
ডালাস ডাউনটাউনে শুক্রবার ঠিক বিকেল ৫টার দিকে হোটেল অ্যাডলফাসের পেছন দরজায় এসে দাঁড়াল আর্জেন্টিনা দলের বহনকারী তিনটি বাস। মেসিদের এক পলক দেখতে ডালাসের এ পাঁচ তারকা হোটেলের পেছনের দিকেও যথারীতি আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ভিড়।
বাস থেকে দলের সবাই যখন একে একে নামতে শুরু করেছেন, হঠাৎ তাঁদের একজনকে দেখে সমর্থকদের বিশাল চিৎকার—লিওনেল মেসি হাতে লাগেজ নিয়ে ধীর পায়ে নামলেন বাস থেকে। হোটেলে ঢোকার আগে পেছনে ফিরে চাইলেন, ভক্ত-সমর্থকদের উদ্দেশে হালকা হাত নাড়ালেন। ভীষণ উৎফুল্ল-উল্লসিত দর্শকেরা কোরাস তুললেন, ‘মেসি-মেসি! আর্জেন্টিনা-আর্জেন্টিনা’। এরপর চিরচেনা সেই ‘ওলে, ওলে, ওলা...’ সুরের গান।
সব ঠিক থাকলে বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে জর্ডান ম্যাচের পর ডালাসে আর আসার কথা নয় আর্জেন্টিনার। নকআউটে বিশ্বকাপের সম্ভাব্য রুট ম্যাপ অনুসরণ করলে তা-ই মনে যাচ্ছে। বিশ্বকাপে ডালাসে মেসিকে শেষবার দেখতে, পুরো আর্জেন্টিনা দলকে কাছ থেকে দেখার এই সুযোগ অনেক আর্জেন্টাইন সমর্থক তাই হাতছাড়া করতে চান না।
জর্ডানের বিপক্ষে ডালাসে গ্রুপপর্বের স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচের আগেই আর্জেন্টিনার নিশ্চিত হয়েছে শেষ ৩২ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের ছোট্ট দ্বীপটা একের পর এক রূপকথা লিখেই চলেছে। মাত্র ৫ লাখ জনসংখ্যার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে। শেষ ৩২ পর্বে আগামী ৩ জুলাই মায়ামিতে কেপ ভার্দেকে পাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে হওয়ায় আর্জেন্টাইন সমর্থকদের চোখে মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনার কাছে শেষ ষোলোয় ওঠা কোনো ব্যাপারই হবে না! ব্রাজিল সমর্থকেরা আবার সেটা নিয়ে ব্যঙ্গ-রসিকতা করতে ছাড়ছে না। খুশি কিংবা ব্যঙ্গ, যেটাই হোক, বিশ্বকাপের সম্ভাব্য রুট ম্যাপ বলছে, আর্জেন্টিনা যদি কেপ ভার্দের বাধা টপকে শেষ ১৬ পর্বে যেতে পারে, আটলান্টায় তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে অস্ট্রেলিয়া কিংবা মিসর। এই দুই দলের কোনোটিই মেসিদের বড় বাধা হওয়ার কথা না। তার মানে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত কোনো অঘটন না ঘটলে আর্জেন্টিনার পথ তুলনামূলক মসৃণ।
মেসিদের কঠিন পরীক্ষা শুরু হতে পারে শেষ আট থেকে। কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া অথবা পর্তুগাল। সুইজারল্যান্ডকেও আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে রাখতে হবে। তবে ফুটবল রোমান্টিকেরা চাইছে কানসাস সিটির এই লড়াই হোক পর্তুগাল ও আর্জেন্টিনার মধ্যে। সেটা হলে দেখা যাবে দুই মহাতারকার মহারণ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহুবার মুখোমুখি হলেও বিশ্বকাপে কখনো দুই সুপারস্টারের সুপার লড়াই দেখা যায়নি। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে (মেসি ৩৯, রোনালদো ৪১) এটিই হয়তো হতে পারে তাঁদের শেষ দ্বৈরথ। সুপার লড়াই উতরে যেতে পারলে আটলান্টায় দেখা যেতে পারে সুপার ক্ল্যাসিকো—সেমিফাইনালে মুখোমুখি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। এ ম্যাচ যদি সত্যি বাস্তবে রূপ নেয়, বাংলাদেশে কী পরিস্থিতি, কী উত্তেজন তৈরি হবে, ভাবুন! ব্রাজিল সেমিফাইনালে না উঠতে পারলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে ইংল্যান্ড।
একে একে নকআউটের বাধা পেরিয়ে আর্জেন্টিনা যদি ফাইনালে উঠতে পারে, নিশ্চিত তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইউরোপের কোনো পরাশক্তি। সে তালিকায় সবার আগে থাকবে ফ্রান্স। নাহলে স্পেন, নেদারল্যান্ডস কিংবা জার্মানি।
আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পথ তো দেখলেনই, ব্রাজিলের পথ কতটা সহজ কিংবা কঠিন? নকআউট পর্বের শুরুতেই হিউস্টনে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ এশিয়ার পরাশক্তি জাপান। ব্রাজিল-জাপানের ফুটবল লড়াইয়ের কথা এলে জিকোর নাম না এনে উপায় নেই। জাপানের ফুটবল উন্নতিতে ব্রাজিলের এই কিংবদন্তির অবদান এতটাই গভীর যে তাঁকে অনেক জাপানিই নিজেদের অন্যতম পথিকৃৎ বলে মনে করেন। তবে জিকোর অবস্থান একেবারে পরিষ্কার, কিক-অফের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি শুধুই ব্রাজিলের।
ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিকো তাই ব্রাজিল দলকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘জাপান এখন অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাদের খেলোয়াড়েরাও এখন ইউরোপে যাচ্ছেন, দলের ২৬ জনের মধ্যে ২৩ জনই ইউরোপে খেলেন। তাঁরা বুন্দেসলিগা, সিরি আ কিংবা প্রিমিয়ার লিগের মতো শীর্ষ লিগে নিয়মিত খেলছেন।’
শেষ ৩২ পর্বে জাপান-বাধা উতরে যাওয়ার পর নিউজার্সিতে শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের সামনে পড়তে পারে আইভরি কোস্ট অথবা নরওয়ে। শেষ ১৬ পার হওয়ার পর মায়ামিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলিয়ানদের প্রতিপক্ষ হতে পারে মেক্সিকো কিংবা ইংল্যান্ড। আটলান্টায় সেমিফাইনালে যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা আছে, আগেই বলা হলো। আর ফাইনালে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ইউরোপের কোনো পরাশক্তি— ফ্রান্স বা স্পেন অথবা নেদারল্যান্ডস কিংবা জার্মানি।
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পথ সহজ-কঠিন যেমনই হোক, ফাইনালে ওঠার সুযোগ শুধু একটি দলেরই থাকছে। আর শিরোপার লড়াইয়ে তাদের চ্যালেঞ্জ জানাবে ইউরোপীয় কোনো দল। উত্তর আমেরিকা কিংবা লাতিন আমেরিকায় বিশ্বকাপ হলে অবশ্য এমন শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের রুট ম্যাপ দেখা গেছে আগেও।

একটা সময় যে আর্জেন্টিনাকে ‘আর জেতে না, আর জেতে না’ বলে ট্রল করা হতো, সেই দলটি রীতিমতো উড়ছে। ২০২১ থেকে শুরু করে চারটি মেজর টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা। ছন্দে থাকার পুরস্কার হিসেবেই ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম সারিতে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে নেমে এরই মধ্যে গ্র
৬ ঘণ্টা আগে
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বই এখনো শুরু হয়নি। ফাইনাল তো বহু দূরের পথ। তবে হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু গিলিয়ানোর চোখ আরও সামনে। ২০৩৪ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র আয়োজন করতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।
৭ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাইয়ের অংশটুকু বাদ দিলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দুর্দান্ত। গত অক্টোবর থেকেই ধরা যাক। টানা চার ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি নিজেদের ইতিহাসে টানা চার টেস্ট বাংলাদেশ জিতেছে এ সময়ই।
৭ ঘণ্টা আগে
বোস্টনে গতকাল ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচ নিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের আগ্রহ ছিল একটু বেশি। কে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে, সেটা দেখতে নয়। বরং আরলিং হালান্ড-কিলিয়ান এমবাপ্পের লড়াই দেখতেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। পুরো ২ ঘণ্টা খেলা দেখেও ভক্ত-সমর্থকেরা হালান্ডকে দেখতে না পেয়ে হতাশই হয়েছেন।
৯ ঘণ্টা আগে