Ajker Patrika

ইতালির ফুটবল বাঁচানোর আকুতি

ক্রীড়া ডেস্ক    
ইতালির ফুটবল বাঁচানোর আকুতি
টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপে উঠতে পারল না ইতালি। ছবি: সংগৃহীত

ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক দিনো জফ যথার্থই বলেছেন—‘প্রথমবার (বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়া) ছিল দুর্ভাগ্য, দ্বিতীয়বারও হয়তো তাই। কিন্তু তৃতীয়বার? কোনো অজুহাত চলে না।’

বিশ্বকাপের চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি। তাদের চেয়ে বেশি বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব শুধু ব্রাজিলের (পাঁচবার)। বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দল হয়েও টানা তিনবার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে না থাকাটা ইতালিয়ানদের জন্য মেনে নেওয়াটা খুবই কঠিন। দেশকে ভালোবাসেন, দেশের ফুটবলকে ভালোবাসেন বলেই দিনো জফ রাগে ক্ষোভে ‘লা প্রেস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বললেন, ‘তরুণদের একটা প্রজন্ম তৈরি হয়েছে, যারা ইতালিকে কখনো বিশ্বকাপে খেলতে দেখেনি। টানা তিনটি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে না পারা একটি ক্রীড়া বৈপ্লবিক বিপর্যয়-ই।’

বিশ্বকাপ প্লে-অফের ফাইনালের আগে টেনিসে মায়ামি মাস্টার্স জিতেছেন ইতালিয়ান ইয়ানিক সিনার। যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যাঁ প্রিঁতে টানা পঞ্চমবারের মতো জিপিমোটো জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন আরেক ইতালিয়ান মার্কো বেজেক্কি। এখানেই শেষ নয়, জাপানিজ গ্র্যাঁ পিঁতে আলোচনায় আরেক ইতালিয়ান তরুণ রেসার কিমি আন্তোনেল্লি। ফুটবলে ইতালির ব্যর্থতা ভুলতে দিনে জফ তাই নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে বললেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, এক প্রজন্মের তরুণেরা যারা ইতালিকে কখনোই বিশ্বকাপে দেখেনি, আমি তাদের ফুটবল ছেড়ে সিনার বা আন্তোনেল্লির ফর্মুলা ওয়ান দেখার পরামর্শ দেব।’

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইউরোপ থেকে ১৩টি দল অংশ নিয়েছিল। জুন-জুলাইয়ে শুরু হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপে ইউরোপের আসন বেড়েছে। ১৬টি দল অংশ নিচ্ছে এবার। ইউরোপের পাওয়া বাড়তি এই তিনটি জায়গারও সুবিধা নিতে পারেনি ইতালি! ইতালি কেন পারেনি, কেন পারছে না—প্রশ্ন এখন এটাই। এই প্রশ্নের উত্তর একটাই—বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়ার মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের অভাব ইতালি দলে। একটু ঘুরিয়ে তো এমনটাই বলতে চায়লেন দেশটির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, ‘একসময় আমাদের বিশ্বমানের খেলোয়াড় ছিল, কিন্তু বর্তমান দলটি নিশ্চিতভাবেই সাধারণ মানের।’

মিথ্যা বলেননি দেল পিয়েরো। তাঁর সময়ে ইতালি দলে কত তারকার ছড়াছড়ি—আন্দ্রেয়া পিরলো, ফ্যাবিও ক্যানাভারো, ফ্রান্সেসকো তোত্তি। তাঁদের মতো মানের তারকা কোথায় জেনারো গাত্তুসোর দলে?

ইতালির ফুটবলের নীতিনির্ধারকেরা এটা যত দ্রুত অনুধাবন করতে পারবেন, দেশটির ফুটবলের জন্য সেটা ততই মঙ্গল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নিবিড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই সিরি ‘আ’তে। স্প্যানিশ লা লিগার মতো জনপ্রিয়তাও নেই ইতালিয়ান সিরি ‘আ’র। ইতালির সাবেক অধিনায়ক ফ্রাঙ্কো বারেসি মনে করেন, ‘ম্যাচের কিছু ঘটনা ফল নির্ধারণ করে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ইতালির আদতে এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়াটাই উচিত ছিল না। (এই ব্যাপারটি ইতালির ফুটবলের সঙ্গে জড়িত সবারই গভীরভাবে আত্মোপলব্ধি করা উচিত।’

আপাতত পরের তথা ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছুই নেই ইতালিয়ান সমর্থকদের! মনের ভেতরের পুঞ্জীভূত যন্ত্রণা লাঘব করতে কাঁদতেও পারে তারা। সেই কাজটিই করেছেন ইতালির ফুটবল দলের অধিনায়ক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা! বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার পরের দিন যোগাযোগমাধ্যমে করা এক পোস্টে লিখেছেন, ‘(প্লে-অফ ফাইনাল) ম্যাচ শেষে আমি কেঁদেছি। ইতালিকে তার প্রাপ্য জায়গায় ফিরিয়ে নিতে না পারার হতাশায় আমি কেঁদেছি। আমি কাঁদছি কারণ আমি এবং পুরো আজ্জুরি দল এক বিশাল বিষণ্নতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যে দলের অধিনায়কত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত। আমি জানি আপনারা ভক্তরাও এখন একই রকম অনুভব করছেন।’

এরপরই দোন্নারুম্মা বললেন আসল কথাটা, ‘এখন আমাদের নিজেদের সামলে নিতে হবে, নতুন করে গুছিয়ে উঠতে হবে এবং ইতালিকে আবারও তার আসল জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

ইতালির ফুটবলপ্রধানের পদত্যাগ

আরও এক দফায় বিশ্বকাপ থেকে ইতালির বাদ পড়ার পর দেশটির ফুটবলকে ঢেলে সাজানোর কথা বললেন সে দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি। আর এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার শুরুতে তিনি দেখতে চেয়েছিলেন ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রধান গাব্রিয়েল গ্রাভিনার পদত্যাগ। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার দায়ভার মাথায় নিয়ে গতকালই পদত্যাগ করেছেন গ্রাভিনা।

রোমে বৃহস্পতিবার রোমে এফআইজিসির সদর দপ্তরে এক বৈঠকের পর গ্রাভিনা পদত্যাগের কথা জানান। চারবারের বিশ্বকাপজয়ী ইতালি মঙ্গলবার আবারও প্লে-অফে হেরে যায়; এবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টি শুট-আউটে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে। ইতালিই বিশ্বকাপের একমাত্র শিরোপাজয়ী দেশ, যারা টানা তিনটি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ল। এই ব্যর্থতার পরও ৭২ বছর বয়সী গ্রাভিনা আগামী সপ্তাহের বোর্ড মিটিং পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির চাপে এখনই সরে দাঁড়াতে বাধ্য হলেন তিনি।

ইতালি দলের বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় সমর্থকদের ক্ষোভ ছিল দেশটির ফুটবল কর্তাদের ওপর। বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পর এফআইজিসি ভবন লক্ষ্য করে বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের ডিম ছুড়ে মারার ঘটনাও ঘটেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত