Ajker Patrika

ইংল্যান্ডের জয় ছাপিয়ে রেফারিং বিতর্ক

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ইংল্যান্ডের জয় ছাপিয়ে রেফারিং বিতর্ক
ছবি: এএফপি

শেষ বাঁশি বাজার পরও টমাস টুখেলের মুখে তৃপ্তির ছাপ ছিল না। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড, কিন্তু তাঁর চোখে ধরা পড়েছে ভুলে ভরা একটি পারফরম্যান্স। তাতে জুড বেলিংহামের পারফরম্যান্সে অবশ্য আঁচ পড়েনি। জোড়া গোল করে দলকে জিতিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের নকআউটে সব সময় সুন্দর ফুটবল নয়, কখনো কখনো লড়াই করেই জয় ছিনিয়ে আনতে হয়।

মায়ামির প্রচণ্ড গরমে রুদ্ধশ্বাস কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০১৮ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের শেষ চারে উঠেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের দুই গোলই করেছেন বেলিংহাম।

তবে শুরুটা ছিল নরওয়ের। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড বলের দখল রাখলেও আক্রমণে ধার ছিল না। বরং ৪০ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের বাঁ দিক থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শট জড়িয়ে যায় জালে। গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড তা ঠেকাতে পারেননি কোনোভাবেই।

গোলের পর কয়েক মিনিট পুরোপুরি নরওয়ের দখলে ছিল ম্যাচ। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড ও আলেক্সান্দার সরলোথের আক্রমণে বারবার কেঁপে ওঠে ইংল্যান্ডের রক্ষণ।

কিন্তু বড় ম্যাচে বড় খেলোয়াড়েরাই পার্থক্য গড়ে দেন। বিরতির ঠিক আগে মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে একক নৈপুণ্যে নরওয়ের রক্ষণ ভেঙে সমতায় ফেরান বেলিংহাম। সেই গোল ঘিরেই পরে তৈরি হয় বিতর্ক। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণ শুরুর আগে বলটি স্টেডিয়ামের ওপরে ঝুলে থাকা ক্যামেরার তারে লেগে থাকতে পারে। যদিও ফিফা পরে জানায়, বলের সেন্সরের তথ্য অনুযায়ী এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে আবারও নরওয়েই ছিল বেশি আক্রমণাত্মক। একবার বল জালেও পাঠিয়েছিল তারা, কিন্তু ভিএআরের সিদ্ধান্তে গোল বাতিল হয়। পরে ক্রিস্টোফার আয়েরের হেড লাগে ক্রসবারে। একের পর এক সুযোগ নষ্ট না হলে ইংল্যান্ডের বিদায়ও হতে পারত।

৯০ মিনিটে সমতা না ভাঙায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেই নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইলান্ডের এক ভুল বদলে দেয় সবকিছু। মরগান রজার্সের দূরপাল্লার শট তাঁর হাত ফসকে বেরিয়ে এলে ফিরতি বলে জাল খুঁজে নিতে ভুল করেননি বেলিংহাম। সেটিই হয়ে যায় জয়সূচক গোল।

ম্যাচ শেষে নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না ইংল্যান্ড কোচ টুখেল, ‘ফল অবশ্যই দারুণ। কিন্তু পারফরম্যান্সে আমি খুশি নই। আমরা নিজেদের জীবন নিজেরাই কঠিন করেছি। অনেক কারিগরি ভুল করেছি। আজ আমরা ভাগ্যবান ছিলাম।’

কোচের মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে বেলিংহাম বলেন, ‘মাঠে খেলাটা খুব কঠিন ছিল। হালান্ড, ওডেগার্ড, নুসাদের মতো খেলোয়াড়ের বিপক্ষে এমন আবহাওয়ায় খেলা সহজ নয়। সব ম্যাচ সুন্দর ফুটবল খেলে জেতা যায় না। কখনো কখনো লড়াই করেই জিততে হয়। আজ আমরা সেটাই করেছি।’

হারলেও বিতর্কিত সমতাসূচক গোল নিয়ে আক্ষেপ ঝরেছে নরওয়ের কোচ স্টেল সোলবাকেনের কণ্ঠে। তাঁর দাবি, ‘বলটা আমাদের বেঞ্চের সামনেই সোজা নিচে নেমে এসেছিল। সবাই দেখেছে কী হয়েছে। আমার কাছে পরিষ্কার, বল তারে লেগেছিল। আমি বসে কাঁদতে চাই না। ফুটবলে এমন ঘটনা ঘটেই। আমাদের সেটা মেনে নিতে হবে।’

ফিফা অবশ্য ম্যাচের পর জানায়, বলের ভেতরে থাকা সেন্সরের তথ্য অনুযায়ী ক্যামেরার তারে স্পর্শের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস লেখা হয় ফল দিয়ে। আর সেই ইতিহাসে এবারও ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দিলেন জুড বেলিংহাম।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত