Ajker Patrika

জিম্বাবুয়ে সিরিজকেই কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
জিম্বাবুয়ে সিরিজকেই কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ
টানা চার টেস্ট জয়ী বাংলাদেশ আগামীকাল খেলতে নামবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ছবি: বিসিবি

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাইয়ের অংশটুকু বাদ দিলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দুর্দান্ত। গত অক্টোবর থেকেই ধরা যাক। টানা চার ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি নিজেদের ইতিহাসে টানা চার টেস্ট বাংলাদেশ জিতেছে এ সময়ই।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্ট জয়ের পর এ বছর পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই—টানা চার টেস্ট বাংলাদেশ জিতেছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বেই। সবগুলোই বাংলাদেশ ঘরের মাঠে জিতেছে। আগামীকাল শুরু হওয়া হারারেতে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজের একমাত্র টেস্ট দিয়েই শুরু শান্ত-মাহমুদুল হাসান জয়দের অ্যাওয়ে সিরিজ। জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগামীকাল শুরু হওয়া একমাত্র টেস্টের দল থেকে বাদ পড়েছেন লিটন দাস। তাঁর পরিবর্তে এসেছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। লিটনের পাশাপাশি নেই নাহিদ রানা, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ। স্পিন আক্রমণে থাকছেন তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান। পেস আক্রমণে ইবাদত হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ খালেদ আহমেদের সঙ্গে আছেন কাউন্টিতে কাঁপানো হাসান মাহমুদ। জিম্বাবুয়ে টেস্টের আগে আজ বিসিবির ভিডিও বার্তায় শান্ত বলেন ‘ভালো ক্রিকেট খেলে জিততে চাই। কারণ, এই সিরিজের পর আরও কিছু অ্যাওয়ে সিরিজ আছে। এই সিরিজটা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারছি, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটার-বোলাররা যদি এই সিরিজে ভালো করতে পারে, সামনের সিরিজগুলোর জন্য কাজে আসবে।’

গত বছরের জুনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আচমকা টেস্ট অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়া শান্তর কাঁধেই কয়েক মাস পর টেস্ট দলের নেতৃত্বভার তুলে দেয় বিসিবি। বোর্ডের আস্থার প্রতিদান দারুণভাবে দিচ্ছেন তিনি। টানা চার ম্যাচ জিতে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ম্যাচজয়ী অধিনায়ক বনে গেলেন শান্ত। তাঁর নেতৃত্বেই সবচেয়ে বেশি ৮ ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। তাতে পেছনে পড়ে গেছেন মুশফিকুর রহিম। মুশফিকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জেতে ৭ টেস্ট।

পুনরায় টেস্ট অধিনায়কত্ব ফিরে পাওয়ার পর শান্ত পুরোদস্তুর ‘ক্যাপ্টেন লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’ হয়ে উঠেছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে সেঞ্চুরিও করেছেন। ড্রেসিংরুমে এমন পরিবেশ তৈরি করেছেন, তাতে বাংলাদেশ দল সত্যিকার অর্থেই সুখী পরিবার হিসেবে গড়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সতীর্থদের যে টোটকা দিচ্ছেন, তা দারুণভাবে কাজে লাগছে। মাঠে তাঁর শরীরী ভাষাও অন্য রকম।

প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে তুলনামূলক দুর্বল দল হলেও গত বছর তাদের বিপক্ষেই বাংলাদেশ হেরেছে সিলেটে। সবচেয়ে বড় কথা দীর্ঘ ৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের মাঠে টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। সবশেষ ২০২১ সালে হারারে টেস্ট দিয়েই টেস্ট থেকে অবসর নিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বিদায়ী টেস্টে সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। পরের পাঁচ বছরে দেশের ক্রিকেটে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে। পঞ্চপাণ্ডবদের মধ্যে একমাত্র মুশফিকই আছেন এবার। যিনি মিরপুরে গত বছরের নভেম্বরে নিজের শততম টেস্টে সেঞ্চুরির কীর্তি রয়েছে। সেঞ্চুরি করেছেন এ বছর পাকিস্তানের বিপক্ষেও।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দলে থাকা দুই ক্রিকেটার অমিত হাসান, রবিউল হকের এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি। তাওহীদ হৃদয় টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেতে নিয়মিত খেললেও টেস্টে খেলা হয়নি। আগামীকাল কাদের অভিষেক হয়, সেটা সময়ই বলে দেবে। সে যা-ই হোক, জিম্বাবুয়ে টেস্টে দল দারুণ কিছু করবে বলে আশা শান্তর। বিসিবির ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন,‘যতটুকু সম্ভব, ততটুকু অনুশীলন করতে পেরেছি। গত কয়েকটা সিরিজ আমরা ভালো ক্রিকেট খেলছি। যে টেস্ট ম্যাচটা হবে, আশা করি ভালো কিছু করতে পারব।’

একমাত্র টেস্টের পর তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। ৬, ৯ ও ১১ জুলাই হারারেতে হবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ হবে বুলাওয়েতে। ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই হবে তিনটি টি-টোয়েন্টি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত