Ajker Patrika

এআই ফ্যাক্টর: এক সপ্তাহে ৪০০ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারাল প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১: ৩০
এআই ফ্যাক্টর: এক সপ্তাহে ৪০০ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারাল প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রমরমা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আর এই সপ্তাহেই বিনিয়োগকারীরা বুঝে ফেলেছেন, পুরো শিল্প খাত বদলে যাওয়ার মুখে। সেই উপলব্ধির মূল্য হিসেবে বাজার থেকে উবে গেছে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের সর্বশেষ রিলিজ থেকে শুরু হওয়া সফটওয়্যার খাতের এই বড় পতন আসলে আরও বড় এক রূপান্তরের খুব ছোট একটি ধাপ। এই রূপান্তর আমাদের কাজের ধরন আর জীবনযাত্রা দুটোই নতুন করে গড়ে দিতে পারে। এটাই প্রথম বাস্তব প্রমাণ যে, যখন এআই ধীরে ধীরে মানুষের কাজের জায়গাগুলো গিলে ফেলতে শুরু করেছে। অথচ বহুদিন ধরে যেটিকে ‘হোয়াইট কলার চাকরির গণধ্বংস’ বলা হচ্ছিল, সেটি এখনো পুরোপুরি শুরুই হয়নি।

অ্যানথ্রপিক সম্প্রতি এমন কিছু টুল উন্মুক্ত করেছে, যেগুলো কার্যত বিদ্যমান সফটওয়্যারগুলোকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলতে পারে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা সফটওয়্যার কোম্পানির প্রকৃত মূল্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। গত এক সপ্তাহেই এই খাতের শেয়ারমূল্য কমেছে ২৫ শতাংশ।

অ্যানথ্রপিকের বাজারে ছাড়া একটি টুল হলো ‘Claude Code’. এটি ব্যবহারকারীর হয়ে নিজে থেকেই কোড লিখে দিতে পারে। অর্থাৎ চাহিদামতো সফটওয়্যার বানিয়ে দিতে সক্ষম। আরেকটি টুল ‘Cowork. ’ এতে এমন প্লাগইন রয়েছে, যা এআই এজেন্টকে পূর্ণকালীন সহকর্মীর মতো কাজ করতে সাহায্য করে।

এর ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাইক্রোসফট। কোম্পানিটি ৩০ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ২১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজারমূল্য হারিয়েছে। ওরাকল হারিয়েছে ৬১ বিলিয়ন ডলারের মতো। প্যালান্টির হারিয়েছে ৩৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এ ছাড়া অন্যান্য কোম্পানি গুলো মিলিয়ে বাজার থেকে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলারের মূল্য উধাও হয়ে গেছে।

এআই শুধু সফটওয়্যার কোম্পানির মূল্যায়নেই আঘাত করছে না। এটি কোম্পানিগুলো ভেতর থেকে কীভাবে কাজ করে, সেটিও বদলে দিচ্ছে। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান বলেছেন, নিজের এআই দিয়ে কোড লিখতে গিয়ে তিনি নিজেকে ‘অকার্যকর’ এবং ‘দুঃখিত’ বোধ করেছেন। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা সফটওয়্যার প্রকৌশলীরা এখন আগের তুলনায় একে অন্যের সঙ্গে অনেক কম কথা বলছেন। পিটার কয় লিখেছেন, এটি এক ধরনের ‘কমিউনিটির মৃত্যু’।

এ সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা এআইকে আর শুধু উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন না। তারা এটিকে সফটওয়্যার কোম্পানির সরাসরি বিকল্প হিসেবেও বিবেচনা করছেন। ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিলের পোর্টফোলিও ম্যানেজার শেলবি ম্যাকফ্যাডিন অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘এআই শুধু শ্রমের ওপর প্রভাব ফেলবে না। এটি মুনাফার ওপরও প্রভাব ফেলবে।’

একজন কৌশলবিদ এই পরিস্থিতির তুলনা করেছেন ব্ল্যাকবেরির সঙ্গে। কোম্পানিটি টিকে ছিল। কিন্তু পুরোপুরি বিপর্যস্ত হওয়ার পর তাদের ব্যবসায়িক মডেল ও মূল্যায়ন আর কখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তবে সব বিনিয়োগকারী হতাশ নন। অনেকে এখনো সফটওয়্যার শেয়ারের বিষয়ে আশাবাদী। বিশেষ করে এখন যখন দাম কমে এসেছে।

ভবিষ্যতের বিজয়ী হতে পারে সেই কোম্পানিগুলো, যারা একবার ব্যবহারযোগ্য অ্যাপ নয়, বরং সফটওয়্যার টুলকিট সরবরাহ করে। পুরোনো বড় সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোকে পুরোপুরি বদলে ফেলা সহজ হবে না। পিচবুক একটি প্রতিবেদনে বলেছে, ‘এআইয়ের যুগে কোড সস্তা হতে পারে। কিন্তু প্রেক্ষাপট বা কনটেক্সট খুব দামি। ১০ বছরের গ্রাহক তথ্য এড়িয়ে শুধু এলএলএম দিয়ে এগোনো যায় না।’

আমরা যা লক্ষ করছি, শেয়ারদর অনুমানের ওপর দাঁড়িয়ে। কিন্তু প্রকৃত প্রমাণ হলো বিক্রি। সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধি এরই মধ্যে ধীর হয়ে এসেছে। এটি এমন একটি সূচক, যা ভবিষ্যতে এআইয়ের কারণে বিপর্যস্ত হতে পারে এমন অন্য খাতগুলোর ক্ষেত্রেও নজরে রাখতে হবে।

গ্রাহক ধরে রাখার হার দেখাবে, মানুষ সত্যিই সফটওয়্যার ছেড়ে এআই টুলে চলে যাচ্ছে কি না। ভিস্টাশেয়ার্সের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড ফেদারস্টনহাউ অ্যাক্সিওসকে এসব কথা বলেছেন। ম্যাকফ্যাডিন বলেছেন, প্রায় এক বছরের একটু বেশি সময়ের মধ্যে বাজার এআইয়ের বিস্তৃত শ্রমবাজারের প্রভাব বিভিন্ন শিল্পে মূল্যায়নের মধ্যে আনবে।

সফটওয়্যার কোম্পানির ওপর এআইয়ের প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের যে ভয় তৈরি হয়েছে, তা ধীরে ধীরে অন্য শিল্পেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, যেগুলো এই নতুন প্রযুক্তির কারণে বদলে যেতে পারে। সর্বশেষ কথা হলো, বাজার এআইয়ের যুগে সফটওয়্যার খাতের হিসাব কষে দেখেছে। আর সেই হিসাব তাদের মোটেও পছন্দ হয়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত