Ajker Patrika

আমাদের জয়ের জন্যই সবকিছু নির্ধারিত ছিল, বললেন স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক তোরেস

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ০৬: ৩৭
আমাদের জয়ের জন্যই সবকিছু নির্ধারিত ছিল, বললেন স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক তোরেস
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের পর এভাবেই উদযাপন করেছেন ফেরান তোরেস। ছবি: এএফপি

কর্নার ফ্লাগে সজোরে লাথি মারলেন ফেরান তোরেস। কোনো হতাশায় নয়। বরং গোল করার পর উদযাপনের আতিশয্যেই এমনটা করেছেন। বারবার যে স্পেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে পরাস্ত করতে পারছিলেন না, সেই ডেডলকটা ভাঙার পর তোরেসসহ তাঁর সতীর্থরা উদযাপনে ফেটে পড়লেন।

তবে তোরেস শেষ কবে বিশ্বকাপে গোল পেয়েছিলেন জানেন? ২০২২ বিশ্বকাপে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ নিজের প্রথম ম্যাচে। সেই ম্যাচে করেছিলেন জোড়া গোল। তারপর কোনো গোল না পেলেও অ্যাসিস্ট করেছিলেন। পর্তুগালের বিপক্ষে এবারের বিশ্বকাপে শেষ মুহূর্তে মিকেল মেরিনোকে দিয়ে গোল করিয়ে দলকে তুলেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে। আর আজ ফাইনালে নিউজার্সিতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যে গোলটা দিলেন, সেটাই গড়ে দিল পার্থক্য। ১-০ গোলে জিতে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধার করল স্পেন।

১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয় বলে কথা, তাও করেছেন জয়সূচক গোল। উপরন্তু জয়টা এসেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে। ম্যাচ শেষে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন তোরেস। ২৬ বছর বয়সী স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত এই লক্ষ্যটা শুধু আমার নয়, ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের। ভাগ্যে যা লেখা ছিল, সেটাই হয়েছে—আমাদের জয়ের জন্যই যেন সবকিছু নির্ধারিত ছিল।’

বয়সভিত্তিক দল থেকেই শিরোপা জেতা অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছেন তোরেস। ২০১৭ সালে স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৭ ইউরোর পর ২০১৯ অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরোও জিতেছেন তিনি। ২০১৭ সালে কোনো গোল-অ্যাসিস্ট না করলেও তাঁর উপস্থিতি নজর কেড়েছিল। আর ২০১৯ সালে পর্তুগালের বিপক্ষে জোড়া গোলে জিতেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো। তার আগে সেই ইউরোর সেমিতে ফ্রান্সের বিপক্ষে পেনাল্টিতে জয়সূচক গোলও করেন তিনি।

বয়সভিত্তিক দলে প্রতিভার ছাপ রাখা তোরেস ২০২০ সালে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামেন। ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপে কোস্টারিকার বিপক্ষে ২ গোল করলেও সেই ম্যাচে খেলেন ৫৭ মিনিট। এমনকি দুই বিশ্বকাপ মিলে ১২ ম্যাচ খেললেও কোনোটিতে পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলেননি তিনি। সর্বোচ্চ ৮১ মিনিট খেলেছেন এবারের বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের বিপক্ষে। আর আজ শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে দে লা ফুয়েন্তে ৬২ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালকে তুলে নিয়ে নামিয়েছেন তোরেসকে। নামার পর ১০৭ মিনিটে যে গোলটা তোরেস করেছেন, তা অনবদ্য। নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে পাস রিসিভ করে যে বুলেট গতির শট তোরেস দিয়েছেন, তা ঠেকানোর সাধ্য ছিল না এমি মার্তিনেসের।

১৬ বছর পর স্পেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তোরেসের কণ্ঠে মিলেছে স্বস্তি। জয়সূচক গোল করে ২৬ বছর বয়সী স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড বলেন, ‘এটা আমার জন্য অনেক বড় স্বস্তির বিষয়। পুরো বিশ্বকাপজুড়ে আমাকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু ভাগ্যে যা লেখা থাকে, তাই-ই ঘটে। সৃষ্টিকর্তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তিনি সবসময় আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছেন। আমি সবসময় বলি—সৃষ্টিকর্তা সেই মানুষদেরই দেন, যাঁরা সেগুলোর সবচেয়ে বেশি যোগ্য।’

টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগটা আর কাজে লাগাতে পারল না আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দুচোখ বেয়ে অঝোরে ঝরতে থাকে পানি। লিওনেল স্কালোনিও বাকরুদ্ধ। হতাশ পুরো আর্জেন্টিনা। মঞ্চে যখন স্কালোনির শিষ্যরা রানার্সআপ পদক নিতে উঠলেন, সবারই বিষণ্ণ চেহারা। এদিকে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ী স্পেনের ফুটবলাররা হাসিমুখে মেডেল পরছেন। দীর্ঘ ৩৯ দিনের টুর্নামেন্ট শেষ হলো লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের ট্রফি উদযাপন দিয়ে।

১১৪ মিনিটে ফেরান তোরেস আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমি মার্তিনেসকে একা পেয়ে গোল করেন ফেরান তোরেস। কিন্তু অফসাইড হওয়ায় উদযাপন করতে পারেননি তোরেস। তাতে অবশ্য ম্যাচে খুব একটা পার্থক্য হয়নি। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর স্পেনের নিশ্চিত হয় দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত