জানিয়েছে ইরান।

অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস রোধে নজরদারি বাড়িয়েছে টেক জায়ান্ট গুগল। বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, পরিচয় চুরিতে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে প্রকাশ পেলে তা গুগলের মাধ্যমে ট্র্যাক করা শিগগিরই সম্ভব হবে।
৮ ঘণ্টা আগে
চ্যাটজিপিটি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যবহারকারীর জন্য বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের পরীক্ষা করছে। এই পরীক্ষা চলছে ফ্রি এবং গো সাবস্ক্রিপশন টায়ারে। এই দুই টায়ারই চ্যাটজিপিটির সবচেয়ে সস্তা প্যাকেজ। অনেকের মতে, এটাই হয়তো বিজ্ঞাপনহীন চ্যাটজিপিটির শেষের শুরু।
১ দিন আগে
কয়েক বছর আগেও এআই নতুন এক প্রযুক্তি হিসেবে ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল। ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি উন্মুক্ত হওয়ার পর সবকিছু যেন দ্রুত বদলে যেতে থাকল। মাঝে চীনের ডিপসিক নিয়েও চলল ব্যাপক আলোচনা। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এআই পুরো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা হিসেবে গড়ে উঠল।
২ দিন আগে
প্রায় সময় দেখা যায়, ইন্টারনেটে গোপনীয়তা রক্ষায় ভিপিএন ব্যবহার করা হয়। ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন অ্যাপগুলো আইপি ঠিকানা লুকিয়ে রাখে এবং ট্রাফিক এনক্রিপ্ট করে। অনেকে গেমিং, সোশ্যাল সাইট ব্যবহার করার মতো কাজে ভিপিএন অ্যাপগুলো ব্যবহার করেন।
২ দিন আগে