কয়েক বছর আগেও এআই নতুন এক প্রযুক্তি হিসেবে ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল। ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি উন্মুক্ত হওয়ার পর সবকিছু যেন দ্রুত বদলে যেতে থাকল। মাঝে চীনের ডিপসিক নিয়েও চলল ব্যাপক আলোচনা। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এআই পুরো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা হিসেবে গড়ে উঠল। বর্তমানে স্মার্টফোনের সহকারী, অনলাইন অনুবাদ, মুখ শনাক্তকরণ, এমনকি লেখালেখির সফটওয়্যারে এআই যুক্ত হয়েছে। ফলে অনেক দেশ বুঝতে পেরেছে, শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই চলবে না, এআইকে বুঝতে হবে। আর সেই শিক্ষার শুরু হচ্ছে স্কুল থেকে।
বিভিন্ন দেশ এখন এআই শিক্ষা ধীরে ধীরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করছে। লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করা, যারা প্রযুক্তিকে শুধু ভোক্তা হিসেবে ব্যবহার করবে না, নতুন উদ্ভাবনেও অংশ নেবে।
চীন ⬤ জাতীয় পরিকল্পনার অংশ এআই শিক্ষা
চীন দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে এআই শিক্ষাকে কাঠামোবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। বেইজিংসহ কয়েকটি বড় শহরের স্কুলগুলোতে নির্দিষ্ট ক্লাসের সময় নির্ধারণ করে এআই-সম্পর্কিত মৌলিক ধারণা, ডেটা ব্যবহারের নীতি এবং সামাজিক প্রভাব নিয়ে পাঠ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
চীনের নীতিনির্ধারকদের যুক্তি, এআই-নির্ভর অর্থনীতিতে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকে অ্যালগরিদম, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং ডেটা বিশ্লেষণের ধারণা দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার এবং তথ্য সুরক্ষার বিষয়ও পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য শুধু কোড শেখানো নয়, এআই সচেতন নাগরিক তৈরি করা।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ⬤ বয়সভিত্তিক পাঠ্যক্রম
সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি স্কুলগুলোর কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এআইকে আনুষ্ঠানিক বিষয় হিসেবে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটিতে পাঠ্যক্রম বয়সভিত্তিক। ছোটদের জন্য থাকবে এআই কীভাবে কাজ করে, তার সহজ ধারণা। বড়দের জন্য থাকবে ডেটা, মেশিন লার্নিং, এমনকি প্রম্পট লেখার কৌশল। একই সঙ্গে জোর দেওয়া হচ্ছে নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর। শিক্ষক প্রশিক্ষণও এই পরিকল্পনার অংশ। কারণ, প্রযুক্তি শেখানোর আগে শিক্ষকদের প্রস্তুত করা জরুরি।
দক্ষিণ কোরিয়া ⬤ ব্যক্তিগত শিক্ষায় এআই
দক্ষিণ কোরিয়া এআই-সমর্থিত ডিজিটাল পাঠ্যপুস্তক চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। নির্দিষ্ট শ্রেণিতে ইংরেজি ও গণিতের মতো বিষয়ে এআই শিক্ষার্থীদের শেখার ধরন বিশ্লেষণ করে কনটেন্ট সরবরাহ করবে। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী যে জায়গায় দুর্বল, সেখানেই তাকে বেশি অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে এমন উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। শিক্ষকদের আশঙ্কা, প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা শ্রেণিকক্ষের মানবিক যোগাযোগ কমিয়ে দেবে। যদিও সরকার বলছে, এআই শিক্ষককে প্রতিস্থাপন করবে না, বরং সহায়ক হবে।
এস্তোনিয়া ⬤ নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে জোর
ডিজিটাল শাসনব্যবস্থায় অগ্রণী দেশ এস্তোনিয়ার স্কুলগুলোতে এআই টুল ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে তা কঠোর নীতিমালার আওতায়। শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে কীভাবে এআইয়ের ফলাফল যাচাই করতে হয়, কীভাবে ভুল কিংবা পক্ষপাত শনাক্ত করতে হয়। শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশটির কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে, প্রযুক্তি নিষিদ্ধ না করে শিক্ষার্থীদের এর সঠিকভাবে ব্যবহার শেখালে দীর্ঘ মেয়াদে লাভ বেশি।
সিঙ্গাপুর ⬤ এআই ব্যবহার করে শেখা
সিঙ্গাপুর সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এআইকে তিনটি স্তরে দেখছে—এআই সম্পর্কে শেখা, এআই ব্যবহার শেখা এবং এআই দিয়ে শেখা। সেখানে শিক্ষার্থীরা শিখছে ডেটা কীভাবে কাজ করে, অ্যালগরিদম কীভাবে তৈরি হয় এবং প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা কোথায়। পাশাপাশি শিক্ষকেরা এআই টুল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি বিশ্লেষণ করছেন। দেশটিতে ডেটা গোপনীয়তা ও নৈতিকতার বিষয়টি পাঠ্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যুক্তরাষ্ট্র ⬤ নীতিগত কাঠামোর বাস্তবায়ন
যুক্তরাষ্ট্রে এআই শিক্ষা নিয়ে ফেডারেল পর্যায়ে নীতিগত দিকনির্দেশনা এসেছে। তবে বাস্তবায়ন অনেকাংশে রাজ্য এবং স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ওপর নির্ভর করে। কিছু রাজ্য এআই ব্যবহারের নীতিমালা তৈরি করেছে—কীভাবে শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহার করবে, কোথায় সীমাবদ্ধতা থাকবে এবং শিক্ষকেরা কীভাবে এর মূল্যায়ন করবেন, সেসবের ওপর ভিত্তি করে। এখানে জোর দেওয়া হচ্ছে ভবিষ্যৎ কর্মবাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা তৈরির ওপর।
সাধারণ কৌশল: পাঁচটি অভিন্ন দিক
দেশভেদে ভিন্নতা থাকলেও এআই শিক্ষায় কিছু মিল রয়েছে—
চ্যালেঞ্জ ও প্রশ্ন
সব দেশে অবকাঠামোগত বৈষম্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গ্রামীণ ও শহুরে স্কুলের মধ্যে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পার্থক্য রয়েছে। আরেকটি প্রশ্ন হলো, শিক্ষার্থীরা কি এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়বে? মৌলিক চিন্তা ও সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না, সেটিও আলোচনায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই নিষিদ্ধ করার বদলে সঠিক ব্যবহার শেখানোই কার্যকর পথ।
বিশ্বের নানা দেশ যখন স্কুলে এআই শিক্ষা নিয়ে এগোচ্ছে, তখন ভাবতে হচ্ছে আমাদের দেশ কি প্রস্তুত? এআই এখন আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়, বর্তমান বাস্তবতা। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় সময়োপযোগী পরিবর্তন আনা জরুরি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, সাউথ চায়না মর্নিং, গালফ নিউজ এবং ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

প্রায় সময় দেখা যায়, ইন্টারনেটে গোপনীয়তা রক্ষায় ভিপিএন ব্যবহার করা হয়। ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন অ্যাপগুলো আইপি ঠিকানা লুকিয়ে রাখে এবং ট্রাফিক এনক্রিপ্ট করে। অনেকে গেমিং, সোশ্যাল সাইট ব্যবহার করার মতো কাজে ভিপিএন অ্যাপগুলো ব্যবহার করেন।
৩ ঘণ্টা আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা এআই নিয়ে আলোচনা হলে আমাদের চোখে ভেসে ওঠে সিলিকন ভ্যালি, অত্যাধুনিক ডেটা সেন্টার কিংবা বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নাম। কিন্তু এ প্রযুক্তি বিপ্লবের পেছনে রয়েছেন ভারতের গ্রামাঞ্চলের অনেক সাধারণ মানুষ।
৪ ঘণ্টা আগে
আইপ্যাড এখন শুধু ট্যাবলেট নয়, অনেকের জন্য এটি অফিস, বিনোদন ও পড়াশোনার নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। তবে প্রযুক্তি মানেই মাঝেমধ্যে ছোটখাটো ঝামেলা।
৪ ঘণ্টা আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ধীরে ধীরে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রায় সব স্তরে ঢুকে পড়ছে। রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার—সবখানেই এই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের বিপ্লব হিসেবে তুলে ধরছেন এর প্রবক্তারা। কিন্তু একই সঙ্গে সামনে আসছে উদ্বেগজনক কিছু প্রতিবেদন।
১৪ ঘণ্টা আগে