Ajker Patrika

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম শিশুদের ক্ষতি করে: মামলা নিষ্পত্তিতে শতকোটি ডলার দিতে রাজি মেটা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম শিশুদের ক্ষতি করে: মামলা নিষ্পত্তিতে শতকোটি ডলার দিতে রাজি মেটা
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম শিশুদের মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতি করছে—যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের দায়ের করা একটি মামলা নিষ্পত্তির জন্য শতকোটি ডলার (১৭.১ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে এর মূল প্রতিষ্ঠান মেটা।

আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হতে যাওয়া এই চুক্তির অধীনে শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণই নয়, কিশোর-কিশোরী ব্যবহারকারীদের জন্য দৈনিক ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ এবং রাতে অ্যাপ ব্যবহারে বাধানিষেধের মতো বেশ কিছু নতুন নিয়ম চালু করতে বাধ্য থাকবে মেটা।

ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে চলমান এই বিচার এক সপ্তাহ আগে শুরু হয়েছিল এবং ছয় সপ্তাহ ধরে চলার কথা ছিল। তবে সমঝোতার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তির পথ তৈরি হয়েছে।

কেন হয়েছিল মামলা

২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কসহ ২৯টি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, মেটা শিশুদের গোপনীয়তা রক্ষাবিষয়ক ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের একাধিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

মামলার অন্যতম ভিত্তি ছিল চিলড্রেনস অনলাইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট (সিওপিপিএ)। এটি ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে শিশু ও কিশোররা দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে থাকে। ভিডিওর অটো-প্লে, ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজ এবং ঘন ঘন নোটিফিকেশনের মতো ফিচার ব্যবহারকারীদের বারবার অ্যাপে ফিরিয়ে আনার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযোগে বলা হয়, মেটা ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করেছে এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্ল্যাটফর্মকে নিরাপদ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। পাশাপাশি শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ ও ব্যবহার করারও অভিযোগ আনা হয়।

তবে মেটা শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

কী পরিবর্তন চেয়েছিল অঙ্গরাজ্যগুলো

মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলো মেটার প্ল্যাটফর্মে বেশ কয়েকটি বড় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল—

কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য অভিভাবকের পরিচয় ও সম্মতি যাচাইকরণের ব্যবস্থা করা।

অ্যালগরিদম পরিবর্তন করা যাতে ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত আসক্ত না হয়ে পড়ে।

চেহারা বিকৃত বা পরিবর্তন করে এমন ফটো ফিল্টার সরিয়ে ফেলা।

ভিডিও অটো-প্লে এবং একাধিক অ্যাকাউন্ট তৈরির সুবিধা বন্ধ করা।

২৪ ঘণ্টা পর গায়েব হয়ে যাওয়া কনটেন্ট বা ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজ-এর মতো ফিচার বন্ধ করা।

আদালতের নথিতে দেখা গেছে, মেটা ইতিমধ্যে এসব শর্তের কয়েকটিতে সম্মতি প্রকাশ করেছে এবং শিগগিরই নতুন নীতিমালার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

কী ধরনের পরিবর্তনে রাজি হয়েছে মেটা

আদালতের নথি অনুযায়ী, মেটা সব দাবি মেনে নেয়নি। তবে কিশোর ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় কিছু নতুন নিয়ম চালু করতে সম্মত হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে—

দৈনিক নির্দিষ্ট ব্যবহারসীমা নির্ধারণ,

রাতের অ্যাপ ব্যবহারের সময় স্বয়ংক্রিয় ব্লক বা সীমাবদ্ধতা,

এবং কিশোরদের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত