
গুগলের মাতৃপ্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সম্প্রসারণে বিনিয়োগের জন্য ৮০ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার অ্যালফাবেট জানিয়েছে, এই শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ এমন এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে ব্যয় করা হবে, যা ‘গ্রাহকদের নজিরবিহীন চাহিদা’ পূরণে প্রয়োজন।
মার্কিন এই প্রযুক্তি জায়ান্ট জানিয়েছে, তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা কিংবদন্তি বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক কনগ্লোমারেট বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রির একটি চুক্তি করেছে। অবশিষ্ট ৭০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হবে দুই উপায়ে। এর মধ্যে ৩০ বিলিয়ন ডলার আসবে আন্ডাররাইটেড অফারিংয়ের মাধ্যমে। এটি এমন এক ধরনের শেয়ার ইস্যু, যেখানে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রথমে শেয়ার কিনে পরে তা বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে। বাকি ৪০ বিলিয়ন ডলার ধাপে ধাপে উন্মুক্ত বাজারে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে তোলা হবে।
এক বিবৃতিতে অ্যালফাবেট বলেছে, ‘প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে এন্টারপ্রাইজ ও ভোক্তা পর্যায়ে তাদের এআই সমাধান ও সেবার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী চাহিদা প্রত্যক্ষ করছে, যা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সরবরাহ সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের মৌলিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ করতে চায়, যাতে সামনে থাকা উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির সুযোগকে কাজে লাগানো যায়।’
ঘোষণার পর শেয়ার বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরের (আফটার-আওয়ার্স) লেনদেনে অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে যায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। সিলিকন ভ্যালির অন্যান্য প্রযুক্তি জায়ান্টদের মতো অ্যালফাবেটও এআই-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের এআই ব্যবসার আওতায় রয়েছে জেমিনি সংশ্লিষ্ট পরিবারের বিভিন্ন পণ্য, ডেটা সেন্টার এবং ক্লাউড সেবা।
সর্বশেষ আয়-সংক্রান্ত কনফারেন্স কলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি বছরে তাদের মূলধনী ব্যয় (ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার বা ক্যাপেক্স) ১৮০ থেকে ১৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া ২০২৭ সালে এই ব্যয় ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ আরও বাড়বে বলেও তারা প্রত্যাশা করছে।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাচের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে অ্যালফাবেট, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ও মেটার মতো মার্কিন প্রযুক্তি দানবগুলো এআই-সম্পর্কিত মূলধনী বিনিয়োগে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে। আর্থিক তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মার্জারমার্কেটের আমেরিকা অঞ্চলের ইকুইটি ক্যাপিটাল মার্কেটস বিভাগের সহপ্রধান ট্রয় হুপার বলেছেন, অ্যালফাবেটের এই অর্থায়ন পরিকল্পনা এআই অবকাঠামো নির্মাণে নেতৃত্বের দৌড় কতটা তীব্র হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট করে।
হুপার বলেন, ‘হাইপারস্কেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কম্পিউটিং সক্ষমতা ভবিষ্যৎ আয়ের সরাসরি চালিকাশক্তি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঋণের বোঝা বাড়ানোর পরিবর্তে ইকুইটির ওপর জোর দিয়ে অ্যালফাবেট স্থায়ী মূলধন সংগ্রহ করছে। এমন সময়ে তারা এই পদক্ষেপ নিচ্ছে, যখন তাদের ব্যালান্স শিট ইতোমধ্যেই রেকর্ড পরিমাণ মূলধনী ব্যয়ের চাপ বহন করছে।’ এখানে তিনি মূলধনী ব্যয়ের সংক্ষিপ্ত রূপ ‘ক্যাপেক্স’ ব্যবহার করেন।
হুপারের মতে, মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো এখন এআই খাতে কম বিনিয়োগকে ‘অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ এবং অতিরিক্ত বিনিয়োগকে ‘শুধু ব্যয়বহুল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তিটা খুবই সহজ। কম বিনিয়োগ করা অস্তিত্বের জন্য ঝুঁকি, আর বেশি বিনিয়োগ করা কেবল ব্যয়বহুল। মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এবং মেটাও একই হিসাব অনুসরণ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৃহৎ পরিসরে মালিকানা থাকার ফলে উন্নত এআই মডেল প্রশিক্ষণের প্রান্তিক ব্যয় কমে যায়। এর মাধ্যমে এমন একটি প্রতিরক্ষামূলক সুবিধা (মোট) তৈরি হয়, যার সঙ্গে ছোট প্রতিযোগীরা সহজে পাল্লা দিতে পারবে না। বার্তাটি স্পষ্ট—এআই যুগের বিজয়ীরা শুধু অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে না, বরং নির্ধারিত হবে কার হাতে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে দক্ষ কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম রয়েছে তার ওপর।’

তার মুখে ব্রণ আছে, ত্বকে ছোট ছোট দাগ। চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ। সারাদিনের পর মেকআপও কিছুটা ফিকে হয়ে যায়। সিঁড়ি ভাঙতে গেলে ঘাম হয়, চুল এলোমেলো হয়ে যায়, পোশাকে ফুটে ওঠে ঘামের দাগ। কখনো কখনো ভুলও করে সে।
৮ ঘণ্টা আগে
শিশুদের ক্ষেত্রে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো যে ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে, সে বিষয়ে জনসাধারণকে যথাযথভাবে সতর্ক করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে কোম্পানিটিকে আরও প্রায় ৫৭ কোটি বা ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে মেটার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে বড় রায়।
৩ দিন আগে
চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবট প্রযুক্তির সমন্বয়ে এমন একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যা শূকরকে মানুষের সহায়তা ছাড়াই সুচবিহীন (নিডল-ফ্রি) পদ্ধতিতে টিকা দিতে সক্ষম। বিশ্বের সবচেয়ে বড় শূকরের মাংস উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে উৎপাদন আরও দক্ষ ও আধুনিক করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ...
৩ দিন আগে
ভারতে গুগলের পরিকল্পিত ডেটাসেন্টার হাব নির্মাণের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। প্রকল্পস্থলে পাহাড়ের ঢাল ইতিমধ্যে খুঁড়ে লাল মাটির বিস্তীর্ণ অংশ উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং সেটিকে ধাপে ধাপে টেরেসের মতো করে সাজানো হয়েছে। তবে পরিবেশবাদীদের ক্রমবর্ধমান বিরোধিতা মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টের ১৫ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে
৩ দিন আগে