Ajker Patrika

ব্রাজিল জেগেছে, তবে...

রানা আব্বাস, ডালাস থেকে
আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ০১: ০৯
ব্রাজিল জেগেছে, তবে...
ব্রাজিলের মাথিয়াস কুনিয়ার (মাঝে) উদ্‌যাপনে সঙ্গী দুই সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (বাঁয়ে) ও লুকাস পাকেতা। গতকাল হাইতির বিপক্ষে কুনিয়ার জোড়া গোলে ব্রাজিল জিতেছে ৩-০ ব্যবধানে। ছবি: এএফপি

ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সে ক্যামেরা তাক করতেই যেন ব্রাজিলের গৌরবময় ফুটবল ইতিহাসের অসংখ্য স্মৃতি ফিরে এল। কাকার সেলফিতে রোনালদো, রোনালদিনহো আর কাফু—কিংবদন্তিরা তো ছিলেনই। গ্যালারিজুড়ে সমর্থকেরা তৈরি করেছিলেন উৎসবের আবহ। মাঠেও ছন্দে ফিরেছে ব্রাজিল, হেসেছে তারা জয়ের হাসি।

শুরুতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়ার দুর্দান্ত উইং প্লে হাইতির রক্ষণকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দেয়। মাথিয়াস কুনিয়ার জোড়া গোল আর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দৃষ্টিনন্দন এক গোল; তিনটিই এসেছে বিরতির আগে আর তাতে হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে সেলেসাওরা। বিপরীতে প্রথম দল হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজেছে হাইতির।

প্রথম জয়, প্রথম ক্লিন শিট, গ্যালারিতে হলুদ জার্সি পরা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে ফিলাডেলফিয়ায় ব্রাজিলের প্রতিটি ছবি ছিল প্রায় নিখুঁত। তবে কিছু বাস্তবতাও চোখ এড়ায়নি। ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ ছিল ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে তাদের চেয়ে ৮০ ধাপ নিচে থাকা হাইতি। অথচ প্রথমার্ধের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল সেটার পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি। বিরতির পর তারা প্রতিপক্ষের গোলমুখে তেমন শটও রাখতে পারেনি। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে হাইতি সাতটি শট নেয়, যেখানে ব্রাজিলের ছিল মাত্র দুটি। ফিলাডেলফিয়ায় উজ্জ্বল সূচনা করলেও ম্যাচ যত এগিয়েছে, সেলেসাওরা ততই নিস্তেজ হয়েছে।

এই ম্যাচে ব্রাজিল মোট আটটি শট নিয়েছে। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্তত তিন গোল করা কোনো দলের ক্ষেত্রে এটি যৌথভাবে চতুর্থ সর্বনিম্ন শটের রেকর্ড। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল একটু বেশিই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। দল জয়ের পথে থাকলেও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং গুছিয়ে আক্রমণ প্রথমার্ধের চেয়ে তুলনামূলক কম দেখা গেছে। ভুল পাস ছিল এবং বল নিয়ন্ত্রণেও কিছু ঘাটতি ছিল। হাইতির মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচে যতটা গোল-উৎসব হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। এর মধ্যে দুটি গোল বাতিল হয়েছে অফসাইডে। দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পুরোপুরি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল।

ব্রাজিলের আক্রমণকে নিজেদের চেয়ে শ্রেয়তর বিবেচনা করে হাইতি মূলত নিচু ব্লকে রক্ষণ সামলানোর চেষ্টা করেছে। পুঁচকে হাইতির পরিকল্পনা ছিল মূলত গভীর ও জমাট রক্ষণ গড়ে ব্রাজিলকে আটকে রাখা। কিন্তু বাস্তবে তারা দুই উইংয়ে এমন ফাঁকা জায়গা রেখে দেয়, যেটা ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়ার মতো গতিময় উইঙ্গারদের জন্য ছিল আদর্শ সুযোগ। ২২ মিনিটে কুনিয়ার পায়ে লেগে ব্রাজিল প্রথম গোল পায়। ৩৬ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের অসাধারণ পাস থেকে কুনিয়া নিজের দ্বিতীয় গোল করে মেতে ওঠেন তাঁর সার্ফিং উদ্‌যাপনে। এর কিছুক্ষণ পরই রাফিনিয়া মাঠ ছাড়েন চোট পেয়ে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে পাকেতার নিখুঁত পাস ধরে ভিনিসিয়ুস নিজের স্বভাবসুলভ গতিতে রক্ষণ ভেঙে গোল করে ব্রাজিলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

বিরতির পর ব্রাজিল আর ঝুঁকি নেয়নি। বলের দখল ধরে রেখে সময় পার করেছে, প্রয়োজনে আক্রমণে উঠেছে, আবার ধীরগতিতে ম্যাচ শেষ করেছে। হাইতি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।

ম্যাচ জিতলেও ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ধাক্কা রাফিনিয়ার হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট। তাঁর এই চোট ব্রাজিলের শিরোপা অভিযানে বড় প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিপরীতে সুখবরও আছে। স্কটল্যান্ড ম্যাচেই নেইমারের ফেরার কথা জানিয়েছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ব্রাজিলকে আশাবাদী করে তুলেছে ভিনির পাশাপাশি কুনিয়ার জ্বলে ওঠা। প্রথম ম্যাচে ইগর থিয়াগোর তুলনায় ২৭ বছর বয়সী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড উইঙ্গার অনেক বেশি সৃজনশীল ও গতিশীল ফুটবল খেলে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ব্রাজিলের আক্রমণে।

‘সি’ গ্রুপে প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার পর হাইতিকে হারিয়ে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পরের পর্বে ওঠার পথে রয়েছে ব্রাজিল। ব্রাজিলের পরের ম্যাচ ২৪ জুন, মায়ামিতে প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। মায়ামির মতো গরম আবহাওয়ায় ব্রাজিলিয়ানদের মোকাবিলা করা যেকোনো দলের জন্য কঠিন। স্কটিশদের তো সেখানে পাত্তাই পাওয়ার কথা নয়। তবে স্কটল্যান্ডকে কিন্তু বড় ব্যবধানে (১-০) হারাতে পারেনি মরক্কো। ছন্দ ফিরে পেলেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের পর্বে ব্রাজিলকে যেতে হলে তাদের কিছু প্রশ্নের উত্তর পেতেই হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত